খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

বাবা নেই, তবু জন্মদিনে স্মৃতিতে আইয়ুব বাচ্চু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাবা নেই, তবু জন্মদিনে স্মৃতিতে আইয়ুব বাচ্চু

আয়ুব বাচ্চু নেই আট বছর। তবু ১৬ আগস্ট এলেই পরিবারে ফিরে আসে প্রিয় মানুষটির অসংখ্য স্মৃতি। একসময় এই দিনটি ঘিরে বাড়িতে থাকত কেক কাটার আয়োজন, পছন্দের খাবার আর স্বজন-বন্ধুদের আনাগোনা। এখন সেই মানুষটি নেই; আছে শুধু তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি আর গভীর শূন্যতা।

আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার, ছেলে আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব ও মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব প্রতিবছরই নিজেদের মতো করে বাবার জন্মদিন স্মরণ করেন। কেকও কাটেন। তবে সেই আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে না-পাওয়ার বেদনা ও চোখের পানি।

ছেলে আহনাফ তাজওয়ার স্ত্রীকে নিয়ে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে এবং মেয়ে ফাইরুজ সাফরা স্বামীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করেন। স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার বাংলাদেশে থাকেন এবং সুযোগ পেলে সন্তানদের কাছে গিয়ে সময় কাটান। দূরদেশে থাকলেও ১৬ আগস্ট এলেই তিনজনের মনেই ফিরে আসে একই মানুষ—তাদের ‘বাবুই’।

একসময় জন্মদিন মানেই ছিল উৎসব

বেঁচে থাকতে নিজের জন্মদিনে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করতেন আইয়ুব বাচ্চু। সন্তানরা ছোট থাকাকালে বাড়িতেই জন্মদিনের আয়োজন হতো। কেক কাটার পাশাপাশি রান্না হতো তাঁর পছন্দের খাবার।

পরবর্তীতে সন্তানরা বড় হলে জন্মদিনের আয়োজনের ধরনও বদলে যায়। স্টুডিওতে বন্ধু ও সংগীতজগতের সহযাত্রীদের সঙ্গে কেক কাটতেন তিনি। গান, আড্ডা ও আনন্দে জমে উঠত পুরো আয়োজন। একই সঙ্গে পরিবারের জন্য বাসাতেও খাবার পাঠিয়ে দিতেন।

তবে ২০০০ সালে আইয়ুব বাচ্চুর মা মারা যাওয়ার পর বদলে যায় জন্মদিন নিয়ে তাঁর অনুভূতিও। ফেরদৌস আক্তারের ভাষ্য, মা-অন্তঃপ্রাণ বাচ্চু এরপর আর আগের মতো জন্মদিন নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখাতেন না। আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে কেক কাটলেও দিনটিতে আগের মতো আনন্দ থাকত না।

সন্তানদের কাছে ছিলেন বন্ধুর মতো

আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে তাঁর ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। দুজনকেই গিটার শেখানোর পাশাপাশি স্বপ্ন দেখতেন, একদিন সন্তানদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে গিটার বাজাবেন।

ছেলে তাজওয়ারকে বাবার সঙ্গে এক মঞ্চে গিটার বাজাতে দেখা গেলেও মেয়েকে নিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বাবাকে ‘বাবুই’ বলে ডাকতেন ফাইরুজ সাফরা।

বাবার স্মৃতিচারণ করে সাফরা জানিয়েছেন, মানুষ হিসেবে বাবাকে ঘরে যেমন দেখতেন, মঞ্চেও তাঁকে তেমনই আলাদা এক জগতে ডুবে যেতে দেখেছেন। ছোট্ট গিটার হাতে নিয়ে জ্যামিং করতে করতে তিনি যেন নিজের ভুবনে হারিয়ে যেতেন।

মেয়ের হাতেও গিটার তুলে দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সাফরা তখন ও লেভেলে পড়তেন। তাঁর জন্য একটি গিটার এনে দিয়ে বাবা বলেছিলেন, একদিন তিনি বাবার সঙ্গে মঞ্চে গিটার বাজাবেন। কিন্তু সেই দিন আর আসেনি।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর সন্তানদের জীবনের বড় অপূর্ণতাগুলোর একটি হয়ে থাকে বাবার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে একই মঞ্চে দাঁড়াতে না পারা।

জন্মদিনে আরও বেশি মনে পড়ে বাবাকে

সময়ের সঙ্গে সন্তানরা বড় হয়েছেন, নিজেদের সংসার গড়েছেন এবং দেশের বাইরে স্থায়ী হয়েছেন। তবুও বাবার স্মৃতি তাদের জীবন থেকে কখনো দূরে যায়নি।

১৬ আগস্ট এলেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পুরোনো গল্প উঠে আসে। ফোনে কথা বলার সময় বাবার প্রসঙ্গ উঠলে এখনও আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মা-সন্তানের কথোপকথনে ফিরে আসে আইয়ুব বাচ্চুর নানা স্মৃতি।

বাবা নেই, কিন্তু জন্মদিনে কেক কাটা এখনও বন্ধ হয়নি। তবে সেই কেকে আগের মতো উৎসবের উচ্ছ্বাস নেই। কেক কাটার পর কেউ নীরবে স্মৃতিতে ডুবে থাকেন, কারও চোখে আসে পানি। তারপর আবার সবাই ফিরে যান নিজেদের জীবনে।

গানে-গিটারে বেঁচে আছেন আইয়ুব বাচ্চু

এবারও আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করে প্রকাশিত হচ্ছে ‘উত্তরাধিকার’ শিরোনামের একটি অ্যালবাম। এতে তাঁর গাওয়া ২০টি গান নতুন সংগীতায়োজনে পরিবেশন করছেন দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড ও একক শিল্পী।

অ্যালবামে দলছুট গেয়েছে ‘রুপালি গিটার’, আরবোভাইরাস ‘নীল বেদনা’, সোনার বাংলা সার্কাস ‘গতকাল রাতে’, শুভযাত্রা ‘চলো বদলে যাই’, ক্যালিপসো ‘চাঁদ মামা’, রকসল্ট ‘অচেনা জীবন’, ডোপামিন ‘মাধবী’ এবং এ কে রাহুল গেয়েছেন ‘মন চাইলে মন’। আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান থাকছে একক শিল্পীদের কণ্ঠে। সব গানের মাস্টারিং করেছেন ইকবাল আসিফ জুয়েল।

শিল্পী চলে গেছেন, কিন্তু থামেনি তাঁর গান ও গিটারের সুর। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসছে তাঁর সৃষ্টি। ভক্তদের ভালোবাসায় তিনি আজও বেঁচে আছেন।

পরিবারের কাছে অবশ্য তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় কিংবদন্তি গায়ক বা গিটারিস্ট নয়—তিনি এখনও তাদের কাছে সেই আপন মানুষ, ‘বাবুই’।

স্বপ্ন এগিয়ে নিতে ফাউন্ডেশন

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর তাঁর স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীলতার উত্তরাধিকার ধরে রাখতে কাজ করছে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন। ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করা এই ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় গত বছরের ৯ জুলাই।

আইয়ুব বাচ্চু শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর গান, গিটার এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে। আর তাই ১৬ আগস্ট শুধু তাঁর জন্মদিন নয়—ভক্ত ও পরিবারের কাছে এটি প্রিয় এক মানুষকে নতুন করে স্মরণ করার দিন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

ছবিতে গ্রেফতারকৃরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫)-কে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাইকগাছা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঁশখালীতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ৫ বনরক্ষীসহ আহত ৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ সদস্য ও পুলিশের এক সদস্য। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করলাশিয়া নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং পুলিশের এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে যায়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

বাঁশখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, দুপুরের দিকে বন বিভাগের আহত চার সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইফিল হক বলেন, বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সকালে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় লেয়াকত আলী ও কালুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে শর্টগান থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম