খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

সুন্দরবন খুললেও প্রথম দিনেই জেলেদের অনীহা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সুন্দরবন খুললেও প্রথম দিনেই জেলেদের অনীহা

 যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। তবে প্রথম দিনেই বৈরী আবহাওয়া, নদীতে মরা জোয়ার, মাছ পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং দস্যুদের আতঙ্কে বনে যেতে অনীহা দেখা গেছে জেলেদের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলে নৌকার তেমন ভিড় নেই। জহর আলী মালী নামে এক জেলে অনুমতিপত্র নিতে এলেও সুন্দরবনের ভেতরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেননি। তিনি বনসংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীতে মাছ ধরার কথা জানান।

জহর আলী বলেন, প্রথম দিনে পাস নিতে এসেছেন। সুন্দরবনে দস্যুদের ভয় থাকায় বনের গভীরে যেতে চান না। সুন্দরবন পুরোপুরি দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কাছাকাছি নদীতেই মাছ ধরবেন।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দীন জানান, স্টেশনটির আওতায় ৯৫৪টি নৌযানের বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রয়েছে। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র একজন জেলে অনুমতিপত্র নিতে এসেছেন। বৃষ্টি ও নদীতে মরা জোয়ারের কারণে মাছও কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলের সংখ্যা বাড়তে পারে।

কৈখালী ও কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। দুই স্টেশন মিলিয়ে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৭ জন জেলে সুন্দরবনে অবস্থানের অনুমতি নিয়েছেন। অথচ এই দুই স্টেশনের আওতায় রয়েছে ১ হাজার ২৬টি নৌযানের বিএলসি।

তিন মাস সুন্দরবনে যেতে না পারায় অনেক জেলে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছেন। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনসংলগ্ন নদীতে নৌকার পাটাতন মেরামত করছিলেন জেলে খায়রুল সানা। তিনি জানান, মাছ ও কাঁকড়া ধরেই তাদের সংসার চলে। দীর্ঘ সময় বনে যেতে না পারায় কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। তাই দুপুরের জোয়ারে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জেলে আব্দুর বারী বলেন, একটি নৌকায় সাধারণত দুই থেকে তিনজন থাকেন। ছয় দিন পর্যন্ত বনে থেকে মাছ ও কাঁকড়া ধরে তারা ফিরে আসেন। বছরের প্রায় নয় মাস সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবিকা চলে।

তবে এবার আয় নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, দস্যুদের হাতে পড়লে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ কেউ অবৈধভাবে বনে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ ধরায় মাছ-কাঁকড়ার পরিমাণ কমে যেতে পারে।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় বন বিভাগের নজর এড়িয়ে কিছু মানুষ বনে প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরেছেন। এতে সুন্দরবনের জলজ সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তাদের আশঙ্কা। এর পাশাপাশি দস্যুদের চাঁদাবাজির ভয়ও রয়েছে।

পর্যটকও কম

জেলেদের মধ্যে অনীহা থাকলেও তিন মাস পর সুন্দরবন খুলে দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টিওএএস) সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার জানান, সংগঠনটির অধীনে ৭৫টি নৌযান রয়েছে। মঙ্গলবার খুলনা থেকে সাতটি লঞ্চ ২২০ জন পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীর পাড় থেকেও পর্যটকদের নিয়ে নৌকা সুন্দরবনের দিকে যেতে দেখা গেছে। মুন্সিগঞ্জ এলাকার মাঝি সাগর হোসেন দুই পর্যটককে নিয়ে বনের মায়ের খালের দিকে যাচ্ছিলেন।

সাগর হোসেন জানান, তিনি মাছ ধরার জন্য বনে যান না, পর্যটক নিয়ে ঘোরেন। মালঞ্চ নদী দিয়ে মায়ের খাল পর্যন্ত পর্যটকদের নিয়ে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ঘোরান। এক ঘণ্টার জন্য নেন ১ হাজার ২০০ টাকা। মঙ্গলবারই মৌসুমের প্রথম ট্রিপ নিয়ে বের হয়েছেন।

পর্যটক ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারা এসেছেন। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কাছাকাছি এসে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলে আবার যাত্রা করবেন।

পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান বলেন, তিন মাস পর মঙ্গলবার তারা পাস পেয়েছেন। এতে তারা খুশি হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, তিন মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৫৪টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব পাসের মাধ্যমে ৪ শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার বিএলসি নবায়ন করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য গলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রও প্রস্তুত রয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে পর্যটকদের উপস্থিতি কম ছিল। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এখনো যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে আবার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। এসব এলাকায় সাধারণভাবে মাছ ধরা বা প্রবেশের সুযোগ নেই। অনুমতি নিয়ে বনে গেলেও পর্যটক ও জেলেদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের পশ্চিম ও পূর্ব বিভাগের চারটি রেঞ্জে এবার ১২ হাজার নৌযানকে বিএলসি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পন্টুন মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সুন্দরবনের ক্যাম্প ও স্টেশনগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, জেলে ও বননির্ভর মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

ছবিতে গ্রেফতারকৃরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫)-কে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাইকগাছা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম