খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

অবহেলিত মাতামুহুরী এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন কেন্দ্র

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অবহেলিত মাতামুহুরী এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন কেন্দ্র

যোগফল প্রতিবেদক:

প্রকৃতি যেন তার সব সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায়। একদিকে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ, অন্যদিকে নীল জলে বাগদা চিংড়ির চাষ। এর মাঝেই ধান ও সরিষার সবুজ-সোনালি ফসলের সমারোহ। নদী, উপকূল, কৃষি, মৎস্য ও লবণ—সব মিলিয়ে মাতামুহুরী হয়ে উঠতে পারে দেশের উপকূলীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক হয়ে গড়ে ওঠা মাতামুহুরীর অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি, চিংড়ি ও মৎস্যচাষ, লবণ উৎপাদন এবং উপকূলীয় ব্যবসা। বিশেষ করে চিংড়ি চাষ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি দেশের বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদেশের বাজারেও যাচ্ছে।

জানা যায়, ষাটের দশকে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর সত্তরের দশকে লোনাপানি আটকে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। ১৯৭৬ সালে এ এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষের সূচনা হয়। পরে ১৯৭৮ সালে সরকারি জমি বন্দোবস্ত এবং ১৯৮২ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে চিংড়ি চাষ আরও বিস্তৃত হয়।

বর্তমানে মাতামুহুরীর চিংড়ি দেশের বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ দেশের লবণের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। ফলে কৃষি ও মৎস্যের পাশাপাশি লবণ শিল্পও এ অঞ্চলের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। মাতামুহুরী নদী স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস হলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নোনা পানি ঢুকে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চিংড়িঘের। এ উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব কৃষিজমি ক্রমেই নানা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

চিংড়ি চাষেও রয়েছে একাধিক সমস্যা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রোগবালাই ও মড়ক, বাজারদরের ওঠানামা, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং ঘেরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেক চাষি।

চিংড়িচাষি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, চিংড়ি চাষে মাতামুহুরীর সম্ভাবনা অনেক। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ঘেরের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে থাকতে হয়। তার অভিযোগ, কখনো কখনো দুর্বৃত্তরা ঘেরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চাষিদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চান তিনি।

সাহারবিল ইউনিয়নের কৃষক বেলাল উদ্দিন বলেন, বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নদীর বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিন বলেন, মৎস্য ও চিংড়ি খাতে মাতামুহুরীর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, চলতি লবণ মৌসুম শেষ হওয়ায় মাতামুহুরী উপজেলার লবণ উৎপাদনের তথ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। আগামী মৌসুম থেকে এ উপজেলার উৎপাদনের তথ্য আলাদাভাবে পাওয়া যাবে। তবে মাতামুহুরী পৃথক উপজেলা হওয়ার আগে পুরো চকরিয়া উপজেলায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন চকরিয়া উপজেলার ওপর প্রশাসনিকভাবে নির্ভরশীল থাকার পর মাতামুহুরী পৃথক উপজেলা হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সাত ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে যোগাযোগ, অবকাঠামো, সরকারি সেবা ও বিনিয়োগে গতি আসবে।

সচেতন মহলের মতে, শুধু প্রশাসনিক মর্যাদা পেলেই মাতামুহুরীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। কৃষি, মৎস্য ও লবণভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নদী-জলাশয় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে নদী, উপকূল, কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ মাতামুহুরী ভবিষ্যতে দেশের উপকূলীয় ব্লু ইকোনমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

ছবি সংগৃহীত

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের পরিবারের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের মেয়ের জামাই ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামে পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনার পর রাতে থানায় মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামের আনোয়ার উল্লার দুই ছেলে মজিব উল্যার ও প্রয়াত শরিফ উল্যার পরিবারের মধ্যে বাড়ির জমিজমা নিয়ে বিরোধে চলছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিরোধীয় জায়গায় ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। এ সময় মজিব উল্লার মেয়ে শারমিনের চোখে আঘাত করেন প্রয়াত শরিফ উল্লার ছেলেমেয়েরা। খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে পাশের গোপালপুর ইউনিয়েনের রসূরপুর গ্রাম থেকে শারমিনের স্বামী মো.ইস্রাফিল লোকজন নিয়ে চাচা শ্বশুর শরিফ উল্লার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। হামলার সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে হামলাকারীদের দুইজনের হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মুখোশধারী ছিলেন। এ সময় অস্ত্রধারীরা শরিফ উল্লার পরিবারের নারী পুরুষ সদস্যদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। তারা শরিফ উল্লার বসতঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর চালান।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় শরিফ উল্যার ছোট ছেলে মোবারক উল্যাহ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইস্রাফিল, তার বাবা তোফায়েল আহমেদ ও শ্বশুর মজিব উল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার ও মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

ছবিতে অসুস্থ শিক্ষার্থী

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল তিনবার।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ে ছুটে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২১ শিক্ষার্থী। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরপর তিনবার শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, ৫-৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ৯জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো হয়। কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে।

চুমুর দৃশ্যের শুটিংয়ে টানা চার ঘণ্টা, অভিজ্ঞতা জানালেন কিম জি সোক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চুমুর দৃশ্যের শুটিংয়ে টানা চার ঘণ্টা, অভিজ্ঞতা জানালেন কিম জি সোক

ছবি সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক: একটি চুমুর দৃশ্যের শুটিং করতে টানা চার ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেতা কিম জি সোক। তাঁর সঙ্গে ওই দৃশ্যে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী মিন জুং।

১৫ সেপ্টেম্বর লি মিন জুংয়ের ইউটিউব চ্যানেলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন কিম জি সোক। অনুষ্ঠানে তাঁদের বন্ধুত্ব এবং নতুন নাটক ‘ওকে! লেটস গেট ডিভোর্স’-এ স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন দুই অভিনয়শিল্পী।

অনুষ্ঠানে মিথ্যা শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়ে মজার খেলায় অংশ নেন তাঁরা। একপর্যায়ে কিম জি সোক লি মিন জুংকে প্রশ্ন করেন, ‘আমার সঙ্গে চুমুর দৃশ্যের শুটিং করে বাড়ি ফেরার পর আপনার কি অপরাধবোধ হয়েছিল?’

জবাবে লি মিন জুং বলেন, ‘না।’ মিথ্যা শনাক্তকারী যন্ত্রও জানায়, তিনি সত্যি বলেছেন। এতে অবাক হয়ে কিম জি সোক বলেন, ‘সত্যিই?’ এরপর নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অপরাধবোধ হয়েছিল।’ তাঁর কথা শুনে হেসে ফেলেন লি মিন জুং।

চার ঘণ্টা ধরে চুমুর দৃশ্যের শুটিং

চুমুর দৃশ্যটির শুটিং নিয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে কিম জি সোক বলেন, ‘আপনার জন্য বিষয়টি কেমন ছিল জানি না। তবে অভিনয়ে আসার পর এত দীর্ঘ ও তীব্র চুমুর দৃশ্য এর আগে কখনো করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু চুমুর দৃশ্যটির শুটিংই আমরা চার ঘণ্টা করেছি।’

শুটিংয়ের সময় নিজের দাড়ির কারণে আরও একটি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে জানান এই অভিনেতা। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার দাড়ি ছিল। তাই লি মিন জুংয়ের মুখে আঁচড় লেগে লাল হয়ে গিয়েছিল।’

স্বামীকে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের কথা জানান কি?

অনুষ্ঠানে লি মিন জুংকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কাজের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের কথা তিনি স্বামীকে জানান কি না। উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা যদি প্রেমের সম্পর্কে থাকতাম, তাহলে হয়তো বলতাম। কিন্তু বিয়ে ও সন্তান হওয়ার পর, “আজ আমি চুমুর দৃশ্যের শুটিং করতে যাচ্ছি”—এভাবে বলা...’

কথা শেষ না করেই হেসে ফেলেন লি মিন জুং। কিম জি সোকও হেসে বলেন, ‘ওটা তো হাস্যকর হবে।’

উল্লেখ্য, লি মিন জুং ২০১৩ সালে অভিনেতা লি বিয়ং হুনকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। বর্তমানে ‘ওকে! লেটস গেট ডিভোর্স’ নাটকে কিম জি সোকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।