খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডারউইনের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ডারউইনের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস

যোগফল প্রতিবেদক:

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের সামনে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিং করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল টাইগাররা। দুই ওপেনারের শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বড় জয়ও পেয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু ভেন্যু বদলাতেই যেন বদলে গেল পুরো চিত্র। ডারউইন থেকে ম্যাকাই—কয়েক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা। আগের ম্যাচে যে ওপেনিং জুটি দলকে শক্ত ভিত দিয়েছিল, ম্যাকাই টেস্টে তারা টিকতে পারলেন মাত্র ৩ বল।

মাত্র ৬.৪ ওভারে ১২ রান তুলতেই প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের গতি, সুইং ও অতিরিক্ত বাউন্সের সামনে শুরু থেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন টাইগার ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত টেলএন্ডারদের সামান্য প্রতিরোধে আরও বড় লজ্জা এড়ালেও বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ৬৪ রানে।

প্রশ্ন উঠেছে, ডারউইনে ইতিহাস গড়া দলটি কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে পড়ল কেন? এর পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থতা

ম্যাচের আগেই উইকেটের আচরণ নিয়ে সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল। শুরুতে ব্যাটারদের জন্য উইকেট কঠিন হবে—এমন ইঙ্গিতও ছিল। টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তাই ব্যাটিংয়ের বদলে বোলিং বেছে নেন।

নতুন বলে গতি, সুইং ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের একের পর এক সমস্যায় ফেলেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম কয়েক ওভারেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে কন্ডিশন কঠিন হলেও পেশাদার ব্যাটারদের কাছ থেকে পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাই থাকে।

ভুল শট নির্বাচন

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের জন্য শুধু অস্ট্রেলিয়ার বোলিংকে দায়ী করা যাবে না। ব্যাটারদের ভুল শট নির্বাচনও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিটি বল খেলার চেষ্টা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ছেড়ে দেওয়াই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। বিশেষ করে অফ স্টাম্পের বাইরের বল নিয়ে ধৈর্য ধরতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের টপ অর্ডারের বেশ কয়েকজন ব্যাটার অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন।

তানজিদ হাসান তামিম ও মুমিনুল হকের আউটও ছিল আলোচনায়। কিছু শটকে ধারাভাষ্যকাররা ‘অলস শট’ কিংবা ‘নাথিং শট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ বলের গুণগত মানের চেয়ে ব্যাটারদের সিদ্ধান্তই অনেক ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

আত্মবিশ্বাস থেকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস?

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। কিন্তু ম্যাকাইয়ে এসে সেই আত্মবিশ্বাসই কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

উইকেটে কিছুটা সময় কাটিয়ে পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার বদলে কয়েকজন ব্যাটার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে সামান্য ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হয়—ম্যাকাইয়ে সেটিই হয়েছে।

চাপও কি প্রভাব ফেলেছে?

ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশের কাছ থেকে দ্বিতীয় টেস্টেও ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার জয়ের পর সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপও বেড়ে যায়।

সম্ভবত সেই চাপের প্রভাবও কিছুটা পড়েছে ব্যাটিংয়ে। প্রথম টেস্টে যে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল, দ্বিতীয় টেস্টের শুরুতে সেটি অনুপস্থিত ছিল। দ্রুত রান করার কিংবা পরিস্থিতির বাইরে গিয়ে কিছু করার চেষ্টা করতে গিয়ে একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন ব্যাটাররা।

সব মিলিয়ে ম্যাকাইয়ের ৬৪ রানের ইনিংস শুধু অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত বোলিংয়ের ফল নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের ভুল শট নির্বাচন, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা এবং মানসিক চাপও বড় ভূমিকা রেখেছে। ডারউইনের জয় তাই যেমন বাংলাদেশের সামর্থ্যের প্রমাণ, ম্যাকাইয়ের ব্যাটিং ধস তেমনি টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পরিস্থিতি বুঝে খেলার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন বছর দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আবারও ভারতের মাটিতে ফিরছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম। ২০২৭ সালের আইপিএলের মিনি-নিলাম ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

তবে নিলামের তারিখ ও নির্দিষ্ট ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভারতে সর্বশেষ আইপিএলের নিলাম হয়েছিল ২০২৩ সালে কোচিতে। এরপর ২০২৪ থেকে পরবর্তী তিনটি নিলাম ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলাম হয়েছে দুবাই, জেদ্দা ও আবুধাবিতে। এবার ২০২৭ আসরের মিনি-নিলাম আবারও ভারতের মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

নিলাম দেশের বাইরে আয়োজনের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় প্রতিনিধি দলের যাতায়াত, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। এতে সময় ও আয়োজন—দুই দিক থেকেই জটিলতা বাড়ে বলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই ভারতের কোনো একটি শহরে নিলাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কোন শহর নিলামের আয়োজক হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভেন্যু চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিসিআই। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে বিয়ের মৌসুম থাকায় এ সময়ে পাঁচ তারকা হোটেলে পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া নিয়েও বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

২০২৭ সালের নিলামটি মিনি-নিলাম হওয়ায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এটি আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রিকবাজ। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মেগা নিলাম আবার ভারতের বাইরে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আইপিএলের বহুল আলোচিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম নিয়েও মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি গভর্নিং কাউন্সিল। এ বিষয়ে আগামী মাসে আবারও বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্টরা। তখন নিয়মটি বহাল রাখা হবে নাকি বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক