খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

নিজের টাকায় কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগিয়ে চলেছেন ‘ছমির স্যার’

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজের টাকায় কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগিয়ে চলেছেন ‘ছমির স্যার’

যোগফল প্রতিবেদক:

অবসর নিয়েছেন পাঁচ বছর আগে। চাইলে অবসরজীবন কাটাতে পারতেন বিশ্রামে। কিন্তু সেই পথ বেছে নেননি টাঙ্গাইলের সখীপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আতিকুল হক, যিনি সবার কাছে পরিচিত ‘ছমির স্যার’ নামে। নিজের উপার্জিত অর্থে কৃষ্ণচূড়ার চারা কিনে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন এলাকায়। বিদ্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ-মন্দির, ঈদগাহ থেকে শুরু করে শ্মশানঘাট—যেখানেই সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানেই নিজের হাতে লাগাচ্ছেন গাছ।

ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করেছেন তিনি। তাঁর লাগানো গাছ এখন ছড়িয়ে পড়েছে সখীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। কালিহাতীর পারখী ও নাগবাড়ী, ঘাটাইলের সাগরদীঘি ও ধলাপাড়া এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কয়েকটি এলাকাতেও দেখা মিলছে তাঁর লাগানো চারা।

অবসরেও থামেনি কর্মযজ্ঞ

সখীপুরের বড়চওনা গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল হক ২০২১ সালে বড়চওনা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন। অবসরের পর অলসভাবে সময় না কাটিয়ে মানুষ ও প্রকৃতির জন্য কিছু করার চিন্তা থেকেই শুরু করেন বৃক্ষরোপণ।

আতিকুল হক বলেন, ‘অবসর মানেই কর্মহীন বা অলস জীবন নয়। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সবুজ, শীতল ও সুন্দর করতেই কৃষ্ণচূড়ার চারা লাগানো শুরু করেছি। এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি চারা রোপণ করেছি। ভবিষ্যতেও এ কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

নিজের হাতে লাগানো গাছ একদিন বড় হবে, গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটবে লাল কৃষ্ণচূড়া—এই স্বপ্নই তাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ জোগায়।

তিনি বলেন, ‘মানুষ ও সমাজের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে সার্থক মনে করব। যেদিন দেখব আমার লাগানো গাছের ছায়ায় শিক্ষার্থী ও পথচারীরা স্বস্তি পাচ্ছে, সেদিন নিজেকে সফল মনে হবে।’

শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রেরণা

‘ছমির স্যারের’ এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও। বড়চওনা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসারা সাফিয়া সাউদা জানায়, স্যারের বৃক্ষরোপণ তাকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করেছে।

স্থানীয় শিক্ষকরাও তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। মহানন্দপুর বিজয় স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসান বলেন, নিজের উদ্যোগে অর্থ ও শ্রম দিয়ে বৃক্ষরোপণের এমন কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলমও আতিকুল হকের এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করেছেন।

শুধু গাছ নয়, গড়েছেন পাঠাগারও

প্রকৃতির পাশাপাশি বইয়ের প্রতিও রয়েছে ‘ছমির স্যারের’ গভীর ভালোবাসা। ২০০৮ সালে তাঁর লেখা ‘শ্যামলিমা’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ব্যক্তিগত পাঠাগার, যেখানে রয়েছে প্রায় এক হাজার বই।

খেলাধুলার সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। ফুটবল, ভলিবল ও কাবাডিতে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৫ সালে বড়চওনা-কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় সাংগঠনিক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

‘আমি থাকব না, গাছগুলো থেকে যাবে’

বৃক্ষরোপণকে প্রচারণা নয়, মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবেই দেখেন আতিকুল হক। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চারা লাগানোর সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও উৎসাহ তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে।

‘ছমির স্যার’ বলেন, ‘আমি চাই, আমার লাগানো গাছ দেখে অন্যরাও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হোক। তখনই মনে হবে আমার এই ছোট্ট উদ্যোগ সার্থক হয়েছে।’

তার স্বপ্ন, একদিন এসব কৃষ্ণচূড়া বড় হয়ে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে। সেই গাছের ছায়ায় বসবে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। হয়তো সেই দিন তিনি থাকবেন না, কিন্তু তাঁর লাগানো গাছগুলো থেকে যাবে—প্রকৃতির মাঝে রেখে যাবে তাঁর ভালোবাসার স্মৃতি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

যোগফল প্রতিবেদক: 

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও তার পালিত মেয়ে ইতি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিহত খালেদা আক্তারের সঙ্গে তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলার একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম তুতুকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পরপরই অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে প্রথমে হনুফা বেগম ও ইতি গ্রেপ্তার হন।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে চলন্ত একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম