খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে তিন হত্যা মামলায় আলোচিত ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চট্টগ্রামে তিন হত্যা মামলায় আলোচিত ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের আলোচিত তিনটি হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক অপরাধের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা এবং চন্দনপুরায় জোড়া খুনের পৃথক দুই মামলায় তাকে মোট সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন আদালত। পুলিশের তালিকাভুক্ত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) পৃথক দুই আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং চন্দনপুরায় জোড়া খুনের মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারাগার থেকে ডেভিড ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাকলিয়া থানার হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত পাঁচ দিনের এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার হত্যা মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী খোন্দকিয়া পাড়ায় বিএনপির চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন সরোয়ার হোসেন বাবলা। ঘটনার দুই দিন পর তার বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় রায়হান ও ইমনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ ভোররাতে নগরের চকবাজারের চন্দনপুরা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার ধাওয়া করে থামানোর পর গুলি চালানো হয়। এতে সরোয়ার বাবলার অনুসারী বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। এ ঘটনায় ১ এপ্রিল নিহত মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, মো. হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, রায়হান ও বোরহানসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের অপরাধজগতে তার নাম আলোচনায় আসে। একসময় রাউজানের বালুমহালে টাকা তোলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হানের মাধ্যমে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য, বড় সাজ্জাদের সঙ্গে একসময় ঘনিষ্ঠতা ছিল ম্যাক্সন ও সরোয়ার হোসেন বাবলার। পরে তাদের সঙ্গে সাজ্জাদের দূরত্ব তৈরি হলে ছোট সাজ্জাদ, রায়হান ও বোরহান তার ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাদের মাধ্যমেই ইমন ওই গোষ্ঠীতে যুক্ত হন বলে দাবি পুলিশের। গুলি চালানোর দক্ষতা ও সাহসের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে রায়হানের সহযোগী হিসেবে গোষ্ঠীর একটি অংশ পরিচালনা করতেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

গত কয়েক মাসে ব্যবসায়ী ও ভবন নির্মাতাদের ফোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে ইমনের বিরুদ্ধে। গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান চৌধুরীর বাসায় গুলির ঘটনায়ও ইমনের নাম আসে। চন্দনপুরায় জোড়া খুন, গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং ৫ নভেম্বর সরোয়ার বাবলা হত্যাকাণ্ডেও তার নাম আলোচনায় আসে।

গত ২৯ জুলাই ভোরে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় একটি গাড়ি থেকে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। পরদিন তাকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২ আগস্ট ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং একটি অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১২ আগস্ট হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এবার দুটি হত্যা মামলায় আরও সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় চট্টগ্রামের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোতে ইমনের ভূমিকা এবং অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার কথিত সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পুলিশ।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

ছবিতে গ্রেফতারকৃরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫)-কে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাইকগাছা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম