খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে TVET-কে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে TVET-কে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

যোগফল প্রতিবেদক:

দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে (TVET) জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিকল্প বা গৌণ শিক্ষা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে TVET-কে শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর সোবহানবাগের ড্যাফোডিল প্লাজায় ৭১ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটস ফোরামের আয়োজনে এবং ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব ও কর্মসংস্থান বিষয়ক) সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

সংলাপে বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ASSET প্রকল্প, বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জনমিতিক সুবিধাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের তাগিদ

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। তবে শুধু কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি হলেই জনমিতিক লভ্যাংশ নিশ্চিত হবে না। শিল্পখাত এবং দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রয়োজন।

এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানযোগ্যতা, উৎপাদনশীলতা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলের আহ্বান

সংলাপে TVET প্রসারের অন্যতম বাধা হিসেবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি উঠে আসে। শ্রমবাজারে কারিগরি দক্ষতার চাহিদা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এখনো প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে বেশি মর্যাদাপূর্ণ মনে করেন।

কারিগরি পেশার সামাজিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি সফল TVET গ্র্যাজুয়েট, দক্ষ টেকনিশিয়ান, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরে তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ

কারিগরি শিক্ষাকে শ্রমবাজারের উপযোগী করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, দক্ষতার মান নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে নিয়োগকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষানবিশি, ইন্টার্নশিপ ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে TVET-এর পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়।

সনদ নয়, দক্ষতাকেই সাফল্যের মাপকাঠি করার আহ্বান

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শুধু সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা অর্জনকে TVET ব্যবস্থার সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা অর্থবহ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন কি না, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন কি না, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছেন কি না এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছেন কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ জন্য প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ এবং ব্যবহারিক দক্ষতার মূল্যায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়টিও সংলাপে গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও তাদের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম দক্ষ ও কম আয়ের পেশায় কাজ করছেন।

শ্রম রপ্তানিকারক দেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে বিদেশি ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত সনদ অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে যে দেশে কর্মী পাঠানো হবে, সেই দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংলাপ থেকে TVET-কে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় প্রতিষ্ঠা, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, শিক্ষানবিশি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সনদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চ-মূল্যের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়নের সুপারিশ উঠে আসে।

বক্তারা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ, কর্মসংস্থানযোগ্য এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

ছবিতে গ্রেফতারকৃরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫)-কে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাইকগাছা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম