খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

নতুন বেতন কাঠামোয় জটিলতা, ১ নভেম্বর বাড়তি বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নতুন বেতন কাঠামোয় জটিলতা, ১ নভেম্বর বাড়তি বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। পাশাপাশি আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে না পারায় নির্ধারিত সময়ে বাড়তি বেতন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন বেতন কাঠামোয় কোথাও তুলনামূলক নিচের গ্রেডের কর্মচারী বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন, আবার কোথাও পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমে যাওয়ায় মোট আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী ও ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো অনেকে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে পারেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাঁদের বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হবে না, তাঁরা আপাতত পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন। নতুন কাঠামোর বকেয়া অর্থ পরে পরিশোধ করা হবে।

অর্থ বিভাগের সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে গত সোমবার পর্যন্ত এসব আবেদনের সুরাহা হয়নি। অর্থ বিভাগসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমস্যাগুলো ১ নভেম্বরের আগে সমাধান করা কঠিন হতে পারে বলেও জানা গেছে।

বেতন নির্ধারণে উল্টে যাচ্ছে গ্রেডের ক্রম

নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন ও কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিতে গ্রেডভিত্তিক বেতনের স্বাভাবিক ক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেডের কর্মচারী ৭০০ টাকা এগিয়ে রয়েছেন। কিন্তু পুরোনো কাঠামোর বেতন বৃদ্ধির হিসাব নতুন কাঠামোয় সমন্বয় করতে গিয়ে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

কর্মচারীদের হিসাব অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০১৫ সালে প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। গত ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৬৬০ টাকায়। অর্থাৎ মূল বেতন বেড়েছিল ১১ হাজার ১৬০ টাকা। নতুন কাঠামোর ২৫ হাজার টাকা প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা। নতুন কাঠামোয় ওই অঙ্কের ধাপ না থাকায় পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী তাঁর বেতন নির্ধারণ হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১১ হাজার ৩০০ টাকা। গত ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৮০ টাকায়। অর্থাৎ মূল বেতন বেড়েছিল ১২ হাজার ২৮০ টাকা। নতুন কাঠামোর ২৪ হাজার ৩০০ টাকা প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা। পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী তাঁর বেতন নির্ধারণ হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা।

ফলে নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন দাঁড়াচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা, আর ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। এতে প্রারম্ভিক বেতনে এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারী বেতন নির্ধারণের পর ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে ৭০০ টাকা কম পাচ্ছেন।

ধাপে ধাপে বেতন বাড়লেও থাকছে ব্যবধান

কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হলেও দুই গ্রেডের বেতনের ব্যবধান দূর হচ্ছে না।

তাঁদের হিসাব বলছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম পর্যায়ে ৫০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন দাঁড়াবে ৩১ হাজার ২৩০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৩১ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে ১২তম গ্রেডের কর্মচারী ৩৬০ টাকা বেশি পাবেন।

একইভাবে, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৭৫ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন হবে ৩৫ হাজার ১৫ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। তখন ব্যবধান দাঁড়াবে ৫৮০ টাকা। আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের বেতন হবে ৪০ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৪১ হাজার ৬০০ টাকা। সে ক্ষেত্রে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ৮০০ টাকা।

নতুন প্রজ্ঞাপনের ৫ ও ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বেতন নির্ধারণ করে নতুন নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ৫০, ৭৫ ও ১০০ শতাংশ সুবিধা কার্যকরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কর্মচারীদের অভিযোগ, এই পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের সময়ই গ্রেডভিত্তিক বেতনের স্বাভাবিক ক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

পদোন্নতি পেলেও কমতে পারে মোট আয়

নতুন কাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়েও অসংগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্মচারীরা। তাঁদের দেওয়া একটি হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা ১০ বছর চাকরি পূর্ণ করার পর নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে তাঁর মূল বেতন ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ মূল বেতন বাড়বে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

কিন্তু গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় মোট আয় কমে যেতে পারে। দশম গ্রেডে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা হয় ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা। অন্যদিকে, নবম গ্রেডে ৫১ হাজার টাকা মূল বেতনের ওপর ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা হয় ২২ হাজার ৯৫০ টাকা।

অর্থাৎ পদোন্নতির পর মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমবে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এতে মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যেতে পারে। কর্মচারীদের আশঙ্কা, একই ধরনের সমস্যা অন্য গ্রেডেও দেখা দিতে পারে।

উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জ্যেষ্ঠতা ও বৈষম্যের আশঙ্কা

উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণের নিয়ম নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের অভিযোগ, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যাঁদের চাকরির বয়স আট বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যাঁদের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরা উভয়েই ১ জুলাই থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।

এতে একই গ্রেডের জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মকর্তার বেতন সমান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার বেতন নির্ধারণের ধাপের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মকর্তার বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়ের ব্যবধান থেকেও ভবিষ্যতে বেতনবৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাঁদের দাবি, দুবার উচ্চতর গ্রেড পেতে একজন জুনিয়র কর্মকর্তার ১৪ বছর লাগলেও একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে লাগতে পারে ১৬ বছর। তাঁদের মতে, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণের নিয়ম স্পষ্ট না হলে এ ধরনের অসংগতি দূর করা কঠিন হবে।

আইবাস++-এর জটিলতায় শেষ হয়নি বেতন নির্ধারণ

নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইবাস++ ব্যবস্থার জটিলতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, এ কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি ও নতুন কর্মকর্তাদের অনভিজ্ঞতার কারণে অনেকের বেতন নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

আইবাস++ সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। বাজেট ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, বিল তৈরি, অর্থ পরিশোধ এবং সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখার কাজে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো তা শেষ করতে পারেননি। তাঁদের অভিযোগ, বেতন নির্ধারণের নিয়ম প্রয়োগ করতে গিয়ে গ্রেডের স্বাভাবিক ক্রম, উচ্চতর গ্রেড এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাবে অসংগতি দেখা দিয়েছে।

অসংগতি সমাধানে আবেদন, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি

নতুন কাঠামোর জটিলতা নিয়ে জানতে চাইলে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানাশোনার ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্যাগুলোর সমাধানে তাঁরা কাজ করছেন এবং অতীতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিচ্ছেন।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে বর্ধিত বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা থাকায় দ্রুত অসংগতিগুলো দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, অর্থ বিভাগ বেতন নির্ধারণের নিয়ম, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনুক।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, নিয়মগুলো স্পষ্ট করে অসংগতি দূর করা গেলে জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিরোধ কমবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে সবার বেতন নির্ধারণ এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াও সহজ হবে। তবে ১ নভেম্বরের আগে সব সমস্যার সমাধান না হলে অনেকের বর্ধিত বেতন পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত-এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: তারেক রহমান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত-এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজের রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা সহ্য করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, আটক ও রিমান্ডের ঘটনা তুলে ধরার পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’ তিনি আরও লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটাও সহ্য করতে পারছে না।’

রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সহযোদ্ধাদের মধ্যে অনেককেই জীবিকা নির্বাহের জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। তিনিও কিছুদিন প্রবাসীদের দেওয়া অর্থে খাবার, বাসাভাড়া ও গাড়িভাড়া মিটিয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, পরে ওই নির্ভরশীলতা থেকে বের হয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন। বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে তাঁকে দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ফল ও মধুর ব্যবসা করার কথাও তুলে ধরেন।

নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, ২০১৮ সালের আন্দোলনের লিফলেট, মোদিবিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারণায় জনপ্রিয় হওয়া লিফলেট তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল।

নিজের আটক, গুম ও রিমান্ডের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন। একই বছরের ১৪ জুলাই দ্বিতীয়বার গুম হন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি তাঁকে আটক করে এবং পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে থাকার কথা জানান তিনি।

জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বিরোধকে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখতে চান না উল্লেখ করে তারেক রহমান লেখেন, ‘যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নেই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ।’

পোস্টে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলার বিরোধিতা করা হয়েছিল। এর বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে জামায়াতের নেতাদের ভারত-সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তিনি বিভিন্ন দাবি করেন। তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

বিএনপির নেতাদের পদায়ন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। নিজের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনায় বিচলিত নন জানিয়ে তিনি জুলাই-সম্পর্কিত মামলায় কারাগারে থাকা কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকলে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জামিনে থাকা অবস্থায় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা সম্ভব। তাঁর মতে, জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর একটি উপায় হতে পারে এ উদ্যোগ।

পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান বাংলাদেশপন্থি দল, জাতীয়তাবাদী দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি তাঁকে সঙ্গে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশ করেন তিনি।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় গাফিলতি নয়, সরকারের প্রতি নাহিদ ইসলামের আহ্বান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় গাফিলতি নয়, সরকারের প্রতি নাহিদ ইসলামের আহ্বান

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসায় প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কোনো ধরনের গাফিলতি যেন না হয়, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালায় জুলাই আন্দোলনে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করা মো. বাপ্পিকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফসল। হাজারো মানুষের জীবনদান, অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে নির্বাচন ও সরকারের ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি হয়েছে। তাই রাজনীতিসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আহত যোদ্ধাদের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেন তাঁদের চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আহত যোদ্ধাদের আর্থিক সহযোগিতা, পুনর্বাসন, তাঁদের পরিবারের সহায়তা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ছিল। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব, রাষ্ট্রের পক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি করা সম্ভব।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আহতদের জন্য অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হলো সেগুলোর যথাযথ দেখভাল করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধারা এ দেশের বীর। তাঁদের বীরত্বের কারণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। তাঁদের ত্যাগের কারণেই আজ মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারছে। তাঁদের যেন কখনো ভুলে যাওয়া না হয়। অনেকেই হয়তো আর সুস্থ জীবন ফিরে পাবেন না। তাই রাষ্ট্র হিসেবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল্লাহ হায়দার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আলী নাসের খান এবং গাজীপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম