খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

র্গার, স্টেক আর ডায়েট কোক—ট্রাম্পের খাবারের টেবিবালে কী থাকে?

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
র্গার, স্টেক আর ডায়েট কোক—ট্রাম্পের খাবারের টেবিবালে কী থাকে?

সংগৃহীত ছবি

যোগফল প্রতিবেদন:

রাজনীতির মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন আলোচিত, তেমনি তার ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও রয়েছে মানুষের কৌতূহল। বিশেষ করে তার খাবারের অভ্যাস অনেকটা ব্যতিক্রমী। বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, স্টেক, কেক আর দিনে একাধিক ক্যান ডায়েট কোক—ট্রাম্পের খাবারের তালিকায় এসবের উপস্থিতি বহুবার আলোচনায় এসেছে।

সবুজ শাকসবজির প্রতি অনীহা, ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক এবং শরীরচর্চায় কম আগ্রহ—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের খাদ্যাভ্যাসও তার জনপরিচয়ের আলোচিত একটি অংশ। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় আসলে কী থাকে?

বার্গার, ফ্রাইড চিকেন আর ডায়েট কোক

ফাস্টফুডের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ব্যক্তিগত বিমানে তাকে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন খেতে দেখা গেছে। বিভিন্ন ছবিতেও ম্যাকডোনাল্ডসের বার্গার ও ফ্রাই খেতে দেখা যায় তাকে।

ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার উপদেষ্টা কোরি লেওয়ানডোস্কি ও ডেভিড বসি জানিয়েছিলেন, তার ব্যক্তিগত বিমানে নিয়মিত চার ধরনের খাবার মজুত থাকত—ম্যাকডোনাল্ডস, কেনটাকি ফ্রাইড চিকেন, পিৎজা ও ডায়েট কোক। তারা মজা করে এগুলোকে ট্রাম্পের ‘চার প্রধান খাদ্যগোষ্ঠী’ বলেছিলেন।

ডায়েট কোকও ট্রাম্পের খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম পরিচিত অংশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দিনে একাধিক ক্যান ডায়েট কোক পান করতেন, কখনো সংখ্যাটি ১২ ক্যান পর্যন্তও পৌঁছাত। হোয়াইট হাউসে থাকার সময় তার ডেস্কে ডায়েট কোক আনার জন্য বিশেষ বোতাম রাখার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ভালোভাবে রান্না করা স্টেক, সঙ্গে কেচাপ

ফাস্টফুডের পাশাপাশি স্টেকও ট্রাম্পের পছন্দের খাবারগুলোর একটি। তবে তিনি স্টেক ভালোভাবে রান্না করা বা প্রায় পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় খেতে পছন্দ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্টেকের সঙ্গে কেচাপও তার পছন্দ। খাবারে অতিরিক্ত সাজসজ্জা, সবজি বা নানা ধরনের সসের চেয়ে সহজ পরিবেশনই তার বেশি পছন্দ বলে জানা যায়।

ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ট্রাম্পের নামে বিশেষ কিছু খাবারও ছিল। এর মধ্যে ‘মিস্টার ট্রাম্পস ওয়েজ সালাদ’ এবং তার মায়ের মিটলোফের রেসিপি উল্লেখযোগ্য।

মিষ্টির প্রতিও দুর্বলতা

ফাস্টফুডের পাশাপাশি মিষ্টি খাবারের প্রতিও ট্রাম্পের আগ্রহ রয়েছে। হোয়াইট হাউসে তার সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে অতিথিদের এক স্কুপ আইসক্রিম দেওয়া হলেও ট্রাম্পকে দেওয়া হতো দুই স্কুপ।

তার ব্যক্তিগত বিমানেও ওরিও, ভিয়েনা ফিঙ্গারস, আলুর চিপস ও প্রেটজেলের মতো স্ন্যাকস মজুত থাকত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় চকোলেট কেক নিয়েও ট্রাম্পের মন্তব্য ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ওই বৈঠকের সময় ট্রাম্প কেকটির প্রশংসা করেছিলেন।

সবজি কি খান ট্রাম্প?

সবুজ শাকসবজির প্রতি ট্রাম্পের অনাগ্রহের কথা বহুবার সামনে এসেছে। তবে তিনি একেবারেই সবজি খান না—বিষয়টি এমন নয়।

ট্রাম্পের সাবেক হোয়াইট হাউস চিকিৎসক রনি জ্যাকসনের বক্তব্য অনুযায়ী, তার খাদ্যাভ্যাসে সবজি যুক্ত করার জন্য কখনো কখনো ম্যাশড পটেটোর সঙ্গে ফুলকপি মিশিয়ে দেওয়া হতো। এতে তিনি কিছুটা সবজি খেতেন।

তবে শাকসবজির তুলনায় মাংস ও ফাস্টফুডের প্রতিই তার আগ্রহ বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ম্যাকডোনাল্ডসের ড্রাইভ-থ্রুতেও ট্রাম্প

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের ফাস্টফুডপ্রেম আবারও আলোচনায় আসে। পেনসিলভানিয়ায় প্রচারণার সময় তিনি একটি ম্যাকডোনাল্ডসের ড্রাইভ-থ্রুতে যান এবং কিচেন অ্যাপ্রন পরে গ্রাহকদের হাতে ম্যাকনাগেটস ও চিজবার্গার তুলে দেন।

সেখানে ট্রাম্প জানান, ম্যাকডোনাল্ডসের মেনুর প্রায় সব খাবারই তার পছন্দ।

ঘটনাটি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হলেও এর মাধ্যমে ট্রাম্পের ফাস্টফুডপ্রেম আবারও জনসমক্ষে উঠে আসে।

ব্যায়ামের প্রতি কম আগ্রহ

খাবারের পাশাপাশি ট্রাম্পের শরীরচর্চার অভ্যাস নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নিয়মিত ব্যায়ামের প্রতি খুব একটা আগ্রহী নন।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী প্রচারণা, সমাবেশে অংশ নেওয়া এবং চলাফেরাকেই তিনি এক ধরনের শারীরিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখেন।

খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কেন এত আলোচনা?

ট্রাম্পের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো তার পছন্দের খাবারের সঙ্গে প্রচলিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পার্থক্য। ফাস্টফুড, মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ঝোঁক এবং শরীরচর্চায় সীমিত আগ্রহ—এসব বিষয় তার জীবনযাপন নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প নিজে বিভিন্ন সময়ে নিজের কর্মশক্তি ও সুস্বাস্থ্যের কথা বলেছেন। ফলে তার খাবারের অভ্যাস নিয়ে সমর্থক ও সমালোচকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের খাবারের টেবিলও কম আলোচিত নয়। বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, স্টেক, কেক আর ডায়েট কোক—তার খাবারের পছন্দ যেন তার ব্যক্তিত্বের মতোই আলাদা ও আলোচনাপূর্ণ।

 তুলি আক্তার/যোগফল 
 ডেস্ক 

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম