খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা: আপস, মাকছুদার জামিন; নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা: আপস, মাকছুদার জামিন; নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আপস করেছেন নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আপসনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক সন্দেহের বশে জামাই জি এম নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তবে আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে এখন তিনি আপস করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে আসামিপক্ষের সঙ্গে আপসনামায় স্বাক্ষর করেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে নারী বিবেচনায় মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আপসনামায় এস এম মাসুম বিল্লাহ ও মো. আব্দুল হামিদ মোড়লকে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হওয়ার পর তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গেও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে তারা সংসারজীবন পরিচালনা করছিলেন।

আপসনামায় মাসুম বিল্লাহ বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে ঢাকার নিজ বাসভবনে তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। জামাই জি এম নজরুল ইসলামের ফোন পেয়ে তিনি বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাসায় গিয়ে মেয়ের আত্মহত্যার বিষয়টি জানতে পারেন।

এরপর জামাইয়ের বাসায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিক সন্দেহের বশে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে শেরেবাংলানগর থানায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা করেন বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়। আপসনামায় বলা হয়েছে, আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তার পরিবারের কারও কোনো আপত্তি নেই। একই সঙ্গে উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিচারাধীন মামলায় উভয়পক্ষ নির্লিপ্ত থেকে বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আপসনামাটি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদী আপস করে স্বাক্ষর করেছেন। কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। শুনানিতে বাদী উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। আদালত মাকছুদার জামিন দিলেও গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। এ বিষয়ে তারা আবার জামিন চাইবেন অথবা উচ্চ আদালতে যাবেন।

তবে মামলাটি আইন অনুযায়ী আপসযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা আপসযোগ্য নয়। বাদী আপস করলেই মামলা শেষ হয়ে যাবে না। তারা আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেছেন। নারী বিবেচনায় মাকছুদার জামিন দেওয়া হলেও গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর হয়েছে।

পিপি আরও বলেন, বাদীকে চাপ প্রয়োগ করে আপস করানো হয়েছে কি না, তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।

এর আগে গত সোমবার দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় মাঝে মাঝে রাত কাটাতে হতো।

পুলিশ আদালতকে আরও জানিয়েছিল, তদন্তে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে এমপি জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষে কয়েকটি চিরকুটও পাওয়া যায়।

ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতেই নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাকছুদাও এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে ছিলেন।

 তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম 

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৮

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৮

ছবিতে কিশোরগ্যাং সদস্যরা

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজনকে আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ছয়জনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার এবং ৬০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে, বুধবার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং অপর নয়জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় ২১ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় পাঁচজন, চরজব্বর থানায় ছয়জন, চাটখিল থানায় আটজন এবং কবিরহাট থানায় ছয়জনকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় আটক ১১ জনের মধ্যে ছয়জনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার এবং অপর পাঁচজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

যোগফল | অনলাইন | নিউজ ডেস্ক 

নোয়াখালীতে খাবার অপচয় রোধে মতবিনিময় সভা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নোয়াখালীতে খাবার অপচয় রোধে মতবিনিময় সভা
নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর ১০টির বেশি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় প্রতিদিনের খাবার অপচয়ের হিসাব রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপচয়ের পরিমাণ ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরা, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার অর্ডারে উৎসাহিত করা হয়।  

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে মাইজদীর নাইস গেস্ট হাউজ-২-এ খাদ্যক্ষয় ও অপচয়বিষয়ক আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানি বাংলাদেশ ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক প্রান যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার অর্ডার, বেশি রান্না এবং অবশিষ্ট খাবার সংরক্ষণ না করায় অপচয় বাড়ছে। কোনো কোনো হোটেলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি বা তারও বেশি খাবার নষ্ট হয়। অপচয় কমাতে ভোক্তা সচেতনতা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পরিমাণ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে খাদ্য অপচয় রোধ সম্ভব নয়। শৈশব থেকেই খাবারের মূল্য ও অপচয় রোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, এনজিও বন্ধন'র ইডি আমিনুজ্জামান মিলন, প্রান'র কর্মসূচি সমন্বয় প্রধান উম্মে সালমা পপি, পপিপার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান'র মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার নুরে আলম সিদ্দিকি রনি, প্রথম আলো নোয়াখালীর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি।  

সভা শেষে রেস্তোরাঁ প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘ফুড ওয়েস্ট’ পোস্টার ও টেবিল স্ট্যান্ড বিতরণ করা হয়। এসবের মাধ্যমে প্রতিদিন ও মাসে কী পরিমাণ খাবার অপচয় হচ্ছে, তার হিসাব রাখা এবং ভোক্তাদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যোগফল | অনলাইন | নিউজ ডেস্ক 

সাঁথিয়ায় ভিমরুলের কামড়ে প্রাণ গেল ২ শিশুর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাঁথিয়ায় ভিমরুলের কামড়ে প্রাণ গেল ২ শিশুর

নিহত দুই শিশু

এম এ হাই |সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা :

পাবনার সাঁথিয়ায় ভিমরুলের কামড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো উপজেলার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গয়েসবাড়ি গ্রামের নয়ন হোসেনের ছেলে রোহান হোসেন (৩) এবং একই এলাকার সুজন হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন (৪) ।

নিহতদের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রোহান ও আরাফাত তারা দুজন বাড়ির পাশে বাগানের মধ্যে খেলা করার সময় ভিমরুলের মাটির বাসায় পাট কাঠি দিয়ে আঘাত করার ফলে বিপুল পরিমাণ ভিমরুল বাচ্চা দুটিকে আক্রমণ করে। বাচ্চাদের চিৎকারে পাশে থাকা একটি বাচ্চার মা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও আক্রমন করে ভিমরুল। কোনমতে পরবর্তীতে বাচ্চা দুটিকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান সেই মা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। 

পরেদিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাচ্চা দুটির মৃত্যু হয়। এঘটনায় একটি শিশুর মা গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

যোগফল | অনলাইন | নিউজ ডেস্ক