খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

মিছিলে ছিলেন না, তবু মামলায় সাংবাদিক-শিক্ষকসহ ২৩ জন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মিছিলে ছিলেন না, তবু মামলায় সাংবাদিক-শিক্ষকসহ ২৩ জন

 যোগফল প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক, যুবদল কর্মী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মীসহ অন্তত ২৩ জনকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামিদের দাবি, মিছিলের সময় তারা কেউ ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এমনকি তাদের মধ্যে একজন পবিত্র ওমরাহ পালনে মক্কায় অবস্থান করছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সীমান্ত সড়কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্যনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পরে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। এতে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় তাহিরপুর উপজেলার রতনশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের ডিজিটাল প্রতিনিধি শওকত হাসান সৈকত, বাদাঘাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাসেল আহমদ, কাদের পাশা, উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ, কলাগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক জাবের আহমদ জাবেদ এবং সিলেটের একটি এনজিওকর্মী রাজন চন্দের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া আজহারুল ইসলাম সোহাগ, হাসান মিয়া, ইকবাল, ফারুক, বিপ্লব হাসান ইমন, জুয়েল আখুঞ্জি, শাহিন মিয়া, জিয়া উদ্দিন, সাজিদ মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, মিয়া হোসেন, সেলিম ভূঁইয়া, নাজির হোসেন, শাকিল আহমদ লিজান ও লিক্সন মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের কয়েকজনের দাবি, মিছিলের সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। কেউ ব্যবসায়িক কাজে, কেউ নিজ নিজ কর্মস্থলে এবং কেউ অন্য এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একজন আসামি ওই সময় পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় ছিলেন বলেও দাবি উঠেছে।

মামলার আসামি ও তাহিরপুর উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ দাবি করেন, মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করার কারণে তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা কিছু অসৎ ব্যক্তি তাকে মামলায় জড়িয়েছেন।

বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাসেল আহমদ বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং মিছিলের সময় তিনি ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। তার দাবি, সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি স্থানীয়ভাবে কারও কারও বিরাগভাজন হয়ে থাকতে পারেন। মামলার কারণে গত কয়েক দিন ধরে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার দিন সৈকত তাহিরপুরেই ছিলেন এবং তিনি ওই দিনের ঘটনাটি নিয়ে সংবাদও করেছেন। মধ্যনগরের ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করার বিষয়টি বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবি জানান।

এদিকে তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে। তার অভিযোগ, প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, সাংবাদিক এবং মিছিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে। সেগুলো যাচাই করে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করার পরও যদি নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়ে থাকে, তা দুঃখজনক।

তবে আসামিদের নাম কীভাবে মামলায় এসেছে, সে বিষয়ে মামলার বাদী শাহাজাহান মিয়া বলেন, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সমন্বয় করে আসামিদের তালিকা থানায় দিয়েছেন। পরে তিনি মামলার বাদী হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা যথাযথভাবে যাচাই না করে এবং ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান বিবেচনায় না নিয়েই মামলা করা হয়েছে। এতে প্রকৃত জড়িতদের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, মামলার বাদী পুলিশ নন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া না গেলে পরবর্তী সময়ে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না বলেও জানান তিনি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। সব মিলিয়ে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জনে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে আরও ১ হাজার ২৩৯ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোকে হামে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। সব মিলিয়ে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জনে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে আরও ১ হাজার ২৩৯ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোকে হামে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবিতে গৃহকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে ১১ বছরের শিশুটি। শরীরজুড়ে ক্ষত, কোথাও শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। মাথায় একাধিক সেলাই, পিঠ ও দুই পায়েও গভীর ক্ষত। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে দুর্বল হয়ে পড়া শিশুটি ঠিকমতো উঠে বসতেও পারছে না।

কখনো চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। শরীরের ব্যথা যেন তার কথা বলার শক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। তার অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এক বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। সংসারে অভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান তিনি। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শিশুটির মা মারা গেছেন।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তোফাজ্জল তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সেখানে মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল।

শিশুটির অভিযোগ, ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন এবং তাঁর মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।

এ ছাড়া দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। এই দীর্ঘ সময়ে বাবার সঙ্গে একবারও কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ শিশুটির।

মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না তার বাবা। কয়েক দিন আগে শিশুটির মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে ছুটে যান বাবা। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই রেখে শিশুটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা ও চরম নির্যাতনের কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এরই মধ্যে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা করতে গতকাল রাতেই ঢাকায় গেছেন শিশুটির বাবা।