খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে নতুন সুযোগ, কমবে বিদেশমুখিতা ও চিকিৎসা ব্যয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে নতুন সুযোগ, কমবে বিদেশমুখিতা ও চিকিৎসা ব্যয়

যোগফল প্রতিবেদক: 

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬’ পাসের ফলে দেশে কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিকটাত্মীয়ের বাইরে ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা নিঃস্বার্থবাদী দাতার অঙ্গদানের আইনি সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগীদের বিদেশমুখিতা কমার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আইনজীবীরা।

আইন অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি নিয়ে অনুমোদিত নির্দিষ্ট হাসপাতালেই মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা যাবে। সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো জীবিত ব্যক্তি অঙ্গ বিযুক্তির ফলে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হলে নিকটাত্মীয়ের জন্য অঙ্গ দান করতে পারবেন। একই শর্তে নিঃস্বার্থবাদী দাতাও নিকটাত্মীয় নন এমন কোনো ব্যক্তিকে অঙ্গ দান করতে পারবেন।

তবে চক্ষু, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় বা নিঃস্বার্থবাদী দাতা হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নতুন আইন দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। ইমোশনাল ডোনারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নিকটাত্মীয়ের বাইরে থেকেও অঙ্গদানের আইনি ব্যবস্থা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১০ আগস্ট বিএমইউতে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের কাছ থেকে পাওয়া কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়লে এসব চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সরকারি অনুদানে বিএমইউতে ইতোমধ্যে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। একটি লিভার প্রতিস্থাপনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিদেশে চিকিৎসা নিতে গেলে এর সঙ্গে বিমানভাড়া, হোটেলসহ অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়। দেশে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

ব্রেইন ডেথ ঘোষণায় নির্দিষ্ট শর্ত

নতুন আইনে ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে হলে কিছু শর্তসাপেক্ষে তাকে অন্তত ১২ ঘণ্টা সুস্পষ্ট কারণে অবিরাম কোমা অবস্থায় থাকতে হবে।

২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুর ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষার মাধ্যমে অন্তত ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি ও অ্যানেসথেশিওলজি বিষয়ের অন্তত তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে পারবে। তবে এ কমিটির কোনো চিকিৎসক বা তার নিকটাত্মীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না।

দাতা ও গ্রহীতার বয়সসীমা

আইন অনুযায়ী, ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দাতার বয়স ২ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। জীবিত দাতার ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ বছর। বিশেষ প্রয়োজনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিল করা যাবে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতার বয়স ২ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা অঙ্গ গ্রহীতার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। কর্নিয়া, চর্ম ও টিস্যু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়।

ইমোশনাল ডোনারের যোগ্যতা

আইনে নিঃস্বার্থবাদী বা ইমোশনাল ডোনারের জন্যও নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। দাতাকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী, মানসিকভাবে সুস্থ এবং সজ্ঞানে সম্মতি প্রদানে সক্ষম হতে হবে। কোনো আর্থিক প্রলোভন বা চাপ ছাড়া স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে আগ্রহী হতে হবে। তিনি গ্রহীতার নিকটাত্মীয় না হলেও দীর্ঘদিনের পরিচিত হতে পারেন।

তবে মাদকাসক্ত, আর্থিক প্রলোভনে অঙ্গদানে আগ্রহী ব্যক্তি কিংবা সাধারণ অঙ্গদাতা হিসেবে অনুপযুক্ত কোনো ব্যক্তি নিঃস্বার্থবাদী দাতা হতে পারবেন না। এ ধরনের দাতাকে নির্ধারণ ও অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ প্রয়োজন হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, আগে আইনে দাতার সংজ্ঞা সংকীর্ণ থাকায় মূলত নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই অঙ্গদানের সুযোগ সীমিত ছিল। এ সীমাবদ্ধতা দূর করতে তিনি হাইকোর্টে রিট মামলা করেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পর যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনারের কাছ থেকে কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহণের পথ তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন আইন পাস হয়েছে। আইনটির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং রোগীদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমবে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ

আইনের ১৮ ধারায় মানবদেহের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয়, এর বিনিময়ে কোনো সুবিধা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিকটাত্মীয়তার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, কাউকে এমন তথ্য দিতে উৎসাহিত বা প্ররোচিত করা কিংবা ভয় দেখানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এ ছাড়া আইনের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো চিকিৎসক এ আইনের অধীনে অপরাধে দণ্ডিত হলে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক দেওয়া তার নিবন্ধন বাতিল হবে। কোনো হাসপাতালে এ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি বাতিলের পাশাপাশি অর্থদণ্ড আরোপ এবং হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করা যেতে পারে।

নতুন আইন কার্যকর হলে দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম