খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

অসময়ে কাটিমনের দাপট, আমের ফলন-দামে হাসি কৃষকের মুখে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অসময়ে কাটিমনের দাপট, আমের ফলন-দামে হাসি কৃষকের মুখে

 যোগফল প্রতিবেদক:

মৌসুমি আমের বাজার শেষ হয়ে গেলেও নওগাঁর সাপাহারে এখনো জমজমাট আমের বেচাকেনা। তবে এবার বাজারে রাজত্ব করছে বারোমাসি জাতের ‘কাটিমন’ আম। মৌসুমের বাইরে এমন আমের সরবরাহ দেখে যেমন অবাক হচ্ছেন স্থানীয়রা, তেমনি ভালো ফলন ও দাম পেয়ে সন্তুষ্ট চাষিরাও।

নওগাঁর আমের বাজারে আম্রপালি, নাকফজলি, হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, ল্যাংড়া ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের মৌসুম অনেক আগেই শেষ হয়েছে। সাধারণত এরপর বাজারে আমের সরবরাহ কমে গেলেও গত কয়েক বছর ধরে সেই চিত্র বদলেছে কাটিমন জাতের আমের কারণে।

সারা বছর চাষ করা যায় বলে কাটিমনকে বারোমাসি আম বলা হয়। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি স্বাদেও আলাদা হওয়ায় মৌসুমের বাইরেও এ আমের চাহিদা রয়েছে। নওগাঁর মধ্যে সাপাহার উপজেলাতেই এ জাতের আমের চাষ ও বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর) সাপাহার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভ্যানভর্তি কাটিমন আম নিয়ে কৃষকেরা বাজারে এসেছেন। সারি সারি করে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। মৌসুমের বাইরে এমন আমের বাজার দেখে স্থানীয়দের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের কাছে বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, এখনো যেন আমের ভরা মৌসুম চলছে।

সাপাহারের হরিপুর এলাকার আমচাষি মনসুর আলী বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছেন। এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি মণ আমের দাম ৮ হাজার টাকা চাইলেও ব্যবসায়ীরা সাড়ে ৬ হাজার টাকা প্রস্তাব দিচ্ছেন। ৭ হাজার টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন। আমের মান ও প্রকারভেদে দাম কমবেশি হচ্ছে।

বালুকাডাঙ্গার চাষি রেজাউল ও সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ সময়ে অন্যান্য জাতের আম বাজারে না থাকায় কাটিমনের চাহিদা বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। আগামীতে এ জাতের আমের চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

কাটিমন আম কিনতে আসা স্থানীয় ভোক্তা প্রদীপ বলেন, এ সময় আগে কখনো এত আমের বাজার দেখেননি। চোখের সামনে সুন্দর আম দেখে বাড়ির জন্য কিনেছেন তিনি। একই কথা জানান ক্রেতা নয়ন ও সিরাজ। তাদের মতে, বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে এখনো আমের মৌসুম চলছে।

গোয়ালা ইউনিয়নের সারোগডাঙ্গা এলাকার চাষি হাফিজুর রহমান ১৬ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি মণ আম প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এখনো গাছে মুকুল রয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত আম পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

হাফিজুর রহমান জানান, ২০১৯ সালে অনুপ্রেরণামূলক একটি ভিডিও দেখে কাটিমন আম চাষে আগ্রহী হন। ২০২১ সাল থেকে তার বাগানে ফলন শুরু হয়। বারোমাসি হওয়ায় তার বাগানে সারা বছর ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।

নিশ্চিন্তপুর এলাকার চাষি নাসির উদ্দিনও ২০১৯ সালে কাটিমনের চারা লাগান। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা এই চাষে সফলতা পান ২০২১ সালে। গত বছর ১৫ বিঘা জমিতে চাষ করলেও এবার তা বাড়িয়ে ৩৭ বিঘা করেছেন তিনি। তার বাগানে নয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমানে বাজারে আমের মানভেদে প্রতি মণ ৬ হাজার ৩০০ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে।

টেংরা কুড়ি গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন ৬০ বিঘা জমিতে কাটিমন আমের বাগান করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণ, কখনো ৩০ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত ফলন হয়। বর্তমানে প্রতি মণ আম ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এবার তার বাগান থেকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগে অফ সিজনে কাটিমন আমের এত বড় বাজার দেখা যায়নি। এবার সরবরাহ বেড়েছে। বাজারে অন্য জাতের আম না থাকায় কাটিমনের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আগামীতে আরও কৃষক এ জাতের আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাপলা খাতুন বলেন, বর্তমানে উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কাটিমন আম চাষ হচ্ছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ৯৭ হেক্টর। ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, সাপাহারের পাশাপাশি পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রাণীনগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাটিমন আমের চাষ হচ্ছে। চলতি বছর জেলায় মোট ২৫৫ হেক্টর জমিতে এ জাতের আম চাষ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১৯০ হেক্টর।

তিনি জানান, অন্যান্য জাতের আম সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে পরিপক্ব হলেও কাটিমনের বিশেষত্ব হলো কৃষকেরা বছরে দুই থেকে তিনবার নিজেদের সুবিধামতো এ আম উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারেন। নওগাঁ থেকে এ আম দেশের বিভিন্ন সুপারশপের পাশাপাশি বিদেশেও যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কাটিমন আমের হেক্টরপ্রতি ফলন ১২ থেকে ১৫ টন হতে পারে। ২৫৫ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬০ থেকে ৩ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতি কেজি আম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। গড় মূল্য ১৮০ টাকা হিসেবে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, কাটিমন আম সারা বছর চাষ করা যায় এবং এতে কৃষকেরা ভালো লাভও পাচ্ছেন। এ কারণে গত বছরের তুলনায় এবার এ জাতের আমের চাষ বেড়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

নওগাঁয় মোট আমবাগানের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর। মৌসুমি জাতের আমের বাজার জুনের মধ্যেই অনেকটা শেষ হয়ে গেলেও কাটিমনের কারণে এবার অফ সিজনেও জেলার বাজারে আমের সরবরাহ ও বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন বছর দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আবারও ভারতের মাটিতে ফিরছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম। ২০২৭ সালের আইপিএলের মিনি-নিলাম ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

তবে নিলামের তারিখ ও নির্দিষ্ট ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভারতে সর্বশেষ আইপিএলের নিলাম হয়েছিল ২০২৩ সালে কোচিতে। এরপর ২০২৪ থেকে পরবর্তী তিনটি নিলাম ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলাম হয়েছে দুবাই, জেদ্দা ও আবুধাবিতে। এবার ২০২৭ আসরের মিনি-নিলাম আবারও ভারতের মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

নিলাম দেশের বাইরে আয়োজনের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় প্রতিনিধি দলের যাতায়াত, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। এতে সময় ও আয়োজন—দুই দিক থেকেই জটিলতা বাড়ে বলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই ভারতের কোনো একটি শহরে নিলাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কোন শহর নিলামের আয়োজক হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভেন্যু চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিসিআই। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে বিয়ের মৌসুম থাকায় এ সময়ে পাঁচ তারকা হোটেলে পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া নিয়েও বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

২০২৭ সালের নিলামটি মিনি-নিলাম হওয়ায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এটি আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রিকবাজ। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মেগা নিলাম আবার ভারতের বাইরে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আইপিএলের বহুল আলোচিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম নিয়েও মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি গভর্নিং কাউন্সিল। এ বিষয়ে আগামী মাসে আবারও বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্টরা। তখন নিয়মটি বহাল রাখা হবে নাকি বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক