খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করায় সমালোচনা, বিস্ময় প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করায় সমালোচনা, বিস্ময় প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাপান সফরে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে তারেকের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তাঁকে সঙ্গে নেওয়ায় সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে। অথচ সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সমালোচনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানির হলরুমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপান আয়োজিত এ সভায় প্রবাসীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে নানা প্রশ্ন করেন।

অনুষ্ঠানে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে খুব আশ্চর্য লাগল, আমাদের সঙ্গে তারেককে নিয়ে এসেছি এবার। আমজনতার...। গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওকে নিয়ে দেখলাম অনেক কথা। যে ওর কোনো কন্ট্রিবিউশন নাই, ওকে নিয়ে এসে এখানে সরকারের পয়সা নষ্ট। এই দেশে অনেক সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে কোনো আলাপ দেখি না।’

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সমালোচনাকারীদের জবাব দেন আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। তিনি লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁপাচ্ছে, জিহ্বাটা বের করে। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’

একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নাই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ। জুলাই-উত্তর তারা বয়ান দিল, মুক্তিযুদ্ধের কথা আর বলা যাবে না, আমি বললাম এটাই সবচেয়ে বড় সার্বভৌমত্বের লড়াই ছিল।’

প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান

মতবিনিময় সভায় দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকেই বিদেশের মাটিতে দেশের একেকজন মূল প্রতিনিধি বা অ্যাম্বাসেডর। সরকারের পাশাপাশি আপনারা যদি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ভালো দিকগুলো জাপানি ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হবে।’

জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান সরকার, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। স্বাধীনতার আগে ও পরে বাংলাদেশের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে এসব বিনিয়োগ দ্রুত দেশে আনতে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়লে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জাপানি ভাষা শিক্ষা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিশু যেন ভালো শিক্ষা পায়, চিকিৎসাসেবা পায়, পেট ভরে ভাত পায় এবং বুক ভরে বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিতে পারে—এতে কারও দ্বিমত থাকতে পারে না।’

একটি গণতান্ত্রিক, স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা।

এ ছাড়া জাপান বিএনপির সভাপতি রেজা মীর, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মনি, সহসভাপতি মাসুম জাকির, ব্যবসায়ী নেতা কাজী সারওয়ার হাবিব (এনআরবি-সিআইপি) ও দপ্তর সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়াসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিরা পৌঁছালে প্রবাসীরা করতালির মাধ্যমে তাঁদের স্বাগত জানান। পরে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম