খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে TVET-কে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে TVET-কে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

যোগফল প্রতিবেদক:

দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে (TVET) জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিকল্প বা গৌণ শিক্ষা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে TVET-কে শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর সোবহানবাগের ড্যাফোডিল প্লাজায় ৭১ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটস ফোরামের আয়োজনে এবং ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব ও কর্মসংস্থান বিষয়ক) সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

সংলাপে বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ASSET প্রকল্প, বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জনমিতিক সুবিধাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের তাগিদ

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। তবে শুধু কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি হলেই জনমিতিক লভ্যাংশ নিশ্চিত হবে না। শিল্পখাত এবং দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রয়োজন।

এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানযোগ্যতা, উৎপাদনশীলতা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলের আহ্বান

সংলাপে TVET প্রসারের অন্যতম বাধা হিসেবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি উঠে আসে। শ্রমবাজারে কারিগরি দক্ষতার চাহিদা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এখনো প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে বেশি মর্যাদাপূর্ণ মনে করেন।

কারিগরি পেশার সামাজিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি সফল TVET গ্র্যাজুয়েট, দক্ষ টেকনিশিয়ান, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরে তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ

কারিগরি শিক্ষাকে শ্রমবাজারের উপযোগী করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, দক্ষতার মান নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে নিয়োগকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষানবিশি, ইন্টার্নশিপ ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে TVET-এর পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়।

সনদ নয়, দক্ষতাকেই সাফল্যের মাপকাঠি করার আহ্বান

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শুধু সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা অর্জনকে TVET ব্যবস্থার সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা অর্থবহ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন কি না, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন কি না, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছেন কি না এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছেন কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ জন্য প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ এবং ব্যবহারিক দক্ষতার মূল্যায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়টিও সংলাপে গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও তাদের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম দক্ষ ও কম আয়ের পেশায় কাজ করছেন।

শ্রম রপ্তানিকারক দেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে বিদেশি ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত সনদ অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে যে দেশে কর্মী পাঠানো হবে, সেই দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংলাপ থেকে TVET-কে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় প্রতিষ্ঠা, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, শিক্ষানবিশি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সনদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চ-মূল্যের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়নের সুপারিশ উঠে আসে।

বক্তারা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ, কর্মসংস্থানযোগ্য এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন বছর দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আবারও ভারতের মাটিতে ফিরছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম। ২০২৭ সালের আইপিএলের মিনি-নিলাম ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

তবে নিলামের তারিখ ও নির্দিষ্ট ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভারতে সর্বশেষ আইপিএলের নিলাম হয়েছিল ২০২৩ সালে কোচিতে। এরপর ২০২৪ থেকে পরবর্তী তিনটি নিলাম ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলাম হয়েছে দুবাই, জেদ্দা ও আবুধাবিতে। এবার ২০২৭ আসরের মিনি-নিলাম আবারও ভারতের মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

নিলাম দেশের বাইরে আয়োজনের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় প্রতিনিধি দলের যাতায়াত, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। এতে সময় ও আয়োজন—দুই দিক থেকেই জটিলতা বাড়ে বলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই ভারতের কোনো একটি শহরে নিলাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কোন শহর নিলামের আয়োজক হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভেন্যু চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিসিআই। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে বিয়ের মৌসুম থাকায় এ সময়ে পাঁচ তারকা হোটেলে পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া নিয়েও বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

২০২৭ সালের নিলামটি মিনি-নিলাম হওয়ায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এটি আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রিকবাজ। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মেগা নিলাম আবার ভারতের বাইরে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আইপিএলের বহুল আলোচিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম নিয়েও মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি গভর্নিং কাউন্সিল। এ বিষয়ে আগামী মাসে আবারও বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্টরা। তখন নিয়মটি বহাল রাখা হবে নাকি বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক