খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

পেঁয়াজ সংরক্ষণে বাকৃবির আইওটি প্রযুক্তি, ক্ষতি কমবে ১৫–১৬ শতাংশ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পেঁয়াজ সংরক্ষণে বাকৃবির আইওটি প্রযুক্তি, ক্ষতি কমবে ১৫–১৬ শতাংশ

যোগফল প্রতিবেদক:

দেশে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতিবছরই পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। সংরক্ষণকালীন পচন, ওজন কমে যাওয়া, অঙ্কুরোদগম ও গুণগত মানের অবনতির কারণে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। তাদের দাবি, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফলে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে পেঁয়াজের সংরক্ষণকালীন ক্ষতি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে গবেষণাটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাকৃবির আইসিটি সেলের পরিচালক ও কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী। গবেষক দলে রয়েছেন সহকারী গবেষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নাফিস সাদিক সায়েম এবং স্নাতক শিক্ষার্থী রাহাত মিয়া।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে ২০২৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া গবেষণাটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক ও ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যায়ে রয়েছে।

যেভাবে কাজ করবে প্রযুক্তি

গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘসময় পেঁয়াজ ভালো রাখতে সংরক্ষণ কক্ষের তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সংরক্ষণ কক্ষের পরিবেশ পর্যবেক্ষণে সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে।

সেন্সরের মাধ্যমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংরক্ষণ পরিবেশে প্রয়োজনের তুলনায় পরিবর্তন দেখা দিলে সে অনুযায়ী বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

প্রযুক্তিটির নকশায় এয়ারফ্লো ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যানের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে সংরক্ষণ কক্ষে পেঁয়াজের জন্য উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে পচনসহ অন্যান্য ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পেঁয়াজের মান

গবেষণায় শুধু পেঁয়াজ কতদিন সংরক্ষণ করা যাচ্ছে, তা নয়; সংরক্ষণকালীন সময়ে ওজন হ্রাস, পচন ও গুণগত মানের পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সংরক্ষণ পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ ও তুলনা করছেন গবেষকরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, তুলনামূলকভাবে কম খরচে এমন একটি আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

তিনি বলেন, পরিবেশগত পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পচন, ওজন হ্রাসসহ সংরক্ষণকালীন বিভিন্ন ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

উৎপাদন বেশি হলেও আমদানি

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৫ এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪২ দশমিক ৬৪ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। বিপরীতে বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টন। অর্থাৎ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি।

এরপরও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৮৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

অধ্যাপক রোস্তম আলী বলেন, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় কৃষককে অনেক সময় ফসল তোলার পরপরই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হয়। ফলে মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে বছরজুড়ে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের পরিকল্পনা

অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, এ গবেষণার উদ্দেশ্য ফলন বাড়ানো নয়; বরং উৎপাদনের পরবর্তী অপচয় কমিয়ে কৃষকের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, গবেষণাটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পরীক্ষামূলক ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা আরও উন্নত করার কাজ চলছে। পরবর্তী ধাপে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তব সংরক্ষণ পরিবেশে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

ফলাফল সন্তোষজনক হলে কৃষক ও বাণিজ্যিক সংরক্ষণ কেন্দ্রে পাইলট পর্যায়ে প্রযুক্তিটির প্রয়োগ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী একটি পাইলট মডেল তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করছেন গবেষকরা।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

যোগফল প্রতিবেদক: 

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও তার পালিত মেয়ে ইতি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিহত খালেদা আক্তারের সঙ্গে তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলার একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম তুতুকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পরপরই অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে প্রথমে হনুফা বেগম ও ইতি গ্রেপ্তার হন।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে চলন্ত একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম