খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

ছবিতে প্রতিযোগিতায় অংগ্রহনকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন :

আন্তর্জাতিক ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় উড়োজাহাজ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে ইউআইইউ’র এরিয়াল রোবোটিক্স টিম (ইউএআরটি)।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের কোনো দল হিসেবে পোডিয়ামে স্থান করে নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে ইউআইইউ’র ইউএআরটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, রোবোটিক্স ও ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের এসইউএএস প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব গত ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টালসায় অবস্থিত স্কাইওয়ে রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় দলগুলো অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় প্রতিকূল আবহাওয়া, উচ্চ বাতাসের গতি এবং তাপমাত্রাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কৌশলগত সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তিগত সমন্বয় ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করে ইউআইইউ’র ইউএআরটি এবং অর্জন করে বিশ্বে চতুর্থ স্থান।
৮১ দলের প্রতিযোগিতায় চতুর্থ ইউআইইউ
২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা এসইউএএস প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থীভিত্তিক আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত।
এবারের প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮১টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬৭টি দল চূড়ান্ত পর্বের ফ্লাইং প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। পরবর্তী ধাপে ৬৪টি দল ফ্লাইট রেডিনেস অনুমোদন পায়। শেষ পর্যন্ত ৫৮টি দল প্রতিযোগিতার ফ্লাইট পরিচালনায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার দিন প্রতিকূল আবহাওয়া অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। উচ্চ বাতাসের গতি ও তাপমাত্রাজনিত সমস্যার কারণে ফ্লাইট পরিচালনাকারী দলগুলোর মধ্যে ২১টি দল ক্র্যাশের শিকার হয়।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও ইউআইইউ’র ইউএআরটি দ্রুত কৌশল পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় করে তাদের নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এসইউএএস ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল কর্নেল ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, দ্য ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়।
এসব প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ইউআইইউ’র ইউএআরটির চতুর্থ স্থান অর্জন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় মিশনে বিশেষ সাফল্য
প্রতিযোগিতায় ইউআইইউ’র এরিয়াল রোবোটিক্স টিম সেফটি ইন্সপেকশন ও র‌্যাপিড রেসপন্সে পূর্ণ নম্বর অর্জন করেছে।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় ইউএআরটি একমাত্র দল হিসেবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন সম্পন্ন করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দলটির তৈরি স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেলে রয়েছে একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, আকাশপথের মানচিত্র তৈরি, বস্তুর শনাক্তকরণ, পে-লোড সরবরাহ, বাধা শনাক্ত ও তা এড়িয়ে চলার সক্ষমতা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই প্রযুক্তিগুলোর সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশেও নির্ধারিত মিশন পরিচালনা ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় ইউআইইউ’র দলটি।
দীর্ঘ গবেষণা ও প্রকৌশল উন্নয়নের ফল
ইউএআরটির এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা, নকশা প্রণয়ন, প্রকৌশল উন্নয়ন, নির্মাণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ধারাবাহিক পরিমার্জনের সমন্বিত প্রচেষ্টা।
দলটির সদস্যরা স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল তৈরি ও এর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করেছেন। নেভিগেশন থেকে শুরু করে অবজেক্ট ডিটেকশন, ম্যাপিং, পে-লোড ডেলিভারি এবং বাধা এড়িয়ে চলার মতো জটিল প্রযুক্তি একই প্ল্যাটফর্মে সমন্বয় করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার বাস্তব পরিবেশে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তন ও উচ্চ বাতাসের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের সক্ষমতাও কাজে লাগিয়েছে দলটি।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
ইউআইইউ’র ইউএআরটির এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষ ফ্যাকাল্টি নির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সমন্বিত প্রয়াসে বাংলাদেশও বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে—ইউএআরটির অর্জন তার একটি উদাহরণ।
বিশ্ববিদ্যালয়টির এ সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমসের মতো দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জনের মাধ্যমে ইউআইইউ’র ইউএআরটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেনি, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

যোগফল ডেস্ক 

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম