মেসির ছায়ায় আড়ালে রোমান ভেগা, আর্জেন্টিনার নতুন তারকা হওয়ার অপেক্ষায়
আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পেয়েছেন রোমান ভেগাভেগার ইনস্টাগ্রাম
যোগফল প্রতিবেদন:
বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলের। তবে এই সিরিজকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার নতুন অধ্যায় নিয়ে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সমর্থকদের আগ্রহ ছিল—মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা কেমন হবে?
কিন্তু বাস্তবে সেই আলোচনার বড় অংশই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মেসিকে ঘিরে। কারণ তিনটি প্রীতি ম্যাচের একটিতে কিংবদন্তি মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে নতুনদের নিয়ে আলোচনার জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এর মধ্যেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ২২ বছর বয়সী লেফট ব্যাক রোমান ভেগা। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আলোচনায় কিছুটা আড়ালে পড়ে গেলেও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের চোখে এই তরুণই স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক।
নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রোমান ভেগা:
আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলেই সাধারণত সবার নজর থাকে নতুন মুখগুলোর দিকে। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার সেই আগ্রহ আরও বেশি ছিল। কারণ সবাই অপেক্ষায় ছিলেন মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার নতুন দল দেখার জন্য।
কিন্তু মেসিকে স্কোয়াডে রাখা এবং তাঁর বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তের কারণে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বদলে গেছে।
তবুও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো রোমান ভেগাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের মতে, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা ভেগা আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, যেখানে ভবিষ্যতের জন্য নতুন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন রয়েছে।
কোন পজিশনে খেলেন ভেগা?
রোমান ভেগার মূল পজিশন লেফট ব্যাক। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি।
আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো। কিন্তু তাঁর বয়স এখন ৩৪ বছর। ফলে আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই পজিশনে নতুন কাউকে তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সম্ভবত সেই চিন্তা থেকেই ভেগাকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডেকেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
বাঁ পায়ের এই ফুটবলারের অন্যতম শক্তি তাঁর গতিশীলতা। উইং ধরে দ্রুত ওঠানামা করতে পারেন তিনি। আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে তাঁর।
গতি, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা, বল নিয়ন্ত্রণ, পায়ের কাজ এবং শক্তিশালী শট—সব মিলিয়ে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন ভেগা।
‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ থেকে উঠে আসা
রোমান ভেগার বেড়ে ওঠা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা ফুটবলার উপহার দিয়েছে ক্লাবটি।
এ কারণেই আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সকে অনেক সময় ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ বলা হয়।
২০০৪ সালে বুয়েনস এইরেসে জন্ম নেওয়া ভেগা এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে মূল দলে জায়গা করে নেন। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে ক্লাবটির হয়ে অভিষেক হয় তাঁর।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁকে এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠানো হয়। এজন্য বার্সেলোনা ৫০ হাজার ইউরো খরচ করেছিল। চুক্তিতে ৪৫ লাখ ইউরো দিয়ে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগও ছিল। কিন্তু কাতালান ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি।
বার্সেলোনার ‘বি’ দলের হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবার আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে ফিরে আসেন ভেগা।
এরপর ধীরে ধীরে ক্লাবটির মূল একাদশে নিয়মিত হয়ে ওঠেন তিনি। জুনিয়র্সের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা। করেছেন একটি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও তিনটি।
বয়সভিত্তিক দলেও নজর কেড়েছেন
ক্লাব পর্যায়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলেও জায়গা করে নিয়েছেন ভেগা।
অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে পাঁচটি এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা গেছে এই তরুণকে।
বয়সভিত্তিক ফুটবলে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর এবার এসেছে জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পালা।
৯০ লাখ ডলারে জেনিতে ভেগা
২০২৫ সালের জুলাইয়ে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স থেকে ৯০ লাখ ডলারে রোমান ভেগাকে দলে নেয় রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। তাঁর সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে ক্লাবটি।
জেনিতে যোগ দেওয়ার পর শুরুতে মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি ভেগা। তবে সময়ের সঙ্গে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন তিনি।
গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগে জেনিতের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তাঁর ম্যাচ সংখ্যা ছিল ২৩।
এ মৌসুমে জেনিতের হয়ে রাশিয়ান সুপার কাপও জিতেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ক্লাবটির হয়ে মোট ৩৪টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর।
ভেগাকে চেয়েছিল রিভার প্লেটও
রোমান ভেগার পারফরম্যান্সে নজর পড়েছিল আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় ক্লাব রিভার প্লেটেরও।
জেনিতে যোগ দেওয়ার মাত্র ছয় মাস পর তাঁকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। তবে দুই পক্ষের আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রূপ নেয়নি।
এরপর জেনিতেই নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যান ভেগা। আর সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দরজা।
জাতীয় দলে ডাক পেয়ে আবেগঘন বার্তা
জাতীয় দলের স্কোয়াডে প্রথমবার ডাক পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ভেগা।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লিখেছেন—‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’
মাত্র কয়েকটি শব্দেই বোঝা যায়, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি পরার স্বপ্ন কতটা বড় ছিল তাঁর কাছে।
এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিন্তু সামনে আরও বড় পরীক্ষা।
মেসির ছায়া পেরিয়ে নিজের জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ
রোমান ভেগার জাতীয় দলে অভিষেকের মুহূর্তটি হতে যাচ্ছে বিশেষ। কারণ একই সময়ে আর্জেন্টিনা খেলবে মেসিকে বিদায় জানানোর আবেগঘন ম্যাচ।
ফলে মেসিকে ঘিরে থাকা বিশাল আলোচনার মধ্যে ভেগার মতো নতুনদের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ কিছুটা আড়ালে চলে যেতে পারে।
তবে মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে খুব দ্রুতই সেই আলো নিজের দিকে টেনে নিতে পারবেন ভেগা।
আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে ভবিষ্যতের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় খুঁজছে স্কালোনির দল। সেই জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ এখন ভেগার সামনে।
তিন প্রীতি ম্যাচেই পরীক্ষা
এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা খেলবে তিনটি প্রীতি ম্যাচ।
৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বলিভিয়া। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দল খেলবে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে।
আর ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে হবে তৃতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচ। এই ম্যাচটিই মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই তিন ম্যাচে স্কালোনির নজর কাড়তে হলে ভেগাকে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে দীর্ঘমেয়াদি জায়গা করে নিতে হলে ক্লাবের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজেকে মেলে ধরতে হবে তাঁকে।
মেসির বিদায়ের আবেগের মধ্যেই আর্জেন্টিনা খুঁজছে নতুন দিনের নতুন মুখ। রোমান ভেগা সেই নতুন অধ্যায়ের একজন হতে পারেন কি না, সেটির প্রথম উত্তর মিলতে পারে আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতেই।
শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়
দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ
আজকাল অনেক দম্পতিই সন্তান নিতে দ্বিধায় ভোগেন। স্বাভাবিক সন্তান হবে তো! এমন আশঙ্কার কারণও অবশ্য আছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জন্মগত ত্রুটি মানে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই শিশুর গঠনগত কোনো শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। অনেক সময় জন্মগত ত্রুটির কারণে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। নবজাতক শিশুমৃত্যুর প্রায় ৩০-৫০ শতাংশের জন্যই দায়ী জন্মগত ত্রুটি।
জন্মগত ত্রুটির ধরন
শারীরিক জন্মত্রুটি নিয়ে জন্মানো অর্ধেক শিশুর একাধিক অঙ্গের ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ করা যায়। পরিমাণ অনুযায়ী এই ধরনের ত্রুটি সাধারণত দুই রকম।
মাইনর ত্রুটি: এগুলো শিশুর জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ নয়। যেমন অতিরিক্ত স্তনবৃন্ত, বাড়তি আঙুল ইত্যাদি।
মেজর ত্রুটি: এগুলো শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেমন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, হার্টে ছিদ্র, পায়ুপথ না থাকা, স্পাইনা বায়ফিডা (মেরুদণ্ডের জন্মত্রুটি)।
জন্মগত ত্রুটির কারণ কী
শিশুর শারীরিক জন্মত্রুটির ১০ শতাংশ ঘটে জেনেটিক কারণে। ১৮ শতাংশ জন্মত্রুটির কোনো কারণ জানা যায় না। তবে যেসব বিষয় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিবেচনা করা হয়, তা হলো—
বংশগত কারণ।
অপুষ্টিজনিত কারণ।
রক্ত সম্পর্কীয় বিয়ে।
গর্ভকালীন সময়ে ধূমপান (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) ও মাদকাসক্তি, রুবেলা, টক্সো, এইডস ও অন্যান্য সংক্রমণ এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত থাইরডের সমস্যা।
গর্ভকালে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া মা যদি বিভিন্ন টনিক নেন, কবিরাজি, গাছগাছালির চিকিত্সা ও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করেন, তেজষ্ক্রিয়তার সংস্পর্শে (যেমন এক্স–রে রেডিয়েশন) আসেন অথবা দূষিত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন, তাহলে গর্ভের শিশুর ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
সদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর প্রায় ৮ জনের হার্টে জন্মত্রুটি থাকতে পারে। বিশেষত, অপরিণত (জন্মকালীন ওজন ২ হাজার ৫০০ গ্রামের নিচে) বা অকালজাত (গর্ভকাল ৩৭ সপ্তাহের কম) নবজাতকে এই সমস্যা দেখা যায় বেশি।
হার্টের জন্মগত রোগ মূলত দুই রকম—সায়ানোটিক ও এসায়ানোটিক। সায়ানোটিক গ্রুপের মধ্যে বেশি দেখা যায় ‘ফেলটস টেট্রালজি’। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে এদের শরীর নীল হয়ে যায়। অন্যদিকে এসায়ানোটিক কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজে শিশুর শরীরে নীলবর্ণ ভাব থাকে না। শিশু ঘনঘন সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকে। এসব শিশু বুকের দুধ একনাগাড়ে টানতে পারে না। একটু টেনেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু পেট ভরে না তাই অল্প সময়ের মধ্যেই জেগে উঠে কাঁদতে থাকে। অত্যধিক ঘামে। শিশু ঠিকমতো বাড়ে না। বারবার অসুস্থ হয়। বেশির ভাগ হার্টের জন্মগত ত্রুটি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সায় সারিয়ে তোলা সম্ভব।
বংশগত, জিনের গঠনগত ত্রুটি ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা কিছু রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যেমন ডাউন ও টারনার সিনড্রোম। গর্ভাবস্থায় জার্মান মিজলস (রুবেলা) সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, লুপাস রোগ, ক্ষতিকর ওষুধ সেবন (লিথিয়াম, ইথানল, থালিডোমাইড ও খিঁচুনি বন্ধের ওষুধ) করলে এসব সমস্যা হতে পারে।
কাটা ঠোঁট ও কাটা তালুও খুবই পরিচিত একটি জন্মগত ত্রুটি। সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করে এই ত্রুটি সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায়। শিশুর ৩ মাস বয়সের দিকে শিশুসার্জনের মাধ্যমে কাটা ঠোঁট সারিয়ে তোলা যায়। আর ৯-১২ মাস বয়সে শিশু কথা বলতে শেখার আগেই কাটা তালু চিকিত্সা করে ফেলতে হয়।
পায়ুপথ না হওয়ার ত্রুটি নিয়েও জন্মায় অনেক শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর পায়ুপথ পুরোপুরি তৈরি থাকে না। তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র শিশুর পায়ুপথে রেখে তাপ নির্ণয় করতে গেলে ও শিশু জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রথম পায়খানা না হয়ে থাকে, তবে শিশুর এই জন্মত্রুটি আছে কি না, সন্দেহ করা হয়। সার্জাারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
হাইপোস্পেডিয়াস সমস্যা নিয়েও জন্মায় শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর মূত্রনালির মুখ স্বাভাবিক স্থানে লিঙ্গের অগ্রভাগে না থেকে লিঙ্গের নিচের দিকে মাঝামাঝি দেখতে পাওয়া যায়। অবহেলা না করে অতিসত্বর শিশুসার্জন দেখানো উচিত।
প্রতিটি গর্ভধারণ পরিকল্পিত হওয়া উচিত। এতে অনাগত সন্তানেরও জটিলতা কম হয়। কিছু নিয়ম মেনে শিশুর জন্মগত ত্রুটির সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। এই যেমন
গর্ভধারণের আগে মায়ের রুটিন চেক আপ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো জেনেটিক রোগে আক্রান্ত কি না জেনে নিতে পারলে অনাগত সন্তানের সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।
মা যদি আগে থেকে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোনো বাতরোগ বা মৃগীরোগের) তবে আগেভাগে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।
নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়েও অনেক শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ।
মায়ের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকা অবস্থায় সন্তান নিলে এবং দুই সন্তানের মধ্যে ন্যূনতম ২ বছর বিরতি থাকলে অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।
গর্ভধারণের ১ মাস আগে থেকে গর্ভকালীন প্রথম ২ মাস পর্যন্ত মা দৈনিক ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন করলে বেশ কিছু ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।
গর্ভকালীন অপুষ্টি রোধ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি মুক্ত থাকলেও অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।
গর্ভপূর্ব ও গর্ভকালীন নিয়মিত শারীরিক চেকআপ খুব জরুরি।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গর্ভকালীন সময় কোনো ক্রমেই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। কারণ, অনেক ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ। একইভাবে এক্স রে, সিটি স্ক্যানের মতো যেসব পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহৃত হয়, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সেসব পরীক্ষা করা যাবে না। অন্য যেকোনো কারণেই চিকিত্সকের কাছে যাওয়া হোক না কেন, তাকে জানাতে হবে যে রোগী অন্তঃসত্ত্বা। এমনকি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও জানাতে হবে। এতে সব দিক বুঝে চিকিত্সক প্রেসক্রাইব করতে পারেন।
আজকাল আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নানা রকম পরীক্ষা করে শিশুর অস্বাভাবিকতা আছে কি না, আগে থেকেই জানা যায়। গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহের পর (১৮-২২ সপ্তাহ) জন্মগত ত্রুটি আছে কি না, জানার জন্য একটি বিশেষ ধরনের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। একে বলে অ্যানোম্যালি স্ক্যান। প্রয়োজন মনে হলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে গর্ভকালে মায়ের রক্তে আলফা ফিটো প্রোটিনের মান, অ্যামনিওসেনটোসিস বা কোরিওভিলাস বায়োপসি ইত্যাদি করা যায়।
পরিবারের সচেতনতা অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি এড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রতিটি শিশু সুস্থভাবে জন্ম দিতে তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই গর্ভকালে সঠিক সিদ্ধান্ত জরুরি।
লেখক: সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়
দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ
আজকাল অনেক দম্পতিই সন্তান নিতে দ্বিধায় ভোগেন। স্বাভাবিক সন্তান হবে তো! এমন আশঙ্কার কারণও অবশ্য আছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জন্মগত ত্রুটি মানে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই শিশুর গঠনগত কোনো শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। অনেক সময় জন্মগত ত্রুটির কারণে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। নবজাতক শিশুমৃত্যুর প্রায় ৩০-৫০ শতাংশের জন্যই দায়ী জন্মগত ত্রুটি।
জন্মগত ত্রুটির ধরন
শারীরিক জন্মত্রুটি নিয়ে জন্মানো অর্ধেক শিশুর একাধিক অঙ্গের ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ করা যায়। পরিমাণ অনুযায়ী এই ধরনের ত্রুটি সাধারণত দুই রকম।
মাইনর ত্রুটি: এগুলো শিশুর জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ নয়। যেমন অতিরিক্ত স্তনবৃন্ত, বাড়তি আঙুল ইত্যাদি।
মেজর ত্রুটি: এগুলো শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেমন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, হার্টে ছিদ্র, পায়ুপথ না থাকা, স্পাইনা বায়ফিডা (মেরুদণ্ডের জন্মত্রুটি)।
জন্মগত ত্রুটির কারণ কী
শিশুর শারীরিক জন্মত্রুটির ১০ শতাংশ ঘটে জেনেটিক কারণে। ১৮ শতাংশ জন্মত্রুটির কোনো কারণ জানা যায় না। তবে যেসব বিষয় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিবেচনা করা হয়, তা হলো—
বংশগত কারণ।
অপুষ্টিজনিত কারণ।
রক্ত সম্পর্কীয় বিয়ে।
গর্ভকালীন সময়ে ধূমপান (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) ও মাদকাসক্তি, রুবেলা, টক্সো, এইডস ও অন্যান্য সংক্রমণ এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত থাইরডের সমস্যা।
গর্ভকালে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া মা যদি বিভিন্ন টনিক নেন, কবিরাজি, গাছগাছালির চিকিত্সা ও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করেন, তেজষ্ক্রিয়তার সংস্পর্শে (যেমন এক্স–রে রেডিয়েশন) আসেন অথবা দূষিত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন, তাহলে গর্ভের শিশুর ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
সদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর প্রায় ৮ জনের হার্টে জন্মত্রুটি থাকতে পারে। বিশেষত, অপরিণত (জন্মকালীন ওজন ২ হাজার ৫০০ গ্রামের নিচে) বা অকালজাত (গর্ভকাল ৩৭ সপ্তাহের কম) নবজাতকে এই সমস্যা দেখা যায় বেশি।
হার্টের জন্মগত রোগ মূলত দুই রকম—সায়ানোটিক ও এসায়ানোটিক। সায়ানোটিক গ্রুপের মধ্যে বেশি দেখা যায় ‘ফেলটস টেট্রালজি’। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে এদের শরীর নীল হয়ে যায়। অন্যদিকে এসায়ানোটিক কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজে শিশুর শরীরে নীলবর্ণ ভাব থাকে না। শিশু ঘনঘন সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকে। এসব শিশু বুকের দুধ একনাগাড়ে টানতে পারে না। একটু টেনেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু পেট ভরে না তাই অল্প সময়ের মধ্যেই জেগে উঠে কাঁদতে থাকে। অত্যধিক ঘামে। শিশু ঠিকমতো বাড়ে না। বারবার অসুস্থ হয়। বেশির ভাগ হার্টের জন্মগত ত্রুটি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সায় সারিয়ে তোলা সম্ভব।
বংশগত, জিনের গঠনগত ত্রুটি ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা কিছু রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যেমন ডাউন ও টারনার সিনড্রোম। গর্ভাবস্থায় জার্মান মিজলস (রুবেলা) সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, লুপাস রোগ, ক্ষতিকর ওষুধ সেবন (লিথিয়াম, ইথানল, থালিডোমাইড ও খিঁচুনি বন্ধের ওষুধ) করলে এসব সমস্যা হতে পারে।
কাটা ঠোঁট ও কাটা তালুও খুবই পরিচিত একটি জন্মগত ত্রুটি। সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করে এই ত্রুটি সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায়। শিশুর ৩ মাস বয়সের দিকে শিশুসার্জনের মাধ্যমে কাটা ঠোঁট সারিয়ে তোলা যায়। আর ৯-১২ মাস বয়সে শিশু কথা বলতে শেখার আগেই কাটা তালু চিকিত্সা করে ফেলতে হয়।
পায়ুপথ না হওয়ার ত্রুটি নিয়েও জন্মায় অনেক শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর পায়ুপথ পুরোপুরি তৈরি থাকে না। তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র শিশুর পায়ুপথে রেখে তাপ নির্ণয় করতে গেলে ও শিশু জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রথম পায়খানা না হয়ে থাকে, তবে শিশুর এই জন্মত্রুটি আছে কি না, সন্দেহ করা হয়। সার্জাারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
হাইপোস্পেডিয়াস সমস্যা নিয়েও জন্মায় শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর মূত্রনালির মুখ স্বাভাবিক স্থানে লিঙ্গের অগ্রভাগে না থেকে লিঙ্গের নিচের দিকে মাঝামাঝি দেখতে পাওয়া যায়। অবহেলা না করে অতিসত্বর শিশুসার্জন দেখানো উচিত।
প্রতিটি গর্ভধারণ পরিকল্পিত হওয়া উচিত। এতে অনাগত সন্তানেরও জটিলতা কম হয়। কিছু নিয়ম মেনে শিশুর জন্মগত ত্রুটির সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। এই যেমন
গর্ভধারণের আগে মায়ের রুটিন চেক আপ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো জেনেটিক রোগে আক্রান্ত কি না জেনে নিতে পারলে অনাগত সন্তানের সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।
মা যদি আগে থেকে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোনো বাতরোগ বা মৃগীরোগের) তবে আগেভাগে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।
নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়েও অনেক শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ।
মায়ের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকা অবস্থায় সন্তান নিলে এবং দুই সন্তানের মধ্যে ন্যূনতম ২ বছর বিরতি থাকলে অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।
গর্ভধারণের ১ মাস আগে থেকে গর্ভকালীন প্রথম ২ মাস পর্যন্ত মা দৈনিক ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন করলে বেশ কিছু ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।
গর্ভকালীন অপুষ্টি রোধ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি মুক্ত থাকলেও অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।
গর্ভপূর্ব ও গর্ভকালীন নিয়মিত শারীরিক চেকআপ খুব জরুরি।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গর্ভকালীন সময় কোনো ক্রমেই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। কারণ, অনেক ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ। একইভাবে এক্স রে, সিটি স্ক্যানের মতো যেসব পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহৃত হয়, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সেসব পরীক্ষা করা যাবে না। অন্য যেকোনো কারণেই চিকিত্সকের কাছে যাওয়া হোক না কেন, তাকে জানাতে হবে যে রোগী অন্তঃসত্ত্বা। এমনকি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও জানাতে হবে। এতে সব দিক বুঝে চিকিত্সক প্রেসক্রাইব করতে পারেন।
আজকাল আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নানা রকম পরীক্ষা করে শিশুর অস্বাভাবিকতা আছে কি না, আগে থেকেই জানা যায়। গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহের পর (১৮-২২ সপ্তাহ) জন্মগত ত্রুটি আছে কি না, জানার জন্য একটি বিশেষ ধরনের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। একে বলে অ্যানোম্যালি স্ক্যান। প্রয়োজন মনে হলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে গর্ভকালে মায়ের রক্তে আলফা ফিটো প্রোটিনের মান, অ্যামনিওসেনটোসিস বা কোরিওভিলাস বায়োপসি ইত্যাদি করা যায়।
পরিবারের সচেতনতা অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি এড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রতিটি শিশু সুস্থভাবে জন্ম দিতে তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই গর্ভকালে সঠিক সিদ্ধান্ত জরুরি।
লেখক: সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আপনার মতামত লিখুন