খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

মানবতার মুক্তির দিশারি মহানবী (সা.): তার আদর্শ ও শিক্ষা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মানবতার মুক্তির দিশারি মহানবী (সা.): তার আদর্শ ও শিক্ষা

যোগফল প্রতিবেদক:

রবিউল আউয়াল হিজরি সনের তৃতীয় মাস। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও কর্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ায় মুসলিম উম্মাহর কাছে মাসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় এ মাসে মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তার হিজরতের সফরও এ মাসে মদিনায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক পরিণতি লাভ করে। ফলে রবিউল আউয়াল এলে মুসলমানদের মধ্যে নবীপ্রেম, তার আদর্শ অনুসরণের আকাঙ্ক্ষা এবং মহান জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রেরণা জাগ্রত হয়।

আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে শুধু কোনো জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বমানবতার জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)

তার জীবন ছিল শান্তি, সাম্য, ন্যায়, মানবিকতা, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও উত্তম চরিত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু ইতিহাসের কোনো অধ্যায় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন সুন্দর করার চিরন্তন পথনির্দেশ।

জাহেলিয়াতের অন্ধকারে আলোর আবির্ভাব

মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে আরব সমাজে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পাপাচার, ব্যভিচার, মিথ্যাচার, হত্যা, লুণ্ঠন, মদ্যপান, জুয়া, গোত্রীয় সংঘাত ও প্রতিহিংসা সমাজজীবনকে বিপর্যস্ত করেছিল। ধর্মীয় জীবনে শিরক ও কুফরও ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

নারীসমাজ ছিল চরম অবহেলা ও অধিকারবঞ্চনার শিকার। কন্যাসন্তান জন্মকে অনেকে লজ্জার বিষয় মনে করত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর প্রথাও চালু ছিল।

এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে মানবতার মুক্তির দিশারি ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আবির্ভূত হন। তার দাওয়াত মানুষের হৃদয়কে তাওহিদ, নৈতিকতা, ন্যায় ও মানবিকতার আলোয় আলোকিত করে।

জন্ম ও জীবনধারার তাৎপর্য

প্রচলিত সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র মক্কায় রবিউল আউয়াল মাসে সোমবার মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মতারিখ হিসেবে ১২ রবিউল আউয়াল বহুল প্রচলিত হলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে। তাই জন্মতারিখের পাশাপাশি তার জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা অনুসরণ করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সুরা আল-আহযাব: ২১)

শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর ভূমিকা

মহানবী (সা.) ছিলেন শান্তি ও সহমর্মিতার মূর্ত প্রতীক। তৎকালীন আরবের বিভিন্ন গোত্রে দীর্ঘদিন ধরে হিংসা-বিদ্বেষ, সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহ চলছিল। তিনি সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি, প্রতিহিংসার পরিবর্তে ক্ষমা এবং বিভেদের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেন।

বিভিন্ন গোত্র ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি ও সন্ধির মাধ্যমে তিনি একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করেন। তার শিক্ষা ছিল—মানুষের অধিকার রক্ষা, অন্যায় ও জুলুম থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা।

নারীসমাজের মর্যাদা ও অধিকার

মহানবী (সা.) নারীজাতির মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি নারীর প্রতি উত্তম আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন এবং কন্যাসন্তানের লালন-পালনকে সম্মানের বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সে-ই, যার চরিত্র সর্বোত্তম; আর তোমাদের মধ্যে উত্তম তারাই, যারা তাদের নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করে।’ (তিরমিজি: ১১৬২)

আরেক হাদিসে নারীদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা নারীদের প্রতি উত্তম আচরণের ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নশীল হও।’ (মুসলিম: ১৪৬৮)

ইসলাম নারীদের বিবাহে সম্মতি, মোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন অধিকার প্রদান করে। একইভাবে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও এতিমদের অধিকার সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এতিমের পরিচর্যার মর্যাদা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি এবং এতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে থাকব’—এ কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি দেখিয়েছেন। (বুখারি: ৬০০৫)

সাম্য, মানবমর্যাদা ও ভ্রাতৃত্ব

মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে বংশ, গোত্র, জাতি, ভাষা বা বর্ণের ভিত্তিতে অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা দূর করেন। মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি হিসেবে তিনি তাকওয়া ও সৎকর্মকে গুরুত্ব দেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: ১৩)

বিদায় হজের ভাষণেও মহানবী (সা.) মানুষের পারস্পরিক মর্যাদা ও সাম্যের শিক্ষা দেন। জাতি, বর্ণ, ভাষা বা বংশ নয়—নৈতিকতা ও আল্লাহভীতিই মানুষের প্রকৃত মর্যাদার ভিত্তি।

আজকের সমাজে মহানবী (সা.)-এর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা

মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ মানে শুধু তাকে ভালোবাসার কথা বলা নয়; বরং তার চরিত্র ও শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুর প্রতি সম্মান এবং এতিম-দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো তার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আজকের পৃথিবীতে হিংসা, বিদ্বেষ, বৈষম্য, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিভাজন নানা রূপে দেখা যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

তার আদর্শ ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্রে বাস্তবায়িত হলে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ মানবসমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

নবীপ্রেমের প্রকৃত প্রকাশ

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত। তিনি জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে মানুষকে তাওহিদ, ন্যায়, সাম্য, শান্তি ও মানবিকতার পথে আহ্বান করেছেন। নারীকে মর্যাদা দিয়েছেন, এতিমের অধিকার রক্ষা করেছেন এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন।

তাই রবিউল আউয়ালে নবীপ্রেম প্রকাশের সর্বোত্তম উপায় শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তার সুন্নাহ ও আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা। আমাদের কথা, কাজ, পরিবার, ব্যবসা, সামাজিক আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুতে যদি মহানবী (সা.)-এর উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটে, তাহলেই তার প্রতি ভালোবাসা সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার, তার সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার এবং তার দেখানো শান্তি, সাম্য ও মানবিকতার পথে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

যোগফল প্রতিবেদক: 

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও তার পালিত মেয়ে ইতি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিহত খালেদা আক্তারের সঙ্গে তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলার একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম তুতুকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পরপরই অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে প্রথমে হনুফা বেগম ও ইতি গ্রেপ্তার হন।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে চলন্ত একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম