নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৮
ছবিতে কিশোরগ্যাং সদস্যরা
ছবিতে কিশোরগ্যাং সদস্যরা
নিহত দুই শিশু
যোগফল প্রতিবেদক:
একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় অপশক্তি ও ‘দুষ্টু চক্র’ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে এর দায় ওই অপশক্তিকেই নিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।’
একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের অন্যায় কর্মকাণ্ডে শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব দরবারেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অথচ তারা অন্যদের নসিহত করে বেড়ায়। আগে নিজেদের ঘর সামলে পরে অন্যদের উপদেশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি দল একাত্তরের সেই ‘বর্বর রূপে’ ফিরে গিয়ে আবারও হত্যা ও নারী নিগ্রহে মেতে উঠেছে। সময় এসেছে জনসম্মুখে তাদের ‘আসল মুখোশ’ উন্মোচনের।
দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে জনগণের কণ্ঠরোধ করে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পরপরই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলমান পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১ হাজার ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ডায়ালিসিস সেবা চালুর ব্যবস্থাও করা হবে।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ স্থায়ীভাবে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। এর ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে এবং অতিরিক্ত এক লাখ মেট্রিক টন শস্য উৎপাদন বাড়বে বলে জানান তিনি।
প্রকল্পটির আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সকালে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে এটিই তার প্রথম সফর।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যান। সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনীতে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সরাসরি কার্ড গ্রহণ করবেন।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন