খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

প্রশ্নফাঁসের পর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৫৩৮৬ জন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রশ্নফাঁসের পর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৫৩৮৬ জন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পুনরায় নেওয়া বাছাই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রার্থী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (গ্রেড-১১) পদের ২৪২টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পদটির আগের নাম ছিল ক্রেডিট সুপারভাইজার। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্র এখনো ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি টেলিটকের মাধ্যমে প্রার্থীদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হবে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে কোনো প্রার্থী অনিয়ম বা অসাধু উপায় অবলম্বন করলে তার প্রার্থিতা কিংবা পরীক্ষার ফল বাতিল বলে গণ্য হবে।

এর আগে, ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর অংশগ্রহণে গত ১০ অক্টোবর বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের মিল পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। পরে নতুন প্রশ্নপত্রে ১৬ অক্টোবর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে প্রথমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়।

এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পরীক্ষার ফল দেখুন: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল ও পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইসলামী ব্যাংকের ঋণের অর্থ বিতরণে জাল নথি ব্যবহার, ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখানো এবং অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসেন।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং মানিলন্ডারিংয়ে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। তবে অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব কোনো কার্যালয়, গুদাম কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে দুদক।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ্ আলম, আরামিটের একাধিক কর্মকর্তা এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তা।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে একটি আল-ওয়াদীয়াহ চলতি হিসাব খোলা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৫ মে হিসাবটি জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়।

একই বছরের ১৫ অক্টোবর আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ওই শাখায় ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন ঋণের আবেদন করেন। ৮ নভেম্বর ব্যাংকটির ক্রেডিট কমিটির ৫১তম সভায় ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে ব্যাংকের নির্বাহী কমিটি ঋণটি অনুমোদন করে।

এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রাহকের আবেদনের পর ৫৪টি বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে মোট ২০৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ক্লাসিক ট্রেডিংকে সরবরাহকারী দেখিয়ে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের মালিক ও সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। অথচ তিনি আরামিট গ্রুপেরই একজন কর্মচারী ছিলেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি জাহাঙ্গীর আলমের নামে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি ইস্যু করা ৩০৩৯৬ নম্বর ট্রেড লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়েছিল। ওই হিসাবে তাঁর স্ত্রী শাহনাজ আক্তারকে নমিনি দেখানো হয়।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) স্টেশন রোড শাখায় খোলা ওই হিসাবের পরিচয়দানকারী ছিলেন এ আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন। হিসাব খোলার নথিতে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের নতুন চাকতাইয়ের ড্রামপট্টিতে সালেহ আহমেদ সওদাগর ভবনের নিচতলার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। তবে দুদকের অনুসন্ধানে ওই ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যালয় বা গুদাম পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেরও প্রমাণ মেলেনি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, বাস্তবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও ক্লাসিক ট্রেডিংকে সরবরাহকারী এবং আরামিট সিমেন্টকে মালামাল গ্রহণকারী হিসেবে দেখানো হয়। এরপর ক্লিংকার, জিপসাম, লাইমস্টোন ও স্ল্যাগসহ সিমেন্ট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ করে ভুয়া ও জাল ইনভয়েস তৈরি করা হয়।

এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের অর্থ ছাড়ের আবেদন করা হয়। আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ্ আলম স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল কেনার কথা উল্লেখ করে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের অনুকূলে অর্থ পরিশোধের আবেদন করেন।

প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের প্যাডে তৈরি মালামাল সরবরাহের ইনভয়েস দাখিল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে দুদক। তবে এসব নথিতে প্রকৃতপক্ষে মালামাল সরবরাহের তথ্য ছিল না বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইনভয়েস যথাযথভাবে যাচাই না করেই অফিস নোট ও প্রি-অডিট মেমো তৈরি এবং তাতে স্বাক্ষর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের নামে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়।

ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ১০ শতাংশ নগদ জামানত রাখার শর্ত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথিতে একটি ডিলের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। ওই অর্থ ইউসিবির স্টেশন রোড শাখায় ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হয়। পরে একই দিন দুটি চেকের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার ও ১ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ইউসিবির বহদ্দারহাট শাখার একটি পার্কিং হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ জমা হয় আরামিটের এক কর্মচারীর নামে খোলা ইয়াসিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের হিসাবে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২৭টি ডিলের মধ্যে ২৩টির মোট ৫৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ইউসিবির স্টেশন রোড শাখায় ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হয়। পরে ওই হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করে আইএফআইসি ব্যাংকের শাহ আমানত মার্কেট শাখায় আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের হিসাবে জমা করা হয়।

অন্য চারটি ডিলের মোট ৭ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হওয়ার পর ইনওয়ার্ড ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংকের জুবলী রোড শাখায় আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। দুদকের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য আড়াল করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আরামিট সিমেন্টের এজিএম এ কে এম মারুফ এবং হিসাব বিভাগের এজিএম ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের কথিত স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন প্রিন্সিপাল অফিসার মহিউদ্দীন, বিনিয়োগ বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ আখতার হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার ও জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল হক, বিনিয়োগ ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ আবদুল কাদের, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবদুল করিম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও বিনিয়োগ ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহ, এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ, এসভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মহসীন আলী এবং সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রিদওয়ানুল হক।

দুদকের অভিযোগ, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঋণের নথি যাচাই, অফিস নোট প্রস্তুত, বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন এবং পে-অর্ডার ইস্যুর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তবে কোন কর্মকর্তা কোন পর্যায়ে কী ভূমিকা পালন করেছেন, তা তদন্তে যাচাই করা হবে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসেন বলেন, মামলাটি দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ। এজাহারে ঋণের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে জাল কাগজপত্র ব্যবহার, ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখানো এবং অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রত্যেক আসামির সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঠাকূরগাঁও-১ আসনে উপ- নির্বাচন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঠাকূরগাঁও-১ আসনে উপ- নির্বাচন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

মো. আরফান আলী ।। ঠাকূরগাঁও

ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঠাকূরগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকালে জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশ সদস্যের হাতে নির্বাচনি সরঞ্জাম তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ঠাকূরগাঁও-১ আসনে তিনটি উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সব ভোটকেন্দ্রে আজকের মধ্যে ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম ব্যালট পেপার ব্যালট বক্সসহ প্রত্যেক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তর হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’

জেলা কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। হাতপাখা প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. খাদেমুল ইসলাম। বটগাছ প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবদুল আলীম নিজামী। ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

এবার আসনটিতে মোট ভোটার ৫,১৬,১৩৮ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৫৭,৪৭৫ জন, নারী ভোটার ২,৫৮,৬৫৯ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮ থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভোট গ্রহণ উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাহাজবাড়িতে ৯ তরুণ হত্যা মামলা: শুনানি ১৭ নভেম্বর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাহাজবাড়িতে ৯ তরুণ হত্যা মামলা: শুনানি ১৭ নভেম্বর

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে নয় তরুণকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিত ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপত্তি না থাকায় ট্রাইব্যুনাল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির কথা ছিল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া।

শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

প্রথমে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন ছিল। গত ২১ জুলাই সেখানে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানিতে মামলার ঘটনাস্থল ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নিয়ে হত্যা করা হতো। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অনেক সদস্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তাঁদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

ওই শুনানিতে আট আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গঠনের মতো উপাদান রয়েছে উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। তবে আসামিপক্ষের শুনানি চলার মধ্যেই মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। ফলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষকে নতুন করে শুনানিতে অংশ নিতে হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। পরে ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত একটি ভবনে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামের ওই অভিযানে নয় তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম