খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

মেসির ছায়ায় আড়ালে রোমান ভেগা, আর্জেন্টিনার নতুন তারকা হওয়ার অপেক্ষায়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেসির ছায়ায় আড়ালে রোমান ভেগা, আর্জেন্টিনার নতুন তারকা হওয়ার অপেক্ষায়

আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পেয়েছেন রোমান ভেগাভেগার ইনস্টাগ্রাম

যোগফল প্রতিবেদন:

বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলের। তবে এই সিরিজকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার নতুন অধ্যায় নিয়ে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সমর্থকদের আগ্রহ ছিল—মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা কেমন হবে?

কিন্তু বাস্তবে সেই আলোচনার বড় অংশই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মেসিকে ঘিরে। কারণ তিনটি প্রীতি ম্যাচের একটিতে কিংবদন্তি মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে নতুনদের নিয়ে আলোচনার জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এর মধ্যেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ২২ বছর বয়সী লেফট ব্যাক রোমান ভেগা। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আলোচনায় কিছুটা আড়ালে পড়ে গেলেও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের চোখে এই তরুণই স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক।

নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রোমান ভেগা:

আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলেই সাধারণত সবার নজর থাকে নতুন মুখগুলোর দিকে। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার সেই আগ্রহ আরও বেশি ছিল। কারণ সবাই অপেক্ষায় ছিলেন মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার নতুন দল দেখার জন্য।

কিন্তু মেসিকে স্কোয়াডে রাখা এবং তাঁর বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তের কারণে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বদলে গেছে।

তবুও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো রোমান ভেগাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের মতে, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা ভেগা আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, যেখানে ভবিষ্যতের জন্য নতুন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন রয়েছে।

কোন পজিশনে খেলেন ভেগা?

রোমান ভেগার মূল পজিশন লেফট ব্যাক। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি।

আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো। কিন্তু তাঁর বয়স এখন ৩৪ বছর। ফলে আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই পজিশনে নতুন কাউকে তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সম্ভবত সেই চিন্তা থেকেই ভেগাকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডেকেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

বাঁ পায়ের এই ফুটবলারের অন্যতম শক্তি তাঁর গতিশীলতা। উইং ধরে দ্রুত ওঠানামা করতে পারেন তিনি। আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে তাঁর।

গতি, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা, বল নিয়ন্ত্রণ, পায়ের কাজ এবং শক্তিশালী শট—সব মিলিয়ে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন ভেগা।

‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ থেকে উঠে আসা

রোমান ভেগার বেড়ে ওঠা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা ফুটবলার উপহার দিয়েছে ক্লাবটি।

এ কারণেই আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সকে অনেক সময় ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ বলা হয়।

২০০৪ সালে বুয়েনস এইরেসে জন্ম নেওয়া ভেগা এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে মূল দলে জায়গা করে নেন। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে ক্লাবটির হয়ে অভিষেক হয় তাঁর।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁকে এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠানো হয়। এজন্য বার্সেলোনা ৫০ হাজার ইউরো খরচ করেছিল। চুক্তিতে ৪৫ লাখ ইউরো দিয়ে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগও ছিল। কিন্তু কাতালান ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি।

বার্সেলোনার ‘বি’ দলের হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবার আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে ফিরে আসেন ভেগা।

এরপর ধীরে ধীরে ক্লাবটির মূল একাদশে নিয়মিত হয়ে ওঠেন তিনি। জুনিয়র্সের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা। করেছেন একটি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও তিনটি।

বয়সভিত্তিক দলেও নজর কেড়েছেন

ক্লাব পর্যায়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলেও জায়গা করে নিয়েছেন ভেগা।

অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে পাঁচটি এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা গেছে এই তরুণকে।

বয়সভিত্তিক ফুটবলে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর এবার এসেছে জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পালা।

৯০ লাখ ডলারে জেনিতে ভেগা

২০২৫ সালের জুলাইয়ে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স থেকে ৯০ লাখ ডলারে রোমান ভেগাকে দলে নেয় রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। তাঁর সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে ক্লাবটি।

জেনিতে যোগ দেওয়ার পর শুরুতে মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি ভেগা। তবে সময়ের সঙ্গে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন তিনি।

গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগে জেনিতের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তাঁর ম্যাচ সংখ্যা ছিল ২৩।

এ মৌসুমে জেনিতের হয়ে রাশিয়ান সুপার কাপও জিতেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ক্লাবটির হয়ে মোট ৩৪টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর।

ভেগাকে চেয়েছিল রিভার প্লেটও

রোমান ভেগার পারফরম্যান্সে নজর পড়েছিল আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় ক্লাব রিভার প্লেটেরও।

জেনিতে যোগ দেওয়ার মাত্র ছয় মাস পর তাঁকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। তবে দুই পক্ষের আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রূপ নেয়নি।

এরপর জেনিতেই নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যান ভেগা। আর সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দরজা।

জাতীয় দলে ডাক পেয়ে আবেগঘন বার্তা

জাতীয় দলের স্কোয়াডে প্রথমবার ডাক পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ভেগা।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লিখেছেন—‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’

মাত্র কয়েকটি শব্দেই বোঝা যায়, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি পরার স্বপ্ন কতটা বড় ছিল তাঁর কাছে।

এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিন্তু সামনে আরও বড় পরীক্ষা।

মেসির ছায়া পেরিয়ে নিজের জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ

রোমান ভেগার জাতীয় দলে অভিষেকের মুহূর্তটি হতে যাচ্ছে বিশেষ। কারণ একই সময়ে আর্জেন্টিনা খেলবে মেসিকে বিদায় জানানোর আবেগঘন ম্যাচ।

ফলে মেসিকে ঘিরে থাকা বিশাল আলোচনার মধ্যে ভেগার মতো নতুনদের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ কিছুটা আড়ালে চলে যেতে পারে।

তবে মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে খুব দ্রুতই সেই আলো নিজের দিকে টেনে নিতে পারবেন ভেগা।

আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে ভবিষ্যতের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় খুঁজছে স্কালোনির দল। সেই জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ এখন ভেগার সামনে।

তিন প্রীতি ম্যাচেই পরীক্ষা

এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা খেলবে তিনটি প্রীতি ম্যাচ।

৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বলিভিয়া। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দল খেলবে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে।

আর ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে হবে তৃতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচ। এই ম্যাচটিই মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই তিন ম্যাচে স্কালোনির নজর কাড়তে হলে ভেগাকে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে দীর্ঘমেয়াদি জায়গা করে নিতে হলে ক্লাবের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজেকে মেলে ধরতে হবে তাঁকে।

মেসির বিদায়ের আবেগের মধ্যেই আর্জেন্টিনা খুঁজছে নতুন দিনের নতুন মুখ। রোমান ভেগা সেই নতুন অধ্যায়ের একজন হতে পারেন কি না, সেটির প্রথম উত্তর মিলতে পারে আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতেই।

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম