খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

মেসির ছায়ায় আড়ালে রোমান ভেগা, আর্জেন্টিনার নতুন তারকা হওয়ার অপেক্ষায়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেসির ছায়ায় আড়ালে রোমান ভেগা, আর্জেন্টিনার নতুন তারকা হওয়ার অপেক্ষায়

আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পেয়েছেন রোমান ভেগাভেগার ইনস্টাগ্রাম

যোগফল প্রতিবেদন:

বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলের। তবে এই সিরিজকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার নতুন অধ্যায় নিয়ে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সমর্থকদের আগ্রহ ছিল—মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা কেমন হবে?

কিন্তু বাস্তবে সেই আলোচনার বড় অংশই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মেসিকে ঘিরে। কারণ তিনটি প্রীতি ম্যাচের একটিতে কিংবদন্তি মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে নতুনদের নিয়ে আলোচনার জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এর মধ্যেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ২২ বছর বয়সী লেফট ব্যাক রোমান ভেগা। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আলোচনায় কিছুটা আড়ালে পড়ে গেলেও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের চোখে এই তরুণই স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক।

নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রোমান ভেগা:

আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলেই সাধারণত সবার নজর থাকে নতুন মুখগুলোর দিকে। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার সেই আগ্রহ আরও বেশি ছিল। কারণ সবাই অপেক্ষায় ছিলেন মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার নতুন দল দেখার জন্য।

কিন্তু মেসিকে স্কোয়াডে রাখা এবং তাঁর বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তের কারণে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বদলে গেছে।

তবুও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো রোমান ভেগাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের মতে, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা ভেগা আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, যেখানে ভবিষ্যতের জন্য নতুন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন রয়েছে।

কোন পজিশনে খেলেন ভেগা?

রোমান ভেগার মূল পজিশন লেফট ব্যাক। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি।

আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো। কিন্তু তাঁর বয়স এখন ৩৪ বছর। ফলে আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই পজিশনে নতুন কাউকে তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সম্ভবত সেই চিন্তা থেকেই ভেগাকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডেকেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

বাঁ পায়ের এই ফুটবলারের অন্যতম শক্তি তাঁর গতিশীলতা। উইং ধরে দ্রুত ওঠানামা করতে পারেন তিনি। আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে তাঁর।

গতি, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা, বল নিয়ন্ত্রণ, পায়ের কাজ এবং শক্তিশালী শট—সব মিলিয়ে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন ভেগা।

‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ থেকে উঠে আসা

রোমান ভেগার বেড়ে ওঠা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা ফুটবলার উপহার দিয়েছে ক্লাবটি।

এ কারণেই আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সকে অনেক সময় ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ বলা হয়।

২০০৪ সালে বুয়েনস এইরেসে জন্ম নেওয়া ভেগা এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে মূল দলে জায়গা করে নেন। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে ক্লাবটির হয়ে অভিষেক হয় তাঁর।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁকে এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠানো হয়। এজন্য বার্সেলোনা ৫০ হাজার ইউরো খরচ করেছিল। চুক্তিতে ৪৫ লাখ ইউরো দিয়ে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগও ছিল। কিন্তু কাতালান ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি।

বার্সেলোনার ‘বি’ দলের হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবার আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে ফিরে আসেন ভেগা।

এরপর ধীরে ধীরে ক্লাবটির মূল একাদশে নিয়মিত হয়ে ওঠেন তিনি। জুনিয়র্সের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা। করেছেন একটি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও তিনটি।

বয়সভিত্তিক দলেও নজর কেড়েছেন

ক্লাব পর্যায়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলেও জায়গা করে নিয়েছেন ভেগা।

অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে পাঁচটি এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা গেছে এই তরুণকে।

বয়সভিত্তিক ফুটবলে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর এবার এসেছে জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পালা।

৯০ লাখ ডলারে জেনিতে ভেগা

২০২৫ সালের জুলাইয়ে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স থেকে ৯০ লাখ ডলারে রোমান ভেগাকে দলে নেয় রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। তাঁর সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে ক্লাবটি।

জেনিতে যোগ দেওয়ার পর শুরুতে মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি ভেগা। তবে সময়ের সঙ্গে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন তিনি।

গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগে জেনিতের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তাঁর ম্যাচ সংখ্যা ছিল ২৩।

এ মৌসুমে জেনিতের হয়ে রাশিয়ান সুপার কাপও জিতেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ক্লাবটির হয়ে মোট ৩৪টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর।

ভেগাকে চেয়েছিল রিভার প্লেটও

রোমান ভেগার পারফরম্যান্সে নজর পড়েছিল আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় ক্লাব রিভার প্লেটেরও।

জেনিতে যোগ দেওয়ার মাত্র ছয় মাস পর তাঁকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। তবে দুই পক্ষের আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রূপ নেয়নি।

এরপর জেনিতেই নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যান ভেগা। আর সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দরজা।

জাতীয় দলে ডাক পেয়ে আবেগঘন বার্তা

জাতীয় দলের স্কোয়াডে প্রথমবার ডাক পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ভেগা।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লিখেছেন—‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’

মাত্র কয়েকটি শব্দেই বোঝা যায়, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি পরার স্বপ্ন কতটা বড় ছিল তাঁর কাছে।

এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিন্তু সামনে আরও বড় পরীক্ষা।

মেসির ছায়া পেরিয়ে নিজের জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ

রোমান ভেগার জাতীয় দলে অভিষেকের মুহূর্তটি হতে যাচ্ছে বিশেষ। কারণ একই সময়ে আর্জেন্টিনা খেলবে মেসিকে বিদায় জানানোর আবেগঘন ম্যাচ।

ফলে মেসিকে ঘিরে থাকা বিশাল আলোচনার মধ্যে ভেগার মতো নতুনদের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ কিছুটা আড়ালে চলে যেতে পারে।

তবে মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে খুব দ্রুতই সেই আলো নিজের দিকে টেনে নিতে পারবেন ভেগা।

আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে ভবিষ্যতের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় খুঁজছে স্কালোনির দল। সেই জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ এখন ভেগার সামনে।

তিন প্রীতি ম্যাচেই পরীক্ষা

এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা খেলবে তিনটি প্রীতি ম্যাচ।

৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বলিভিয়া। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দল খেলবে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে।

আর ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে হবে তৃতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচ। এই ম্যাচটিই মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই তিন ম্যাচে স্কালোনির নজর কাড়তে হলে ভেগাকে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে দীর্ঘমেয়াদি জায়গা করে নিতে হলে ক্লাবের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজেকে মেলে ধরতে হবে তাঁকে।

মেসির বিদায়ের আবেগের মধ্যেই আর্জেন্টিনা খুঁজছে নতুন দিনের নতুন মুখ। রোমান ভেগা সেই নতুন অধ্যায়ের একজন হতে পারেন কি না, সেটির প্রথম উত্তর মিলতে পারে আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতেই।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ

যোগফল প্রতিবেদন:

অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

মন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী বলেন, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধ (অনুসন্ধানী) সাংবাদিক তথা ক্রাইম রিপোর্টারদের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরণ বদলে এখন আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য।

মন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এগুলো গভীরভাবে সম্পর্কিত। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্য প্রদান ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ক্র্যাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে দীর্ঘ ৪৩ বছরের যাত্রায় ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি উচ্চমানের জ্ঞানভিত্তিক শাখা, যেখানে গভীর পড়াশোনা ও তথ্য-বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়।

অপরাধের মূল কারণ উদ্ঘাটনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ কেবল একটি বাহ্যিক উপসর্গ (Symptom), এর মূল কারণ (Root Cause) অনুসন্ধান করে গোড়ায় আঘাত করতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে মাদক এবং জুয়া (গ্যাম্বলিং)। তিনি আরো বলেন, অপরাধীকে সাজা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে—কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনতে পারলে সমাজ থেকে অপরাধের হার কার্যকরভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব ক্রাইম রিপোর্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হন,  সিএসআর (CSR) ফান্ডের মাধ্যমে বা অন্য কোন মাধ্যমে তাঁদের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি, পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সনদ প্রদান করা যায় কিনা, সে বিষয়েও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা যদি সমাজের প্রতি তাঁদের অর্পিত দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালন করেন, তবে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যা চায় এবং সমাজ যা আশা করে, তা বাস্তবায়নে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

অ্যাসিড অপরাধ দমনে অতীতের সফলতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে অ্যাসিড নিক্ষেপ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কঠোর আইনি কাঠামো, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং ব্যাপক সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াসে আজকে দেশে অ্যাসিড সম্পর্কিত অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একইভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূল করতেও সাংবাদিক, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন বলে তিনি এ সময় উল্লেখ করেন।

অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে আইনি কাঠামো সংস্কারের বিষয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাচীন আইনগুলোর আধুনিকায়ন আবশ্যক। তিনি বলেন, দেড়শত বছরের পুরোনো গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট (১৮৬৭) পরিবর্তন করে ডিজিটাল স্পেসে অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র মোকাবেলায় 'জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়েছে। তাছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দুর্বল আইনের ফাঁক গলে যেন অপরাধীরা পার না পেতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

বক্তারা ক্র্যাবের দীর্ঘ ৪৩ বছরের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

পরে মন্ত্রী কেকে কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।