খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিজনেস সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিজনেস সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম

যোগফল প্রতিবেদক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাস্তব ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা দিতে ‘সিমল্যাব’ (SimLab) নামে একটি ডিজিটাল বিজনেস সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা।

উদ্যোক্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষাকে শুধু পাঠ্যবই, শ্রেণিকক্ষের লেকচার ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বিজনেস স্কুলে ব্যবহৃত ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অনুকরণের ধারণাকে ঢাবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে ‘সিমল্যাব’ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণিকক্ষে শেখা তত্ত্ব বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যেই সিমল্যাবের যাত্রা শুরু।

যেভাবে কাজ করবে সিমল্যাব

সিমল্যাবে শিক্ষার্থীকে শুধু কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না; বরং একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পণ্যের দাম নির্ধারণ, উৎপাদনের পরিমাণ, বিনিয়োগ, বাজার প্রতিযোগিতা, কর্মী ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে করণীয়—এ ধরনের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকে।

সিদ্ধান্তের ফলাফলও শিক্ষার্থীকে দেখতে হবে। কোনো সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ের আয় বাড়াতে পারে, আবার একই সিদ্ধান্ত ব্যয় বা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বাস্তব ব্যবসায়ের মতোই শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন সুযোগ, সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি হবে।

বিভিন্ন বিষয়ে সিমুলেশনের সুযোগ

সিমল্যাবকে একটি নির্দিষ্ট সিমুলেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ের জন্য সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এতে ব্যবস্থাপনা, বিপণন, অর্থায়ন, মানবসম্পদ, পরিচালন ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক সিমুলেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একক ও দলগতভাবে অংশগ্রহণ

শিক্ষার্থীরা সিমল্যাবে এককভাবে অথবা দলগতভাবে অংশ নিতে পারবে। দলগতভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি কোম্পানি বা টিম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।

এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের আলোচনার পাশাপাশি দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতাও অর্জন করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতা যুক্ত করার পরিকল্পনা

সিমল্যাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অন্যতম অংশ হলো বাংলাদেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতাকে সিমুলেশনের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করা। স্থানীয় বাজার, ব্যবসা পরিচালনার চ্যালেঞ্জ, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সিমুলেশন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তা জানান, প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সিমুলেশনের সংখ্যা, বিষয়বস্তু ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সিমল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু ‘ব্যবস্থাপনা কী’ তা শেখার পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিতে একজন ব্যবস্থাপক হিসেবে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটিও অনুশীলনের সুযোগ পাবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম