খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

হোটেল নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে রোটারি ক্লাবের অভিষেক উদ্‌যাপন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হোটেল নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে রোটারি ক্লাবের অভিষেক উদ্‌যাপন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অভিজাত হোটেলের পরিবর্তে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ৪২তম অভিষেক অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করেছে রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রাম। এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর রৌফাবাদের তিনটি প্রতিষ্ঠানের শিশুদের জন্য তিন মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ, ডায়াবেটিস মাপার মেশিন, রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রৌফাবাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু বিদ্যালয়, সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ও ছোটমণি নিবাসে ক্লাবটির ৪২তম অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

সাধারণত রোটারি ক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠান অভিজাত হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁয় আয়োজন করা হলেও এবার সেই প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে সংগঠনটি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চাহিদা জানতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানের চেয়ারম্যান পিপি রোটারিয়ান ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা বসবাস করে। তাদের শুধু অন্ন ও আশ্রয় নয়, প্রয়োজন ভালোবাসা, মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতি। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে তাদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা নয়; বরং শিশুদের জীবন ও চ্যালেঞ্জগুলো কাছ থেকে বোঝা এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য কী করা যায়, তা চিহ্নিত করা। পরিবারের সদস্য ও তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে তাদের মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে তিন প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিশুদের জন্য তিন মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস মাপার মেশিন, রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী দেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী।

প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও এ ধরনের সহযোগিতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চিকিৎসাসামগ্রীর পাশাপাশি জনবল ও পরিবহনসংকটসহ আরও কিছু চাহিদার কথা তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ও উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিষ্ঠানে একটি পুরোনো গাড়ি রয়েছে, যা সব সময় জরুরি প্রয়োজনে কাজে আসে না। ছেলে ও মেয়েশিশুদের পরিচর্যার জন্য পৃথক দুজন নার্স থাকলে সেবা কার্যক্রম আরও সহজ হতো।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান চিকিৎসকেরা যদি প্রতি সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত একবার বিনা মূল্যে শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিতেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি আরও উপকৃত হতো। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর পাশাপাশি এ ধরনের সহযোগিতা শিশুদের সুস্থতা ও স্বাভাবিক বিকাশে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য রোটারিয়ান পিপি ড. এ এফ ইমাম আলী।

তিনি বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রোটারির অন্যতম মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান পিপি জসীম উদ্দিন চৌধুরী, সহকারী কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর, আরআইডি-৬৫, বাংলাদেশ এবং চেয়ারম্যান, দৈনিক পূর্বকোণ লিমিটেড। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে রোটারির এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শিশুরা যেন অন্য শিশুদের মতো বেড়ে উঠতে পারে এবং সবার সঙ্গে মিশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বেড়ে উঠে অনেকে ভালো অবস্থানে পৌঁছেছেন। একজন চিকিৎসক বর্তমানে কক্সবাজারে কর্মরত রয়েছেন, অন্যরাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। একসময় যারা সমাজে অবহেলিত ছিল, আজ তারা নিজেদের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ অবস্থানে পৌঁছানোই আমাদের সফলতা।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত শিশুদের পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোটারি ক্লাবের এ উদ্যোগ শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় সহায়ক হবে।

চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা, পরিচর্যা ও পুনর্বাসনে কাজ করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান ফজলুল করিম চৌধুরী, আইপিপি রোটারিয়ান আফিয়া খাতুন মীরা, রোটারিয়ান সাজেদা বেগম, রোটারি ক্লাব অব চট্টগ্রাম সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন রোটারি ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, রোটারিয়ান, রোটার্যাক্ট ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও রোটারি ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে শিশুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার ভাগাভাগি করেন অতিথিরা। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে একটি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে রোটারি ক্লাব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনটির নেতারা।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পীরগঞ্জে "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পীরগঞ্জে  "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) অনুষ্ঠিত

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

মো. আরফান আলী | পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 

পীরগঞ্জে গুড নেইবারস বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ‘চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ নভেম্বর বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পীরগঞ্জে শিশুদের সূরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুড নেইবারস বাংলাদেশ, পীরগঞ্জ সিডিপির (Pirganj CDP) আয়োজনে "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বারে  প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—"শিশুর সুরক্ষা, আমাদের অঙ্গীকার"।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী সরদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেণ ঠাকূরগাঁও -৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান,  সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউর ইসলাম জিয়া, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিন্নাতারা ইয়াসমিন, প্রমুখ।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং তাদের সুরক্ষায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তা, সুধীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

ছবিতে গ্রেফতারকৃরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫)-কে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাইকগাছা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।