খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে TVET-কে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে TVET-কে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

যোগফল প্রতিবেদক:

দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে (TVET) জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিকল্প বা গৌণ শিক্ষা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে TVET-কে শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর সোবহানবাগের ড্যাফোডিল প্লাজায় ৭১ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটস ফোরামের আয়োজনে এবং ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব ও কর্মসংস্থান বিষয়ক) সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

সংলাপে বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ASSET প্রকল্প, বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জনমিতিক সুবিধাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের তাগিদ

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। তবে শুধু কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি হলেই জনমিতিক লভ্যাংশ নিশ্চিত হবে না। শিল্পখাত এবং দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রয়োজন।

এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানযোগ্যতা, উৎপাদনশীলতা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলের আহ্বান

সংলাপে TVET প্রসারের অন্যতম বাধা হিসেবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি উঠে আসে। শ্রমবাজারে কারিগরি দক্ষতার চাহিদা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এখনো প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে বেশি মর্যাদাপূর্ণ মনে করেন।

কারিগরি পেশার সামাজিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি সফল TVET গ্র্যাজুয়েট, দক্ষ টেকনিশিয়ান, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরে তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ

কারিগরি শিক্ষাকে শ্রমবাজারের উপযোগী করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, দক্ষতার মান নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে নিয়োগকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষানবিশি, ইন্টার্নশিপ ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে TVET-এর পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়।

সনদ নয়, দক্ষতাকেই সাফল্যের মাপকাঠি করার আহ্বান

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শুধু সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা অর্জনকে TVET ব্যবস্থার সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা অর্থবহ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন কি না, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন কি না, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছেন কি না এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছেন কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ জন্য প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ এবং ব্যবহারিক দক্ষতার মূল্যায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়টিও সংলাপে গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও তাদের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম দক্ষ ও কম আয়ের পেশায় কাজ করছেন।

শ্রম রপ্তানিকারক দেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে বিদেশি ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত সনদ অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে যে দেশে কর্মী পাঠানো হবে, সেই দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংলাপ থেকে TVET-কে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় প্রতিষ্ঠা, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, শিক্ষানবিশি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সনদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চ-মূল্যের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়নের সুপারিশ উঠে আসে।

বক্তারা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ, কর্মসংস্থানযোগ্য এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সোনালী ব্যাংকের বাড়তি দুই বোনাসের ১১৬ কোটি টাকা ফেরত আসেনি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সোনালী ব্যাংকের বাড়তি দুই বোনাসের ১১৬ কোটি টাকা ফেরত আসেনি


নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রচলিত নীতিমালায় সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অতিরিক্ত দুটি বোনাস দেওয়া হয়। দেড় বছর আগে ওই বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো তা আদায় হয়নি। এর পরিমাণ প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর ৭ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আফজাল করিমকে অবরুদ্ধ করেন ব্যাংকটির একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের দাবি ছিল, বছরে পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দিতে হবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটির বেশি বোনাস দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

বোনাসের দাবিতে আন্দোলন চলতে থাকলে ২০ আগস্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী। এর আগে তাঁর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ চাপের মুখে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে পাঁচটি উৎসাহ বোনাস অনুমোদন করে। পরে এ নিয়ে নিরীক্ষা আপত্তি ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ে সম্মতি দেয়নি।

এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। ২৮ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের আগপর্যন্ত তিনিও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

বাড়তি দুই বোনাস ফেরতের নির্দেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়ে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে দেওয়া বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ ফেরত আনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দেড় বছর পরও ওই অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ফেরত নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৩ সালের নীতিমালা এবং ২০২৫ সালের নীতিমালা—কোনোটিতেই সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঁচটি বোনাস নেওয়ার সুযোগ ছিল না। অথচ ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য তাঁরা পাঁচটি উৎসাহ বোনাস নিয়েছেন।

বোনাস দেওয়ার পর সোনালী ব্যাংক তা অনুমোদনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আবেদন করে এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের জন্য ক্ষমাও চায়। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নিজেদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে পাঁচটি বোনাস অনুমোদন করেনি।

নতুন করে গত ১১ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেওয়ার বিষয়ে অসম্মতি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে দেওয়া বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২১ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী পেয়েছেন বোনাস

সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটিতে বোনাস নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। নিয়মিত তিনটির পাশাপাশি তাঁরা বাড়তি দুটি উৎসাহ বোনাসও নিয়েছেন।

প্রতিটি বোনাসের অর্থ মূলত এক মাসের মূল বেতনের সমান। ব্যাংকটির একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, একটি বোনাসের পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও শওকত আলী খান বলেন, পাঁচ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগেই নেওয়া হয়েছিল। টাকা পরিশোধ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে এবং নতুন করে আবারও অনুরোধ জানানো হবে।

কী বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সোনালী ব্যাংকের এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে দেওয়া চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ব্যাংকটি ২০২৩ সালের জন্য পাঁচটি উৎসাহ বোনাস বাবদ ২৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জন্য ৪০০ কোটি টাকা সংস্থান রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব উৎসাহ বোনাস নীতিমালা অনুযায়ীও তিনটির বেশি বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। এরপরও ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৮৭০তম পর্ষদ বৈঠকে পাঁচটি বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠি অনুযায়ী, ওই অনুমোদন ছিল শর্তসাপেক্ষ। ভবিষ্যতে কোনো নিরীক্ষা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আপত্তি উঠলে বাড়তি অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়।

নতুন নিয়মে পাঁচ সূচকে বোনাস নির্ধারণ

শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, রাষ্ট্রমালিকানাধীনসহ অন্যান্য সরকারি ব্যাংকেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস দেওয়ার প্রবণতা ছিল। এ কারণে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করে।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, তফসিলি বিশেষায়িত ব্যাংক, অ-তফসিলি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য। এতে উৎসাহ বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সূচকে মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সোনালী, অগ্রণীসহ ছয় রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বোনাস দেওয়ার আগে পাঁচটি সূচক মূল্যায়ন করতে হবে। এগুলো হলো—চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হার, আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধির হার, ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ বৃদ্ধির হার, শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে নগদ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আদায়ের হার এবং অবলোপনকৃত ঋণ থেকে নগদ আদায়ের হার।

এর মধ্যে চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট নম্বরের ভিত্তিতে বোনাসের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত মানদণ্ডে বেশি নম্বর পাওয়া ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ তিনটি উৎসাহ বোনাস পাবেন। নম্বর কম হলে বোনাসের সংখ্যাও কমবে। আবার নম্বর খুব কম হলে কোনো বোনাসও দেওয়া হবে না।

নতুন নির্দেশনায় বোনাসের সংখ্যা নির্ধারণকে ব্যাংকের আর্থিক ফলাফল ও ঋণ আদায়ের সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি, বঙ্গবন্ধুর একক ছবি বাদ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি, বঙ্গবন্ধুর একক ছবি বাদ

আব্দুল মালেক + ছবি: ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইট


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা সংস্কারের পর সেখানে নতুন করে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি একক ছবি। সংগ্রহশালায় যুক্ত হয়েছে ১৯৬৯ সালের সংঘর্ষে নিহত ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবিও।

সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের একটি ছবি এবং মৃত্যুর পরের একটি ছবি রাখা হয়েছে। তাঁর ছবির নিচে ডাকসুর দেওয়া ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা সেমিনারে বক্তব্য দেওয়া শেষে ফেরার পথে বিরোধীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।’

১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী সামষ্টিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাঁদের ইতিহাস সংগ্রহশালায় তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা ইতিহাসের প্রতি দায়।’

কে ছিলেন আব্দুল মালেক

ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মালেকের বাড়ি বগুড়ায়। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন এবং ফজলুল হক মুসলিম হলে থাকতেন।

ইসলামী ছাত্রসংঘ ছিল তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের অনুগত ছাত্রসংগঠন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতায় সংগঠনটির ভূমিকা ছিল। পরবর্তী সময়ে আলবদর বাহিনী গঠনে ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

যে সংঘর্ষে আহত হন মালেক

১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকারের প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। এয়ার মার্শাল এম নূর খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি ঘিরে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

মোহাম্মদ হাননানের ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা সভায় একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা সভাস্থলে ঢুকে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরাও এতে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা শহর ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি আব্দুল মালেক, আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ইদ্রিস আলী এবং ছাত্রলীগ নেতা নাসিরুল ইসলাম বাচ্চু ছিলেন।

দৈনিক আজাদের ১৩ আগস্ট ১৯৬৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে মালেকের অবস্থা সবচেয়ে গুরুতর ছিল। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ২২ বছর।

তবে সমসাময়িক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে আব্দুল মালেককে কে বা কারা প্রাণঘাতী আঘাত করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পর বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

যে শিক্ষানীতি ঘিরে সংঘর্ষ

আব্দুল মালেকের মৃত্যুর ঘটনাটি বুঝতে হলে ১৯৬৯ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকাতে হয়। সে সময় পাকিস্তানে আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন ও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন একপর্যায়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

একই সময়ে পাকিস্তান সরকার শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এয়ার মার্শাল নূর খানের নেতৃত্বে নতুন শিক্ষানীতির প্রস্তাব তৈরি হয়। ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ে ‘প্রপোজালস ফর আ নিউ এডুকেশনাল পলিসি’ নামে প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হয়।

প্রস্তাবটি ছিল জনমত নেওয়ার জন্য প্রকাশিত খসড়া। পরে সংশোধিত শিক্ষানীতি ১৯৭০ সালের মার্চে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে তা কার্যকর করার সুযোগ হয়নি।

নূর খান প্রস্তাবে কী ছিল

নূর খান প্রস্তাবে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষায় গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের মতো বিষয় ছিল।

তবে শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে প্রস্তাবের অংশটি সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সেখানে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামের ধারণা ও নীতির ভিত্তিতে পরিচালনার কথা বলা হয়। পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইসলামিয়াত বা দ্বীনিয়াত বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। অমুসলিম শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষার কথাও বলা হয়েছিল।

এ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ইসলামী ছাত্রসংঘ ও ইসলামপন্থী ছাত্রগোষ্ঠীগুলো শিক্ষায় ইসলামি মূল্যবোধের গুরুত্বের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে তৎকালীন ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ এবং বাম ও প্রগতিশীল ছাত্রগোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে বিজ্ঞানভিত্তিক, গণমুখী শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দেয়।

ফলে শিক্ষানীতি নিয়ে বিতর্ক শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে ধর্ম, ভাষা, জাতীয় পরিচয়, পাকিস্তানি রাষ্ট্রচিন্তা ও বাঙালির রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নও যুক্ত হয়ে পড়ে।

স্বাধীনতার পর আব্দুল মালেকের স্মরণ

আব্দুল মালেকের মৃত্যুর পর ইসলামী ছাত্রসংঘ তাঁকে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে আন্দোলনের শহীদ হিসেবে স্মরণ করতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরও তাঁর স্মৃতিকে নিজেদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরে। সংগঠনটি ১৫ আগস্টকে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান আব্দুল মালেকের মৃত্যুতে শোকবাণী দিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একটি শোকসভা হয়েছিল বলে ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্ক

ডাকসুর সংগ্রহশালা সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়। এর অংশ হিসেবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে।

সংগ্রহশালা সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ডাকসুর নেতাদের বক্তব্য, জিন্নাহকে গৌরবান্বিত করার উদ্দেশ্যে তাঁর ছবি রাখা হয়নি; বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তুলে ধরতেই এসব ছবি রাখা হয়েছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

এরই মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান। পরে ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ডাকসুর সংগ্রহশালায় নতুন করে যুক্ত হওয়া এসব ছবি ও তথ্যকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ১৯৬৯ সালের ছাত্ররাজনীতি এবং স্বাধীনতার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে নিহত ১৬, ধ্বংসস্তূপে আটকা প্রায় ১০০

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে নিহত ১৬, ধ্বংসস্তূপে আটকা প্রায় ১০০

ধসে পড়া ভবনটিতে উদ্ধারকাজ চলছে। ফিলিস্তিনের গাজা নগরী, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 

ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১০০ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার ভোরে গাজা নগরীর পশ্চিমাঞ্চলে ভবনটি ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ভবনটিতে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল। ভবনটি এর আগে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

ভবন ধসের পরপরই গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতির সংকটে উদ্ধারকর্মীদের হাতে-হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের কান্না ও সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভবনটিতে অন্তত কয়েকটি বাস্তুচ্যুত পরিবার বসবাস করছিল। আশপাশেও বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু ছিল। ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেগুলোরও ক্ষতি হয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষ ভবন ধসের জন্য ইসরায়েলি হামলায় আগে থেকে তৈরি হওয়া কাঠামোগত ক্ষতিকে দায়ী করেছে। তবে ভবন ধসের তাৎক্ষণিক কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে।

গাজায় যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও আশ্রয়ের সংকটে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের কেউ কেউ সেসব ভবনে বসবাস করছেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও প্রায় ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।