খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

গ্যাসের অভাবে ১৬ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসে ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গ্যাসের অভাবে ১৬ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসে ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা

একসময় চিমনি থেকে সারাক্ষণ ধোঁয়া উঠত, উৎপাদন ইউনিটে ছিল কর্মচাঞ্চল্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাকে করে পৌঁছে যেত ইউরিয়া সার। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। গ্যাস সংকটে টানা ১৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)।

উৎপাদন বন্ধ থাকলেও থেমে নেই কারখানার ব্যয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন পরিচালন ব্যয় নিয়মিত বহন করতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪৭ থেকে ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। মাঝেমধ্যে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা দিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়নি।

আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু কাউসার জানান, ১৯৮৩ সালে উৎপাদন শুরুর পর থেকে কারখানাটি বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে আসছে। কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা এখনো রয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত উৎপাদনে ফেরা সম্ভব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও গ্যাসের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন যন্ত্রপাতি অচল থাকায় কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবলও দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন আশুগঞ্জ সার কারখানা বন্ধ থাকায় শুধু প্রতিষ্ঠানটিই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে না, এর প্রভাব দেশের সার সরবরাহ ও কৃষি উৎপাদনেও পড়তে পারে। দেশীয় উৎপাদন কমে গেলে ইউরিয়া সারের জন্য আমদানিনির্ভরতা বাড়বে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার প্রভাব পড়তে পারে দেশের কৃষকদের ওপরও।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরিয়া সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত আশুগঞ্জ সার কারখানায় পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানাটি দ্রুত চালু করা গেলে একদিকে মাসে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে বাড়বে দেশের অভ্যন্তরীণ ইউরিয়া সার উৎপাদন। এতে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষি ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ

যোগফল প্রতিবেদন:

অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

মন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী বলেন, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধ (অনুসন্ধানী) সাংবাদিক তথা ক্রাইম রিপোর্টারদের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরণ বদলে এখন আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য।

মন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এগুলো গভীরভাবে সম্পর্কিত। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্য প্রদান ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ক্র্যাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে দীর্ঘ ৪৩ বছরের যাত্রায় ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি উচ্চমানের জ্ঞানভিত্তিক শাখা, যেখানে গভীর পড়াশোনা ও তথ্য-বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়।

অপরাধের মূল কারণ উদ্ঘাটনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ কেবল একটি বাহ্যিক উপসর্গ (Symptom), এর মূল কারণ (Root Cause) অনুসন্ধান করে গোড়ায় আঘাত করতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে মাদক এবং জুয়া (গ্যাম্বলিং)। তিনি আরো বলেন, অপরাধীকে সাজা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে—কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনতে পারলে সমাজ থেকে অপরাধের হার কার্যকরভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব ক্রাইম রিপোর্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হন,  সিএসআর (CSR) ফান্ডের মাধ্যমে বা অন্য কোন মাধ্যমে তাঁদের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি, পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সনদ প্রদান করা যায় কিনা, সে বিষয়েও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা যদি সমাজের প্রতি তাঁদের অর্পিত দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালন করেন, তবে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যা চায় এবং সমাজ যা আশা করে, তা বাস্তবায়নে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

অ্যাসিড অপরাধ দমনে অতীতের সফলতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে অ্যাসিড নিক্ষেপ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কঠোর আইনি কাঠামো, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং ব্যাপক সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াসে আজকে দেশে অ্যাসিড সম্পর্কিত অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একইভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূল করতেও সাংবাদিক, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন বলে তিনি এ সময় উল্লেখ করেন।

অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে আইনি কাঠামো সংস্কারের বিষয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাচীন আইনগুলোর আধুনিকায়ন আবশ্যক। তিনি বলেন, দেড়শত বছরের পুরোনো গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট (১৮৬৭) পরিবর্তন করে ডিজিটাল স্পেসে অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র মোকাবেলায় 'জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়েছে। তাছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দুর্বল আইনের ফাঁক গলে যেন অপরাধীরা পার না পেতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

বক্তারা ক্র্যাবের দীর্ঘ ৪৩ বছরের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

পরে মন্ত্রী কেকে কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় খুলতে কাজ করছে সরকার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় খুলতে কাজ করছে সরকার

মোঃ মোখতার আহমেদ । সচিব । প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

যোগফল প্রতিবেদন:

মালয়েশিয়ায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সদস্যরা মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে বায়রার সাবেক প্রতিনিধিরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—তালিকাভুক্ত ৩১২টি এজেন্সিসহ সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া, সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া আধিপত্য বন্ধ করা, অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সব যোগ্য মেডিকেল সেন্টার উন্মুক্ত করা এবং বোয়েসেলের মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা।

বায়রা প্রতিনিধিদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ। তিনি তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের কথা জানান।

সচিব বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, শ্রমবাজার চালুর সুযোগে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন অবৈধভাবে ফায়দা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে দালাল ও প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাধারণ কর্মীদের রক্ষায় মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সচিব জানান, অবৈধ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ‘ত্রিপল এ ওভারসিজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস সিলগালা, জরিমানা এবং তিন বক্স পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি প্রেরণ শুরু হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত ও সঠিক তথ্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

আইএইএতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী-পেশাজীবীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ বাড়ানোর আলোচনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইএইএতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী-পেশাজীবীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ বাড়ানোর আলোচনা

ছবিতে প্রতিনিধি দল

যোগফল প্রতিবেদন:

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য ইন্টার্নশিপ এবং চাকরির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে সংস্থাটির মানবসম্পদবিষয়ক উপ-মহাপরিচালক মার্গারেট ডোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে আইএইএতে বাংলাদেশের নাগরিকদের, বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ তৈরি এবং তাঁদের দক্ষতা বিকাশে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ ও আইএইএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

সাক্ষাৎকালে ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।