খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

পদ্মার পানি বাড়ার গতি কমলেও দুর্ভোগে অর্ধলাখ মানুষ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পদ্মার পানি বাড়ার গতি কমলেও দুর্ভোগে অর্ধলাখ মানুষ

 যোগফল প্রতিবেদক:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ৪০টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছানোয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ। কোথাও কোথাও নৌকা ও ভেলাই হয়ে উঠেছে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। পানি ঢুকে পড়ায় চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। এর আগের দিন শুক্রবার একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার।

এর আগে এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছিল। বর্তমানে পানি বৃদ্ধির হার কমলেও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার মতো পানি এখনো কমেনি।

পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রুত পানি বেড়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পানি বাড়ার ফলে দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এবং ফিলিপনগর ইউনিয়নের পদ্মার চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তবে গত দুই-তিন দিনের তুলনায় শনিবার পানি বৃদ্ধির তীব্রতা কিছুটা কমেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের চারপাশে পানি থইথই করছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলাই এখন চলাচলের একমাত্র ভরসা। ইউনিয়নের ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের ৩৫১ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মরিচ ও কলাচাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি আরও বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।

এদিকে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।

দুর্গত এলাকায় রান্নার স্থান ও নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব।

রামকৃষ্ণপুরের এক বাসিন্দা বলেন, ঘরের ভেতরে কোমরসমান পানি। পরিবারের অন্যরা উঁচু জায়গায় গেলেও তিনি মাচা বেঁধে কোনোমতে অবস্থান করছেন।

আরেক বাসিন্দা জানান, রান্নাবান্না বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে। তার পাঁচ বিঘা জমির মরিচ পানিতে তলিয়ে গেছে। চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। বয়স্করা ঘরবন্দী হয়ে আছেন এবং সাপের ভয়ও রয়েছে।

দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। কাউকে সাপে কাটলে ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন বছর দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আবারও ভারতের মাটিতে ফিরছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম। ২০২৭ সালের আইপিএলের মিনি-নিলাম ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

তবে নিলামের তারিখ ও নির্দিষ্ট ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভারতে সর্বশেষ আইপিএলের নিলাম হয়েছিল ২০২৩ সালে কোচিতে। এরপর ২০২৪ থেকে পরবর্তী তিনটি নিলাম ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলাম হয়েছে দুবাই, জেদ্দা ও আবুধাবিতে। এবার ২০২৭ আসরের মিনি-নিলাম আবারও ভারতের মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

নিলাম দেশের বাইরে আয়োজনের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় প্রতিনিধি দলের যাতায়াত, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। এতে সময় ও আয়োজন—দুই দিক থেকেই জটিলতা বাড়ে বলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই ভারতের কোনো একটি শহরে নিলাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কোন শহর নিলামের আয়োজক হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভেন্যু চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিসিআই। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে বিয়ের মৌসুম থাকায় এ সময়ে পাঁচ তারকা হোটেলে পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া নিয়েও বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

২০২৭ সালের নিলামটি মিনি-নিলাম হওয়ায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এটি আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রিকবাজ। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মেগা নিলাম আবার ভারতের বাইরে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আইপিএলের বহুল আলোচিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম নিয়েও মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি গভর্নিং কাউন্সিল। এ বিষয়ে আগামী মাসে আবারও বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্টরা। তখন নিয়মটি বহাল রাখা হবে নাকি বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক