খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

অবহেলিত মাতামুহুরী এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন কেন্দ্র

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অবহেলিত মাতামুহুরী এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন কেন্দ্র

যোগফল প্রতিবেদক:

প্রকৃতি যেন তার সব সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায়। একদিকে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ, অন্যদিকে নীল জলে বাগদা চিংড়ির চাষ। এর মাঝেই ধান ও সরিষার সবুজ-সোনালি ফসলের সমারোহ। নদী, উপকূল, কৃষি, মৎস্য ও লবণ—সব মিলিয়ে মাতামুহুরী হয়ে উঠতে পারে দেশের উপকূলীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক হয়ে গড়ে ওঠা মাতামুহুরীর অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি, চিংড়ি ও মৎস্যচাষ, লবণ উৎপাদন এবং উপকূলীয় ব্যবসা। বিশেষ করে চিংড়ি চাষ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি দেশের বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদেশের বাজারেও যাচ্ছে।

জানা যায়, ষাটের দশকে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর সত্তরের দশকে লোনাপানি আটকে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। ১৯৭৬ সালে এ এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষের সূচনা হয়। পরে ১৯৭৮ সালে সরকারি জমি বন্দোবস্ত এবং ১৯৮২ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে চিংড়ি চাষ আরও বিস্তৃত হয়।

বর্তমানে মাতামুহুরীর চিংড়ি দেশের বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ দেশের লবণের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। ফলে কৃষি ও মৎস্যের পাশাপাশি লবণ শিল্পও এ অঞ্চলের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। মাতামুহুরী নদী স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস হলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নোনা পানি ঢুকে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চিংড়িঘের। এ উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব কৃষিজমি ক্রমেই নানা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

চিংড়ি চাষেও রয়েছে একাধিক সমস্যা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রোগবালাই ও মড়ক, বাজারদরের ওঠানামা, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং ঘেরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেক চাষি।

চিংড়িচাষি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, চিংড়ি চাষে মাতামুহুরীর সম্ভাবনা অনেক। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ঘেরের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে থাকতে হয়। তার অভিযোগ, কখনো কখনো দুর্বৃত্তরা ঘেরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চাষিদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চান তিনি।

সাহারবিল ইউনিয়নের কৃষক বেলাল উদ্দিন বলেন, বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নদীর বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিন বলেন, মৎস্য ও চিংড়ি খাতে মাতামুহুরীর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, চলতি লবণ মৌসুম শেষ হওয়ায় মাতামুহুরী উপজেলার লবণ উৎপাদনের তথ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। আগামী মৌসুম থেকে এ উপজেলার উৎপাদনের তথ্য আলাদাভাবে পাওয়া যাবে। তবে মাতামুহুরী পৃথক উপজেলা হওয়ার আগে পুরো চকরিয়া উপজেলায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন চকরিয়া উপজেলার ওপর প্রশাসনিকভাবে নির্ভরশীল থাকার পর মাতামুহুরী পৃথক উপজেলা হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সাত ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে যোগাযোগ, অবকাঠামো, সরকারি সেবা ও বিনিয়োগে গতি আসবে।

সচেতন মহলের মতে, শুধু প্রশাসনিক মর্যাদা পেলেই মাতামুহুরীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। কৃষি, মৎস্য ও লবণভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নদী-জলাশয় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে নদী, উপকূল, কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ মাতামুহুরী ভবিষ্যতে দেশের উপকূলীয় ব্লু ইকোনমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ

যোগফল প্রতিবেদন:

অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

মন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী বলেন, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধ (অনুসন্ধানী) সাংবাদিক তথা ক্রাইম রিপোর্টারদের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরণ বদলে এখন আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য।

মন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এগুলো গভীরভাবে সম্পর্কিত। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্য প্রদান ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ক্র্যাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে দীর্ঘ ৪৩ বছরের যাত্রায় ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি উচ্চমানের জ্ঞানভিত্তিক শাখা, যেখানে গভীর পড়াশোনা ও তথ্য-বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়।

অপরাধের মূল কারণ উদ্ঘাটনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ কেবল একটি বাহ্যিক উপসর্গ (Symptom), এর মূল কারণ (Root Cause) অনুসন্ধান করে গোড়ায় আঘাত করতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে মাদক এবং জুয়া (গ্যাম্বলিং)। তিনি আরো বলেন, অপরাধীকে সাজা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে—কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনতে পারলে সমাজ থেকে অপরাধের হার কার্যকরভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব ক্রাইম রিপোর্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হন,  সিএসআর (CSR) ফান্ডের মাধ্যমে বা অন্য কোন মাধ্যমে তাঁদের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি, পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সনদ প্রদান করা যায় কিনা, সে বিষয়েও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা যদি সমাজের প্রতি তাঁদের অর্পিত দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালন করেন, তবে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যা চায় এবং সমাজ যা আশা করে, তা বাস্তবায়নে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

অ্যাসিড অপরাধ দমনে অতীতের সফলতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে অ্যাসিড নিক্ষেপ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কঠোর আইনি কাঠামো, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং ব্যাপক সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াসে আজকে দেশে অ্যাসিড সম্পর্কিত অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একইভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূল করতেও সাংবাদিক, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন বলে তিনি এ সময় উল্লেখ করেন।

অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে আইনি কাঠামো সংস্কারের বিষয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাচীন আইনগুলোর আধুনিকায়ন আবশ্যক। তিনি বলেন, দেড়শত বছরের পুরোনো গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট (১৮৬৭) পরিবর্তন করে ডিজিটাল স্পেসে অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র মোকাবেলায় 'জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়েছে। তাছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দুর্বল আইনের ফাঁক গলে যেন অপরাধীরা পার না পেতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

বক্তারা ক্র্যাবের দীর্ঘ ৪৩ বছরের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

পরে মন্ত্রী কেকে কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।