বিয়ে করলেন বিশ্বের এক নম্বর ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট
সংগৃহীত ছবি
অবশেষে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা, দক্ষিণ আফ্রিকার লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর থিয়া বয়সেনকে বিয়ে করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইনস্টাগ্রামে বিয়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে সুখবরটি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই তারকা ইউটিউবার।
ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে জিমি ডোনাল্ডসন, যিনি ‘মিস্টার বিস্ট’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত, লিখেছেন, “আমি আমার মিসেস বিস্টকে খুঁজে পেয়েছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন ছিল আজ।” মুহূর্তেই সেই পোস্টে শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দেন কোটি কোটি ভক্ত ও সহকর্মীরা।
বিশাল বাজেটের চমকপ্রদ ভিডিও নির্মাণের জন্য পরিচিত হলেও নিজের বিয়েকে রেখেছেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে শান্ত ও ঘরোয়া পরিবেশেই সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
বিয়ের অনুষ্ঠানে থিয়া বয়সেনের পরনে ছিল আইভরি ও নুড রঙের ওপর সূক্ষ্ম ফুল ও লেসের নকশায় তৈরি দৃষ্টিনন্দন গাউন। অন্যদিকে মিস্টার বিস্ট বেছে নিয়েছিলেন সাদা টাক্সেডো জ্যাকেট, সাদা শার্ট, কালো ট্রাউজার এবং কালো বো-টাই—যা তার পরিমিত অথচ অভিজাত উপস্থিতিকে আরও ফুটিয়ে তোলে।
এই জুটির বাগদান সম্পন্ন হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পিপল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিস্টার বিস্ট জানিয়েছিলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো সুপার বোলের মতো বিশাল কোনো মঞ্চে বিয়ের প্রস্তাব দেবেন। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি যেন শুধুই তাদের দুজনের এবং পরিবারের জন্য বিশেষ হয়ে থাকে।
জিমি ও থিয়ার পরিচয়ের শুরু দক্ষিণ আফ্রিকায় এক অভিন্ন বন্ধুর মাধ্যমে। পরে এক্সে (সাবেক টুইটার) থিয়াকে বার্তা পাঠিয়ে তাঁর লেখা বই দ্য মার্কড চিলড্রেন পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন মিস্টার বিস্ট। সেখান থেকেই শুরু হয় কথোপকথন, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেমে।
এক বছর সম্পর্কের পর থিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জিমি। তবে থিয়ার পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিয়ে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘হিউম্যান কগনিটিভ নিউরোসাইকোলজি’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখেন তারা।
বিয়ের আগে এক সাক্ষাৎকারে থিয়া বলেছিলেন, “আমার মনে হয় আমরা অনেক আগেই মানসিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হয়ে গেছি। ভবিষ্যৎ, সন্তান আর বার্ধক্য পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন আমরা প্রতিনিয়ত ভাগাভাগি করি। এই বিয়ে আমাদের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ পূর্ণতা দিল।”

আপনার মতামত লিখুন