খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নাহিদ ইসলামের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নাহিদ ইসলামের

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও দুর্নীতিবাজ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মাদক কারবারে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বন্ধ হয়েছে। ছাত্র-তরুণসহ দেশের মানুষ জীবন ও রক্তের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। তবে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ সামনে আসছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপির ছত্রচ্ছায়ায় একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে নিরপেক্ষ, শক্তিশালী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

পুলিশের ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তিশালী করার অর্থ আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা নয়। পুলিশকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে আইন অনুযায়ী কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে যেন বদলি বা পদাবনতি করা না হয়, সে নিশ্চয়তাও দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। মাদক কারবার ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

মাদক কারবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া মাদকের সিন্ডিকেট টিকে থাকতে পারে না। আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ ছিল, এখন বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠছে।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযানে অনেক ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করা হলেও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মাদক কারবারের মূল চক্র ভাঙতে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন ও পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের নির্যাতনের শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দল সব সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকবে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির দাম বাড়লেও মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, শ্রমিক এবং বেসরকারি খাতের কর্মীদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। এ সময় পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ, প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পদত্যাগে বাধ্য করার মতো ঘটনা উদ্বেগজনক। তথ্য কমিশনের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র কার্যকর হবে না।

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তিতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ক্লজ থাকা জরুরি। পদ্মা ও গঙ্গা নদীকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির সঙ্গে দেশের কৃষি, পরিবেশ ও নদীতীরবর্তী কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই পানির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময়কার জোট থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি আলাদাভাবে অংশ নেবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সংশয় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের দাবি অনুযায়ী সংস্কার, গণহত্যার বিচার, তরুণদের কর্মসংস্থান, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং নদীর পানির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের ঐক্য হচ্ছে দেশের জনগণের সঙ্গে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যাব।” গণবিরোধী নীতি থেকে সরকার সরে না এলে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বা ঐক্যের সুযোগ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিলসহ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম