খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

সুন্দরবন খুললেও প্রথম দিনেই জেলেদের অনীহা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সুন্দরবন খুললেও প্রথম দিনেই জেলেদের অনীহা

 যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। তবে প্রথম দিনেই বৈরী আবহাওয়া, নদীতে মরা জোয়ার, মাছ পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং দস্যুদের আতঙ্কে বনে যেতে অনীহা দেখা গেছে জেলেদের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলে নৌকার তেমন ভিড় নেই। জহর আলী মালী নামে এক জেলে অনুমতিপত্র নিতে এলেও সুন্দরবনের ভেতরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেননি। তিনি বনসংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীতে মাছ ধরার কথা জানান।

জহর আলী বলেন, প্রথম দিনে পাস নিতে এসেছেন। সুন্দরবনে দস্যুদের ভয় থাকায় বনের গভীরে যেতে চান না। সুন্দরবন পুরোপুরি দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কাছাকাছি নদীতেই মাছ ধরবেন।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দীন জানান, স্টেশনটির আওতায় ৯৫৪টি নৌযানের বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রয়েছে। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র একজন জেলে অনুমতিপত্র নিতে এসেছেন। বৃষ্টি ও নদীতে মরা জোয়ারের কারণে মাছও কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলের সংখ্যা বাড়তে পারে।

কৈখালী ও কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। দুই স্টেশন মিলিয়ে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৭ জন জেলে সুন্দরবনে অবস্থানের অনুমতি নিয়েছেন। অথচ এই দুই স্টেশনের আওতায় রয়েছে ১ হাজার ২৬টি নৌযানের বিএলসি।

তিন মাস সুন্দরবনে যেতে না পারায় অনেক জেলে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছেন। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনসংলগ্ন নদীতে নৌকার পাটাতন মেরামত করছিলেন জেলে খায়রুল সানা। তিনি জানান, মাছ ও কাঁকড়া ধরেই তাদের সংসার চলে। দীর্ঘ সময় বনে যেতে না পারায় কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। তাই দুপুরের জোয়ারে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জেলে আব্দুর বারী বলেন, একটি নৌকায় সাধারণত দুই থেকে তিনজন থাকেন। ছয় দিন পর্যন্ত বনে থেকে মাছ ও কাঁকড়া ধরে তারা ফিরে আসেন। বছরের প্রায় নয় মাস সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবিকা চলে।

তবে এবার আয় নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, দস্যুদের হাতে পড়লে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ কেউ অবৈধভাবে বনে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ ধরায় মাছ-কাঁকড়ার পরিমাণ কমে যেতে পারে।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় বন বিভাগের নজর এড়িয়ে কিছু মানুষ বনে প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরেছেন। এতে সুন্দরবনের জলজ সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তাদের আশঙ্কা। এর পাশাপাশি দস্যুদের চাঁদাবাজির ভয়ও রয়েছে।

পর্যটকও কম

জেলেদের মধ্যে অনীহা থাকলেও তিন মাস পর সুন্দরবন খুলে দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টিওএএস) সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার জানান, সংগঠনটির অধীনে ৭৫টি নৌযান রয়েছে। মঙ্গলবার খুলনা থেকে সাতটি লঞ্চ ২২০ জন পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীর পাড় থেকেও পর্যটকদের নিয়ে নৌকা সুন্দরবনের দিকে যেতে দেখা গেছে। মুন্সিগঞ্জ এলাকার মাঝি সাগর হোসেন দুই পর্যটককে নিয়ে বনের মায়ের খালের দিকে যাচ্ছিলেন।

সাগর হোসেন জানান, তিনি মাছ ধরার জন্য বনে যান না, পর্যটক নিয়ে ঘোরেন। মালঞ্চ নদী দিয়ে মায়ের খাল পর্যন্ত পর্যটকদের নিয়ে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ঘোরান। এক ঘণ্টার জন্য নেন ১ হাজার ২০০ টাকা। মঙ্গলবারই মৌসুমের প্রথম ট্রিপ নিয়ে বের হয়েছেন।

পর্যটক ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারা এসেছেন। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কাছাকাছি এসে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলে আবার যাত্রা করবেন।

পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান বলেন, তিন মাস পর মঙ্গলবার তারা পাস পেয়েছেন। এতে তারা খুশি হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, তিন মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৫৪টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব পাসের মাধ্যমে ৪ শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার বিএলসি নবায়ন করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য গলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রও প্রস্তুত রয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে পর্যটকদের উপস্থিতি কম ছিল। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এখনো যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে আবার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। এসব এলাকায় সাধারণভাবে মাছ ধরা বা প্রবেশের সুযোগ নেই। অনুমতি নিয়ে বনে গেলেও পর্যটক ও জেলেদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের পশ্চিম ও পূর্ব বিভাগের চারটি রেঞ্জে এবার ১২ হাজার নৌযানকে বিএলসি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পন্টুন মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সুন্দরবনের ক্যাম্প ও স্টেশনগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, জেলে ও বননির্ভর মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন বছর দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আবারও ভারতের মাটিতে ফিরছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম। ২০২৭ সালের আইপিএলের মিনি-নিলাম ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

তবে নিলামের তারিখ ও নির্দিষ্ট ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভারতে সর্বশেষ আইপিএলের নিলাম হয়েছিল ২০২৩ সালে কোচিতে। এরপর ২০২৪ থেকে পরবর্তী তিনটি নিলাম ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলাম হয়েছে দুবাই, জেদ্দা ও আবুধাবিতে। এবার ২০২৭ আসরের মিনি-নিলাম আবারও ভারতের মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

নিলাম দেশের বাইরে আয়োজনের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় প্রতিনিধি দলের যাতায়াত, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। এতে সময় ও আয়োজন—দুই দিক থেকেই জটিলতা বাড়ে বলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই ভারতের কোনো একটি শহরে নিলাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কোন শহর নিলামের আয়োজক হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভেন্যু চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিসিআই। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে বিয়ের মৌসুম থাকায় এ সময়ে পাঁচ তারকা হোটেলে পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া নিয়েও বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

২০২৭ সালের নিলামটি মিনি-নিলাম হওয়ায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এটি আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রিকবাজ। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মেগা নিলাম আবার ভারতের বাইরে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আইপিএলের বহুল আলোচিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম নিয়েও মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি গভর্নিং কাউন্সিল। এ বিষয়ে আগামী মাসে আবারও বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্টরা। তখন নিয়মটি বহাল রাখা হবে নাকি বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক