খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ যুক্ত করায় ঢাকার সমালোচনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ যুক্ত করায় ঢাকার সমালোচনা

যোগফল প্রতিবেদক:

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে যুক্ত করায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। ঢাকার এ অবস্থানকে তিনি ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভাষা অত্যন্ত রূঢ় ও অহংকারী। এ ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিক্রির দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। সফর বাতিল হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার জানায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করার চেষ্টা করছে—এটা খুবই বিস্ময়কর। গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি বা ফেসবুক পোস্ট দিয়েছে, সেটি খুবই রূঢ় ও অহংকারী। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বীণা সিক্রি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কী ধরনের আলোচনা চলছে, তা তিনি জানেন না। তবে ভারত ও বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে তারেক রহমানের সফর নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সফরের তারিখ ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে কাজ চলছে।

তারেক রহমানের ভারত সফরকে বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই কূটনীতিক। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দুবার আমন্ত্রণ জানালেও বাংলাদেশ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সিক্রি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানের জন্য নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণটিই ছিল কোনো বিদেশি নেতার প্রথম আমন্ত্রণ। ওই আমন্ত্রণে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

সাবেক হাইকমিশনার বলেন, তখন ধারণা করা হয়েছিল, তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হতে পারে ভারত। কিন্তু সেটি হয়নি। এরপর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এরপর কয়েক সপ্তাহ আগে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও তারেক রহমানকে ভারত দ্বিতীয়বার আমন্ত্রণ জানায় বলে দাবি করেন সিক্রি। তাঁর দাবি, সেই আমন্ত্রণেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে তারেক রহমানের ভারত সফরকে যুক্ত করার বিষয়টিকেও অপ্রয়োজনীয় ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন বীণা সিক্রি।

তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং এটি শেষ হতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। বিভিন্ন দেশে প্রত্যর্পণের আবেদন করার পর সেসব প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে; অনেক ক্ষেত্রে এখনো প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এমনকি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও চূড়ান্ত স্বাক্ষরের বিষয় থাকে।

এ প্রসঙ্গে সিক্রি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে কি তারেক রহমান আগামী দুই-তিন বছর ভারতে আসতে চান না? প্রশ্নটা হলো সেটাই।’

সিক্রির মতে, দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতির জন্য তারেক রহমানের ভারত সফরের সুযোগ এখন খুবই সীমিত। সম্ভবত চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদও সফর হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তবে এখনো বাংলাদেশের পক্ষ

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিন বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরছে আইপিএল নিলাম

যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন বছর দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আবারও ভারতের মাটিতে ফিরছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম। ২০২৭ সালের আইপিএলের মিনি-নিলাম ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

তবে নিলামের তারিখ ও নির্দিষ্ট ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভারতে সর্বশেষ আইপিএলের নিলাম হয়েছিল ২০২৩ সালে কোচিতে। এরপর ২০২৪ থেকে পরবর্তী তিনটি নিলাম ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলাম হয়েছে দুবাই, জেদ্দা ও আবুধাবিতে। এবার ২০২৭ আসরের মিনি-নিলাম আবারও ভারতের মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

নিলাম দেশের বাইরে আয়োজনের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় প্রতিনিধি দলের যাতায়াত, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। এতে সময় ও আয়োজন—দুই দিক থেকেই জটিলতা বাড়ে বলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই ভারতের কোনো একটি শহরে নিলাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কোন শহর নিলামের আয়োজক হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভেন্যু চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিসিআই। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে বিয়ের মৌসুম থাকায় এ সময়ে পাঁচ তারকা হোটেলে পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া নিয়েও বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

২০২৭ সালের নিলামটি মিনি-নিলাম হওয়ায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এটি আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রিকবাজ। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মেগা নিলাম আবার ভারতের বাইরে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আইপিএলের বহুল আলোচিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম নিয়েও মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি গভর্নিং কাউন্সিল। এ বিষয়ে আগামী মাসে আবারও বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্টরা। তখন নিয়মটি বহাল রাখা হবে নাকি বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক