খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

মানবতার মুক্তির দিশারি মহানবী (সা.): তার আদর্শ ও শিক্ষা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মানবতার মুক্তির দিশারি মহানবী (সা.): তার আদর্শ ও শিক্ষা

যোগফল প্রতিবেদক:

রবিউল আউয়াল হিজরি সনের তৃতীয় মাস। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও কর্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ায় মুসলিম উম্মাহর কাছে মাসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় এ মাসে মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তার হিজরতের সফরও এ মাসে মদিনায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক পরিণতি লাভ করে। ফলে রবিউল আউয়াল এলে মুসলমানদের মধ্যে নবীপ্রেম, তার আদর্শ অনুসরণের আকাঙ্ক্ষা এবং মহান জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রেরণা জাগ্রত হয়।

আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে শুধু কোনো জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বমানবতার জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)

তার জীবন ছিল শান্তি, সাম্য, ন্যায়, মানবিকতা, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও উত্তম চরিত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু ইতিহাসের কোনো অধ্যায় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন সুন্দর করার চিরন্তন পথনির্দেশ।

জাহেলিয়াতের অন্ধকারে আলোর আবির্ভাব

মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে আরব সমাজে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পাপাচার, ব্যভিচার, মিথ্যাচার, হত্যা, লুণ্ঠন, মদ্যপান, জুয়া, গোত্রীয় সংঘাত ও প্রতিহিংসা সমাজজীবনকে বিপর্যস্ত করেছিল। ধর্মীয় জীবনে শিরক ও কুফরও ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

নারীসমাজ ছিল চরম অবহেলা ও অধিকারবঞ্চনার শিকার। কন্যাসন্তান জন্মকে অনেকে লজ্জার বিষয় মনে করত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর প্রথাও চালু ছিল।

এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে মানবতার মুক্তির দিশারি ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আবির্ভূত হন। তার দাওয়াত মানুষের হৃদয়কে তাওহিদ, নৈতিকতা, ন্যায় ও মানবিকতার আলোয় আলোকিত করে।

জন্ম ও জীবনধারার তাৎপর্য

প্রচলিত সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র মক্কায় রবিউল আউয়াল মাসে সোমবার মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মতারিখ হিসেবে ১২ রবিউল আউয়াল বহুল প্রচলিত হলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে। তাই জন্মতারিখের পাশাপাশি তার জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা অনুসরণ করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সুরা আল-আহযাব: ২১)

শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর ভূমিকা

মহানবী (সা.) ছিলেন শান্তি ও সহমর্মিতার মূর্ত প্রতীক। তৎকালীন আরবের বিভিন্ন গোত্রে দীর্ঘদিন ধরে হিংসা-বিদ্বেষ, সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহ চলছিল। তিনি সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি, প্রতিহিংসার পরিবর্তে ক্ষমা এবং বিভেদের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেন।

বিভিন্ন গোত্র ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি ও সন্ধির মাধ্যমে তিনি একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করেন। তার শিক্ষা ছিল—মানুষের অধিকার রক্ষা, অন্যায় ও জুলুম থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা।

নারীসমাজের মর্যাদা ও অধিকার

মহানবী (সা.) নারীজাতির মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি নারীর প্রতি উত্তম আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন এবং কন্যাসন্তানের লালন-পালনকে সম্মানের বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সে-ই, যার চরিত্র সর্বোত্তম; আর তোমাদের মধ্যে উত্তম তারাই, যারা তাদের নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করে।’ (তিরমিজি: ১১৬২)

আরেক হাদিসে নারীদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা নারীদের প্রতি উত্তম আচরণের ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নশীল হও।’ (মুসলিম: ১৪৬৮)

ইসলাম নারীদের বিবাহে সম্মতি, মোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন অধিকার প্রদান করে। একইভাবে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও এতিমদের অধিকার সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এতিমের পরিচর্যার মর্যাদা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি এবং এতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে থাকব’—এ কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি দেখিয়েছেন। (বুখারি: ৬০০৫)

সাম্য, মানবমর্যাদা ও ভ্রাতৃত্ব

মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে বংশ, গোত্র, জাতি, ভাষা বা বর্ণের ভিত্তিতে অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা দূর করেন। মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি হিসেবে তিনি তাকওয়া ও সৎকর্মকে গুরুত্ব দেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: ১৩)

বিদায় হজের ভাষণেও মহানবী (সা.) মানুষের পারস্পরিক মর্যাদা ও সাম্যের শিক্ষা দেন। জাতি, বর্ণ, ভাষা বা বংশ নয়—নৈতিকতা ও আল্লাহভীতিই মানুষের প্রকৃত মর্যাদার ভিত্তি।

আজকের সমাজে মহানবী (সা.)-এর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা

মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ মানে শুধু তাকে ভালোবাসার কথা বলা নয়; বরং তার চরিত্র ও শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুর প্রতি সম্মান এবং এতিম-দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো তার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আজকের পৃথিবীতে হিংসা, বিদ্বেষ, বৈষম্য, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিভাজন নানা রূপে দেখা যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

তার আদর্শ ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্রে বাস্তবায়িত হলে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ মানবসমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

নবীপ্রেমের প্রকৃত প্রকাশ

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত। তিনি জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে মানুষকে তাওহিদ, ন্যায়, সাম্য, শান্তি ও মানবিকতার পথে আহ্বান করেছেন। নারীকে মর্যাদা দিয়েছেন, এতিমের অধিকার রক্ষা করেছেন এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন।

তাই রবিউল আউয়ালে নবীপ্রেম প্রকাশের সর্বোত্তম উপায় শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তার সুন্নাহ ও আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা। আমাদের কথা, কাজ, পরিবার, ব্যবসা, সামাজিক আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুতে যদি মহানবী (সা.)-এর উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটে, তাহলেই তার প্রতি ভালোবাসা সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার, তার সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার এবং তার দেখানো শান্তি, সাম্য ও মানবিকতার পথে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামায় মামলা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা নামে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরহাত জাহান লিজার দায়ের করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ এবং তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এ ধরনের ভুয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অনেক নজির রয়েছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও আইনগতভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম