খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

লামা'র ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলে মদদের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লামা'র ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলে মদদের অভিযোগ

ছবিতে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদন | যোগফল অনলাইন :

বান্দরবানের লামা বন বিভাগে সরকারি বনাঞ্চল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটা, কাঠ পাচার এবং সরকারি বনভূমি দখলের সুযোগ করে দিতে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ ঘটনায় লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও বনভূমি দখলকারীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

নিয়ম-নীতির বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট এলাকায় অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই মূল্যবান গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে গর্জন, সেগুন, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কেটে নেওয়া কাঠের একটি অংশ সরকারি বৈধ কাগজপত্র ও চালান ছাড়াই বিভিন্ন পথে পরিবহন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে অভিযোগ পৌঁছালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে কাঠ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অনিয়মের বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আপত্তি তুললে তাকে বদলি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সঙ্গে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

বনভূমির পরিচয় ও জমি দখল নিয়ে প্রশ্ন
লামা বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি বনভূমি দখল নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের রেকর্ডভুক্ত জমির শ্রেণি, সীমানা কিংবা পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু জায়গা দখলের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি বনভূমিকে ব্যক্তি মালিকানার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ভূমি রেকর্ড, বন বিভাগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
লামা বন বিভাগের এসব অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান ও কার্যকর তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে সিএফ মিহির কুমার দো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অনিয়মে নীরব থেকেছেন—এমন দাবি নিশ্চিত করতে স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকি
অভিযোগকারীদের মতে, অবৈধভাবে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার অব্যাহত থাকলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি লামার বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, পাহাড়ি এলাকায় মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে এসব পরিবেশগত প্রভাবের মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দোর বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বনভূমির সীমানা ও রেকর্ড যাচাই এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা বা সরকারি সম্পদ দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি বনসম্পদ রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শফিকুল ইসলাম বাবু | বিশেষ প্রতিনিধি, যোগফল অনলাইন 

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম