খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। সব মিলিয়ে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জনে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে আরও ১ হাজার ২৩৯ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোকে হামে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়

দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ


আজকাল অনেক দম্পতিই সন্তান নিতে দ্বিধায় ভোগেন। স্বাভাবিক সন্তান হবে তো! এমন আশঙ্কার কারণও অবশ্য আছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জন্মগত ত্রুটি মানে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই শিশুর গঠনগত কোনো শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। অনেক সময় জন্মগত ত্রুটির কারণে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। নবজাতক শিশুমৃত্যুর প্রায় ৩০-৫০ শতাংশের জন্যই দায়ী জন্মগত ত্রুটি।

জন্মগত ত্রুটির ধরন

শারীরিক জন্মত্রুটি নিয়ে জন্মানো অর্ধেক শিশুর একাধিক অঙ্গের ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ করা যায়। পরিমাণ অনুযায়ী এই ধরনের ত্রুটি সাধারণত দুই রকম।

মাইনর ত্রুটি: এগুলো শিশুর জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ নয়। যেমন অতিরিক্ত স্তনবৃন্ত, বাড়তি আঙুল ইত্যাদি।

মেজর ত্রুটি: এগুলো শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেমন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, হার্টে ছিদ্র, পায়ুপথ না থাকা, স্পাইনা বায়ফিডা (মেরুদণ্ডের জন্মত্রুটি)।

জন্মগত ত্রুটির কারণ কী

শিশুর শারীরিক জন্মত্রুটির ১০ শতাংশ ঘটে জেনেটিক কারণে। ১৮ শতাংশ জন্মত্রুটির কোনো কারণ জানা যায় না। তবে যেসব বিষয় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিবেচনা করা হয়, তা হলো—

  • বংশগত কারণ।

  • অপুষ্টিজনিত কারণ।

  • রক্ত সম্পর্কীয় বিয়ে।

  • গর্ভকালীন সময়ে ধূমপান (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) ও মাদকাসক্তি, রুবেলা, টক্সো, এইডস ও অন্যান্য সংক্রমণ এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত থাইরডের সমস্যা।

  • গর্ভকালে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া মা যদি বিভিন্ন টনিক নেন, কবিরাজি, গাছগাছালির চিকিত্সা ও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করেন, তেজষ্ক্রিয়তার সংস্পর্শে (যেমন এক্স–রে রেডিয়েশন) আসেন অথবা দূষিত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন, তাহলে গর্ভের শিশুর ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

    • সদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর প্রায় ৮ জনের হার্টে জন্মত্রুটি থাকতে পারে। বিশেষত, অপরিণত (জন্মকালীন ওজন ২ হাজার ৫০০ গ্রামের নিচে) বা অকালজাত (গর্ভকাল ৩৭ সপ্তাহের কম) নবজাতকে এই সমস্যা দেখা যায় বেশি।

    • হার্টের জন্মগত রোগ মূলত দুই রকম—সায়ানোটিক ও এসায়ানোটিক। সায়ানোটিক গ্রুপের মধ্যে বেশি দেখা যায় ‘ফেলটস টেট্রালজি’। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে এদের শরীর নীল হয়ে যায়। অন্যদিকে এসায়ানোটিক কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজে শিশুর শরীরে নীলবর্ণ ভাব থাকে না। শিশু ঘনঘন সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকে। এসব শিশু বুকের দুধ একনাগাড়ে টানতে পারে না। একটু টেনেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু পেট ভরে না তাই অল্প সময়ের মধ্যেই জেগে উঠে কাঁদতে থাকে। অত্যধিক ঘামে। শিশু ঠিকমতো বাড়ে না। বারবার অসুস্থ হয়। বেশির ভাগ হার্টের জন্মগত ত্রুটি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সায় সারিয়ে তোলা সম্ভব।

    • বংশগত, জিনের গঠনগত ত্রুটি ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা কিছু রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যেমন ডাউন ও টারনার সিনড্রোম। গর্ভাবস্থায় জার্মান মিজলস (রুবেলা) সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, লুপাস রোগ, ক্ষতিকর ওষুধ সেবন (লিথিয়াম, ইথানল, থালিডোমাইড ও খিঁচুনি বন্ধের ওষুধ) করলে এসব সমস্যা হতে পারে।

    • কাটা ঠোঁট ও কাটা তালুও খুবই পরিচিত একটি জন্মগত ত্রুটি। সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করে এই ত্রুটি সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায়। শিশুর ৩ মাস বয়সের দিকে শিশুসার্জনের মাধ্যমে কাটা ঠোঁট সারিয়ে তোলা যায়। আর ৯-১২ মাস বয়সে শিশু কথা বলতে শেখার আগেই কাটা তালু চিকিত্সা করে ফেলতে হয়।

    • পায়ুপথ না হওয়ার ত্রুটি নিয়েও জন্মায় অনেক শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর পায়ুপথ পুরোপুরি তৈরি থাকে না। তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র শিশুর পায়ুপথে রেখে তাপ নির্ণয় করতে গেলে ও শিশু জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রথম পায়খানা না হয়ে থাকে, তবে শিশুর এই জন্মত্রুটি আছে কি না, সন্দেহ করা হয়। সার্জাারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

    • হাইপোস্পেডিয়াস সমস্যা নিয়েও জন্মায় শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর মূত্রনালির মুখ স্বাভাবিক স্থানে লিঙ্গের অগ্রভাগে না থেকে লিঙ্গের নিচের দিকে মাঝামাঝি দেখতে পাওয়া যায়। অবহেলা না করে অতিসত্বর শিশুসার্জন দেখানো উচিত।

      • প্রতিটি গর্ভধারণ পরিকল্পিত হওয়া উচিত। এতে অনাগত সন্তানেরও জটিলতা কম হয়। কিছু নিয়ম মেনে শিশুর জন্মগত ত্রুটির সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। এই যেমন

      • গর্ভধারণের আগে মায়ের রুটিন চেক আপ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো জেনেটিক রোগে আক্রান্ত কি না জেনে নিতে পারলে অনাগত সন্তানের সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।

      • মা যদি আগে থেকে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোনো বাতরোগ বা মৃগীরোগের) তবে আগেভাগে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

      • নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়েও অনেক শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ।

      • মায়ের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকা অবস্থায় সন্তান নিলে এবং দুই সন্তানের মধ্যে ন্যূনতম ২ বছর বিরতি থাকলে অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।

      • গর্ভধারণের ১ মাস আগে থেকে গর্ভকালীন প্রথম ২ মাস পর্যন্ত মা দৈনিক ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন করলে বেশ কিছু ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।

      • গর্ভকালীন অপুষ্টি রোধ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি মুক্ত থাকলেও অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।

      • গর্ভপূর্ব ও গর্ভকালীন নিয়মিত শারীরিক চেকআপ খুব জরুরি।

      • আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গর্ভকালীন সময় কোনো ক্রমেই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। কারণ, অনেক ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ। একইভাবে এক্স রে, সিটি স্ক্যানের মতো যেসব পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহৃত হয়, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সেসব পরীক্ষা করা যাবে না। অন্য যেকোনো কারণেই চিকিত্সকের কাছে যাওয়া হোক না কেন, তাকে জানাতে হবে যে রোগী অন্তঃসত্ত্বা। এমনকি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও জানাতে হবে। এতে সব দিক বুঝে চিকিত্সক প্রেসক্রাইব করতে পারেন।

        আজকাল আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নানা রকম পরীক্ষা করে শিশুর অস্বাভাবিকতা আছে কি না, আগে থেকেই জানা যায়। গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহের পর (১৮-২২ সপ্তাহ) জন্মগত ত্রুটি আছে কি না, জানার জন্য একটি বিশেষ ধরনের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। একে বলে অ্যানোম্যালি স্ক্যান। প্রয়োজন মনে হলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে গর্ভকালে মায়ের রক্তে আলফা ফিটো প্রোটিনের মান, অ্যামনিওসেনটোসিস বা কোরিওভিলাস বায়োপসি ইত্যাদি করা যায়।

        পরিবারের সচেতনতা অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি এড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রতিটি শিশু সুস্থভাবে জন্ম দিতে তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই গর্ভকালে সঠিক সিদ্ধান্ত জরুরি।

        লেখক: সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়

দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ


আজকাল অনেক দম্পতিই সন্তান নিতে দ্বিধায় ভোগেন। স্বাভাবিক সন্তান হবে তো! এমন আশঙ্কার কারণও অবশ্য আছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জন্মগত ত্রুটি মানে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই শিশুর গঠনগত কোনো শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। অনেক সময় জন্মগত ত্রুটির কারণে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। নবজাতক শিশুমৃত্যুর প্রায় ৩০-৫০ শতাংশের জন্যই দায়ী জন্মগত ত্রুটি।

জন্মগত ত্রুটির ধরন

শারীরিক জন্মত্রুটি নিয়ে জন্মানো অর্ধেক শিশুর একাধিক অঙ্গের ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ করা যায়। পরিমাণ অনুযায়ী এই ধরনের ত্রুটি সাধারণত দুই রকম।

মাইনর ত্রুটি: এগুলো শিশুর জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ নয়। যেমন অতিরিক্ত স্তনবৃন্ত, বাড়তি আঙুল ইত্যাদি।

মেজর ত্রুটি: এগুলো শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেমন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, হার্টে ছিদ্র, পায়ুপথ না থাকা, স্পাইনা বায়ফিডা (মেরুদণ্ডের জন্মত্রুটি)।

জন্মগত ত্রুটির কারণ কী

শিশুর শারীরিক জন্মত্রুটির ১০ শতাংশ ঘটে জেনেটিক কারণে। ১৮ শতাংশ জন্মত্রুটির কোনো কারণ জানা যায় না। তবে যেসব বিষয় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিবেচনা করা হয়, তা হলো—

  • বংশগত কারণ।

  • অপুষ্টিজনিত কারণ।

  • রক্ত সম্পর্কীয় বিয়ে।

  • গর্ভকালীন সময়ে ধূমপান (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) ও মাদকাসক্তি, রুবেলা, টক্সো, এইডস ও অন্যান্য সংক্রমণ এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত থাইরডের সমস্যা।

  • গর্ভকালে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া মা যদি বিভিন্ন টনিক নেন, কবিরাজি, গাছগাছালির চিকিত্সা ও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করেন, তেজষ্ক্রিয়তার সংস্পর্শে (যেমন এক্স–রে রেডিয়েশন) আসেন অথবা দূষিত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন, তাহলে গর্ভের শিশুর ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

    • সদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর প্রায় ৮ জনের হার্টে জন্মত্রুটি থাকতে পারে। বিশেষত, অপরিণত (জন্মকালীন ওজন ২ হাজার ৫০০ গ্রামের নিচে) বা অকালজাত (গর্ভকাল ৩৭ সপ্তাহের কম) নবজাতকে এই সমস্যা দেখা যায় বেশি।

    • হার্টের জন্মগত রোগ মূলত দুই রকম—সায়ানোটিক ও এসায়ানোটিক। সায়ানোটিক গ্রুপের মধ্যে বেশি দেখা যায় ‘ফেলটস টেট্রালজি’। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে এদের শরীর নীল হয়ে যায়। অন্যদিকে এসায়ানোটিক কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজে শিশুর শরীরে নীলবর্ণ ভাব থাকে না। শিশু ঘনঘন সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকে। এসব শিশু বুকের দুধ একনাগাড়ে টানতে পারে না। একটু টেনেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু পেট ভরে না তাই অল্প সময়ের মধ্যেই জেগে উঠে কাঁদতে থাকে। অত্যধিক ঘামে। শিশু ঠিকমতো বাড়ে না। বারবার অসুস্থ হয়। বেশির ভাগ হার্টের জন্মগত ত্রুটি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সায় সারিয়ে তোলা সম্ভব।

    • বংশগত, জিনের গঠনগত ত্রুটি ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা কিছু রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যেমন ডাউন ও টারনার সিনড্রোম। গর্ভাবস্থায় জার্মান মিজলস (রুবেলা) সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, লুপাস রোগ, ক্ষতিকর ওষুধ সেবন (লিথিয়াম, ইথানল, থালিডোমাইড ও খিঁচুনি বন্ধের ওষুধ) করলে এসব সমস্যা হতে পারে।

    • কাটা ঠোঁট ও কাটা তালুও খুবই পরিচিত একটি জন্মগত ত্রুটি। সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করে এই ত্রুটি সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায়। শিশুর ৩ মাস বয়সের দিকে শিশুসার্জনের মাধ্যমে কাটা ঠোঁট সারিয়ে তোলা যায়। আর ৯-১২ মাস বয়সে শিশু কথা বলতে শেখার আগেই কাটা তালু চিকিত্সা করে ফেলতে হয়।

    • পায়ুপথ না হওয়ার ত্রুটি নিয়েও জন্মায় অনেক শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর পায়ুপথ পুরোপুরি তৈরি থাকে না। তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র শিশুর পায়ুপথে রেখে তাপ নির্ণয় করতে গেলে ও শিশু জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রথম পায়খানা না হয়ে থাকে, তবে শিশুর এই জন্মত্রুটি আছে কি না, সন্দেহ করা হয়। সার্জাারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

    • হাইপোস্পেডিয়াস সমস্যা নিয়েও জন্মায় শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর মূত্রনালির মুখ স্বাভাবিক স্থানে লিঙ্গের অগ্রভাগে না থেকে লিঙ্গের নিচের দিকে মাঝামাঝি দেখতে পাওয়া যায়। অবহেলা না করে অতিসত্বর শিশুসার্জন দেখানো উচিত।

      • প্রতিটি গর্ভধারণ পরিকল্পিত হওয়া উচিত। এতে অনাগত সন্তানেরও জটিলতা কম হয়। কিছু নিয়ম মেনে শিশুর জন্মগত ত্রুটির সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। এই যেমন

      • গর্ভধারণের আগে মায়ের রুটিন চেক আপ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো জেনেটিক রোগে আক্রান্ত কি না জেনে নিতে পারলে অনাগত সন্তানের সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।

      • মা যদি আগে থেকে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোনো বাতরোগ বা মৃগীরোগের) তবে আগেভাগে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

      • নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়েও অনেক শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ।

      • মায়ের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকা অবস্থায় সন্তান নিলে এবং দুই সন্তানের মধ্যে ন্যূনতম ২ বছর বিরতি থাকলে অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।

      • গর্ভধারণের ১ মাস আগে থেকে গর্ভকালীন প্রথম ২ মাস পর্যন্ত মা দৈনিক ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন করলে বেশ কিছু ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।

      • গর্ভকালীন অপুষ্টি রোধ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি মুক্ত থাকলেও অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।

      • গর্ভপূর্ব ও গর্ভকালীন নিয়মিত শারীরিক চেকআপ খুব জরুরি।

      • আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গর্ভকালীন সময় কোনো ক্রমেই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। কারণ, অনেক ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ। একইভাবে এক্স রে, সিটি স্ক্যানের মতো যেসব পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহৃত হয়, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সেসব পরীক্ষা করা যাবে না। অন্য যেকোনো কারণেই চিকিত্সকের কাছে যাওয়া হোক না কেন, তাকে জানাতে হবে যে রোগী অন্তঃসত্ত্বা। এমনকি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও জানাতে হবে। এতে সব দিক বুঝে চিকিত্সক প্রেসক্রাইব করতে পারেন।

        আজকাল আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নানা রকম পরীক্ষা করে শিশুর অস্বাভাবিকতা আছে কি না, আগে থেকেই জানা যায়। গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহের পর (১৮-২২ সপ্তাহ) জন্মগত ত্রুটি আছে কি না, জানার জন্য একটি বিশেষ ধরনের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। একে বলে অ্যানোম্যালি স্ক্যান। প্রয়োজন মনে হলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে গর্ভকালে মায়ের রক্তে আলফা ফিটো প্রোটিনের মান, অ্যামনিওসেনটোসিস বা কোরিওভিলাস বায়োপসি ইত্যাদি করা যায়।

        পরিবারের সচেতনতা অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি এড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রতিটি শিশু সুস্থভাবে জন্ম দিতে তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই গর্ভকালে সঠিক সিদ্ধান্ত জরুরি।

        লেখক: সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দৌলতপুরে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, আটক ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দৌলতপুরে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, আটক ৩

কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত বৃদ্ধের বাড়িতে স্বজনদের ভিড়। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আড়িয়া ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামে

যোগফল প্রতিবেদন: 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ওয়াদ মালিথা (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয়রা। তবে মোটরসাইকেল চালক পালিয়ে গেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওয়াদ মালিথা ওই গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে বসে ছিলেন ওয়াদ মালিথা। এ সময় খলিশাকুন্ডির দিকে যাচ্ছিল চার কিশোরসহ একটি মোটরসাইকেল। মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে যাওয়ার একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বসে থাকা ওয়াদ মালিথাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলের চালক পালিয়ে যায়। তবে মোটরসাইকেলের অপর তিন আরোহীকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের দাবি, আটক ও পলাতক কিশোরেরা পার্শ্ববর্তী ভেড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোড়ামারা ও ভেড়ামারা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁরা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।

তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।