খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাবা নেই, তবু জন্মদিনে স্মৃতিতে আইয়ুব বাচ্চু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাবা নেই, তবু জন্মদিনে স্মৃতিতে আইয়ুব বাচ্চু

আয়ুব বাচ্চু নেই আট বছর। তবু ১৬ আগস্ট এলেই পরিবারে ফিরে আসে প্রিয় মানুষটির অসংখ্য স্মৃতি। একসময় এই দিনটি ঘিরে বাড়িতে থাকত কেক কাটার আয়োজন, পছন্দের খাবার আর স্বজন-বন্ধুদের আনাগোনা। এখন সেই মানুষটি নেই; আছে শুধু তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি আর গভীর শূন্যতা।

আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার, ছেলে আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব ও মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব প্রতিবছরই নিজেদের মতো করে বাবার জন্মদিন স্মরণ করেন। কেকও কাটেন। তবে সেই আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে না-পাওয়ার বেদনা ও চোখের পানি।

ছেলে আহনাফ তাজওয়ার স্ত্রীকে নিয়ে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে এবং মেয়ে ফাইরুজ সাফরা স্বামীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করেন। স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার বাংলাদেশে থাকেন এবং সুযোগ পেলে সন্তানদের কাছে গিয়ে সময় কাটান। দূরদেশে থাকলেও ১৬ আগস্ট এলেই তিনজনের মনেই ফিরে আসে একই মানুষ—তাদের ‘বাবুই’।

একসময় জন্মদিন মানেই ছিল উৎসব

বেঁচে থাকতে নিজের জন্মদিনে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করতেন আইয়ুব বাচ্চু। সন্তানরা ছোট থাকাকালে বাড়িতেই জন্মদিনের আয়োজন হতো। কেক কাটার পাশাপাশি রান্না হতো তাঁর পছন্দের খাবার।

পরবর্তীতে সন্তানরা বড় হলে জন্মদিনের আয়োজনের ধরনও বদলে যায়। স্টুডিওতে বন্ধু ও সংগীতজগতের সহযাত্রীদের সঙ্গে কেক কাটতেন তিনি। গান, আড্ডা ও আনন্দে জমে উঠত পুরো আয়োজন। একই সঙ্গে পরিবারের জন্য বাসাতেও খাবার পাঠিয়ে দিতেন।

তবে ২০০০ সালে আইয়ুব বাচ্চুর মা মারা যাওয়ার পর বদলে যায় জন্মদিন নিয়ে তাঁর অনুভূতিও। ফেরদৌস আক্তারের ভাষ্য, মা-অন্তঃপ্রাণ বাচ্চু এরপর আর আগের মতো জন্মদিন নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখাতেন না। আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে কেক কাটলেও দিনটিতে আগের মতো আনন্দ থাকত না।

সন্তানদের কাছে ছিলেন বন্ধুর মতো

আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে তাঁর ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। দুজনকেই গিটার শেখানোর পাশাপাশি স্বপ্ন দেখতেন, একদিন সন্তানদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে গিটার বাজাবেন।

ছেলে তাজওয়ারকে বাবার সঙ্গে এক মঞ্চে গিটার বাজাতে দেখা গেলেও মেয়েকে নিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বাবাকে ‘বাবুই’ বলে ডাকতেন ফাইরুজ সাফরা।

বাবার স্মৃতিচারণ করে সাফরা জানিয়েছেন, মানুষ হিসেবে বাবাকে ঘরে যেমন দেখতেন, মঞ্চেও তাঁকে তেমনই আলাদা এক জগতে ডুবে যেতে দেখেছেন। ছোট্ট গিটার হাতে নিয়ে জ্যামিং করতে করতে তিনি যেন নিজের ভুবনে হারিয়ে যেতেন।

মেয়ের হাতেও গিটার তুলে দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সাফরা তখন ও লেভেলে পড়তেন। তাঁর জন্য একটি গিটার এনে দিয়ে বাবা বলেছিলেন, একদিন তিনি বাবার সঙ্গে মঞ্চে গিটার বাজাবেন। কিন্তু সেই দিন আর আসেনি।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর সন্তানদের জীবনের বড় অপূর্ণতাগুলোর একটি হয়ে থাকে বাবার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে একই মঞ্চে দাঁড়াতে না পারা।

জন্মদিনে আরও বেশি মনে পড়ে বাবাকে

সময়ের সঙ্গে সন্তানরা বড় হয়েছেন, নিজেদের সংসার গড়েছেন এবং দেশের বাইরে স্থায়ী হয়েছেন। তবুও বাবার স্মৃতি তাদের জীবন থেকে কখনো দূরে যায়নি।

১৬ আগস্ট এলেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পুরোনো গল্প উঠে আসে। ফোনে কথা বলার সময় বাবার প্রসঙ্গ উঠলে এখনও আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মা-সন্তানের কথোপকথনে ফিরে আসে আইয়ুব বাচ্চুর নানা স্মৃতি।

বাবা নেই, কিন্তু জন্মদিনে কেক কাটা এখনও বন্ধ হয়নি। তবে সেই কেকে আগের মতো উৎসবের উচ্ছ্বাস নেই। কেক কাটার পর কেউ নীরবে স্মৃতিতে ডুবে থাকেন, কারও চোখে আসে পানি। তারপর আবার সবাই ফিরে যান নিজেদের জীবনে।

গানে-গিটারে বেঁচে আছেন আইয়ুব বাচ্চু

এবারও আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করে প্রকাশিত হচ্ছে ‘উত্তরাধিকার’ শিরোনামের একটি অ্যালবাম। এতে তাঁর গাওয়া ২০টি গান নতুন সংগীতায়োজনে পরিবেশন করছেন দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড ও একক শিল্পী।

অ্যালবামে দলছুট গেয়েছে ‘রুপালি গিটার’, আরবোভাইরাস ‘নীল বেদনা’, সোনার বাংলা সার্কাস ‘গতকাল রাতে’, শুভযাত্রা ‘চলো বদলে যাই’, ক্যালিপসো ‘চাঁদ মামা’, রকসল্ট ‘অচেনা জীবন’, ডোপামিন ‘মাধবী’ এবং এ কে রাহুল গেয়েছেন ‘মন চাইলে মন’। আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান থাকছে একক শিল্পীদের কণ্ঠে। সব গানের মাস্টারিং করেছেন ইকবাল আসিফ জুয়েল।

শিল্পী চলে গেছেন, কিন্তু থামেনি তাঁর গান ও গিটারের সুর। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসছে তাঁর সৃষ্টি। ভক্তদের ভালোবাসায় তিনি আজও বেঁচে আছেন।

পরিবারের কাছে অবশ্য তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় কিংবদন্তি গায়ক বা গিটারিস্ট নয়—তিনি এখনও তাদের কাছে সেই আপন মানুষ, ‘বাবুই’।

স্বপ্ন এগিয়ে নিতে ফাউন্ডেশন

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর তাঁর স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীলতার উত্তরাধিকার ধরে রাখতে কাজ করছে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন। ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করা এই ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় গত বছরের ৯ জুলাই।

আইয়ুব বাচ্চু শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর গান, গিটার এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে। আর তাই ১৬ আগস্ট শুধু তাঁর জন্মদিন নয়—ভক্ত ও পরিবারের কাছে এটি প্রিয় এক মানুষকে নতুন করে স্মরণ করার দিন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিস্তার ভাঙনে সাত দিনে বিলীন ৩৮৬ ঘরবাড়ি

যোগফল প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি বিলীন হওয়াই নয়, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

চোখের সামনে বিলীন বসতভিটা

তিস্তার তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন আকস্মিক হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাঁচ জেলায় ভাঙনের তীব্রতা

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় গত সাত দিনে ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকাতেও শত শত পরিবার খোলা জায়গা, বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জিও ব্যাগ ফেলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনের খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, তা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

যোগফল প্রতিবেদক: 

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও তার পালিত মেয়ে ইতি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিহত খালেদা আক্তারের সঙ্গে তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলার একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম তুতুকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পরপরই অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে প্রথমে হনুফা বেগম ও ইতি গ্রেপ্তার হন।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে চলন্ত একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম