খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

রিকশাচালকের ছেলে নাজমুলের সুইডেনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে পাশে প্রধানমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রিকশাচালকের ছেলে নাজমুলের সুইডেনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে পাশে প্রধানমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভোরের আলো ফোটার আগেই রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন আয়নাল হক। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারাদিন প্যাডেল ঘুরিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত সংসার। অভাবের সংসারেও দুই ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি তিনি। সেই রিকশাচালক বাবার বড় ছেলে মো. নাজমুল হাসান এবার সুইডেনে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউনিভার্সিটি অব স্কোভডেতে ‘মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্স’ প্রোগ্রামে শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি পেয়েছেন তিনি। তবে বিদেশযাত্রার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নাজমুল বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের আয়নাল হক ও নারজিনা খাতুনের বড় ছেলে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় তার সংগ্রামী জীবনের কথা শুনে উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন।

নাজমুলের সুইডেনযাত্রার গল্প কেবল একটি বৃত্তি পাওয়ার ঘটনা নয়; এর পেছনে রয়েছে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, বাবার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নিজের অদম্য অধ্যবসায়।

খামারকান্দি গ্রামের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা নাজমুল ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন, সংসার চালাতে তার বাবাকে কতটা পরিশ্রম করতে হয়। রিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ জোগানোর পাশাপাশি দুই ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা ছিল আয়নাল হকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবু অর্থকষ্টের কারণে সন্তানদের শিক্ষাজীবন থেমে যাক, তা চাননি তিনি।

বাবার সেই সংগ্রাম কাছ থেকে দেখেছেন নাজমুলও। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কখনো রাজমিস্ত্রির সহযোগী, কখনো হোটেল কিংবা দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছেন। দিনের বেলায় শ্রম দিয়েছেন, আর সুযোগ পেলেই বই নিয়ে বসেছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও অধ্যবসায় ধরে রেখেছেন তিনি।

গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে নাজমুল একসময় ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান (বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি) বিভাগে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে স্নাতকোত্তরের থিসিস করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ থেকেই বিদেশে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন নাজমুল। দীর্ঘ চেষ্টার পর সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব স্কোভডেতে ‘মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্স’ প্রোগ্রামে শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি পান তিনি। বৃত্তি পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে অবশ্য যুক্ত হয় নতুন দুশ্চিন্তা। কারণ, টিউশন ফি ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থাকলেও বিমানভাড়া, আবাসন এবং প্রাথমিক জীবনযাত্রার খরচ বহন করার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের।

রিকশা চালিয়ে আয়নাল হকের পক্ষে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগানোই ছিল কঠিন। ফলে বহু পরিশ্রমে অর্জিত বৃত্তি পেয়েও নাজমুলের বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে নাজমুলের উচ্চশিক্ষার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেরপুরের ডা. মনজুর রশিদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী চিকিৎসক ডা. এএনএম মনোয়ারুল কাদির বিটুর মাধ্যমে তার আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানো হয়। এরপর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাজমুল। সেখানে নিজের শৈশব, পরিবারের আর্থিক সংকট, পড়াশোনার সংগ্রাম এবং সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

নাজমুলের কথা শুনে তার উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুভূতি জানিয়ে নাজমুল কালবেলাকে বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারেক রহমান তার অনুপ্রেরণার একজন মানুষ। সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজের সংগ্রামের কথা বলা এবং তার কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়া জীবনের স্মরণীয় ঘটনা।

নাজমুল জানান, তার বাবা একজন রিকশাচালক। বাবার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই তাদের পড়াশোনা এগিয়েছে। সুইডেনে শতভাগ বৃত্তি পাওয়ার পরও বিমানভাড়া ও সেখানে থাকা-খাওয়ার প্রাথমিক খরচ পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে তার কথা শুনেছেন এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই সহযোগিতা তাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

নাজমুলের বাবা আয়নাল হক বলেন, সন্তানদের পড়াশোনা করানোর জন্য তিনি সবসময় কষ্ট করেছেন। রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো সহজ ছিল না, তবু ছেলেদের পড়াশোনা বন্ধ করেননি। বড় ছেলে এত দূর যেতে পারায় তার দীর্ঘদিনের কষ্ট সার্থক হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ছেলে বিদেশে গিয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা করে দেশের জন্য কিছু করবে, এমন প্রত্যাশাও রয়েছে তার।

নাজমুলের ছোট ভাই মো. আতিক হাসানও পড়াশোনা করছেন। তিনি শেরপুর সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই ছেলেকে ঘিরেই আয়নাল হক ও নারজিনা খাতুনের স্বপ্ন।

নাজমুল তার এই পথচলায় পরিবারের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বিশেষভাবে ডা. এএনএম মনোয়ারুল কাদির বিটু, ডা. মনজুর রশিদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

খামারকান্দির মেঠোপথ থেকে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়—নাজমুলের এই যাত্রা একজন শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার গল্পের পাশাপাশি একজন রিকশাচালক বাবার ত্যাগ, মায়ের ভালোবাসা এবং সন্তানের অদম্য চেষ্টার প্রতিচ্ছবি। যে রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে আয়নাল হক বছরের পর বছর সংসারের চাকা সচল রেখেছেন, সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে ছেলের ভবিষ্যতের ভিত।

নাজমুলের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং নিজেকে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা। তার পেছনে থাকবে খামারকান্দির সেই ছোট ঘর, বাবার ঘামে ভেজা শ্রম আর পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। তার এই অর্জন আবারও মনে করিয়ে দেয়, অভাব মানুষের পথ কঠিন করে দিতে পারে, কিন্তু দৃঢ় মনোবল, মেধা ও অধ্যবসায় থাকলে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম