খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

অসময়ে কাটিমনের দাপট, আমের ফলন-দামে হাসি কৃষকের মুখে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অসময়ে কাটিমনের দাপট, আমের ফলন-দামে হাসি কৃষকের মুখে

 যোগফল প্রতিবেদক:

মৌসুমি আমের বাজার শেষ হয়ে গেলেও নওগাঁর সাপাহারে এখনো জমজমাট আমের বেচাকেনা। তবে এবার বাজারে রাজত্ব করছে বারোমাসি জাতের ‘কাটিমন’ আম। মৌসুমের বাইরে এমন আমের সরবরাহ দেখে যেমন অবাক হচ্ছেন স্থানীয়রা, তেমনি ভালো ফলন ও দাম পেয়ে সন্তুষ্ট চাষিরাও।

নওগাঁর আমের বাজারে আম্রপালি, নাকফজলি, হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, ল্যাংড়া ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের মৌসুম অনেক আগেই শেষ হয়েছে। সাধারণত এরপর বাজারে আমের সরবরাহ কমে গেলেও গত কয়েক বছর ধরে সেই চিত্র বদলেছে কাটিমন জাতের আমের কারণে।

সারা বছর চাষ করা যায় বলে কাটিমনকে বারোমাসি আম বলা হয়। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি স্বাদেও আলাদা হওয়ায় মৌসুমের বাইরেও এ আমের চাহিদা রয়েছে। নওগাঁর মধ্যে সাপাহার উপজেলাতেই এ জাতের আমের চাষ ও বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর) সাপাহার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভ্যানভর্তি কাটিমন আম নিয়ে কৃষকেরা বাজারে এসেছেন। সারি সারি করে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। মৌসুমের বাইরে এমন আমের বাজার দেখে স্থানীয়দের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের কাছে বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, এখনো যেন আমের ভরা মৌসুম চলছে।

সাপাহারের হরিপুর এলাকার আমচাষি মনসুর আলী বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছেন। এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি মণ আমের দাম ৮ হাজার টাকা চাইলেও ব্যবসায়ীরা সাড়ে ৬ হাজার টাকা প্রস্তাব দিচ্ছেন। ৭ হাজার টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন। আমের মান ও প্রকারভেদে দাম কমবেশি হচ্ছে।

বালুকাডাঙ্গার চাষি রেজাউল ও সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ সময়ে অন্যান্য জাতের আম বাজারে না থাকায় কাটিমনের চাহিদা বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। আগামীতে এ জাতের আমের চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

কাটিমন আম কিনতে আসা স্থানীয় ভোক্তা প্রদীপ বলেন, এ সময় আগে কখনো এত আমের বাজার দেখেননি। চোখের সামনে সুন্দর আম দেখে বাড়ির জন্য কিনেছেন তিনি। একই কথা জানান ক্রেতা নয়ন ও সিরাজ। তাদের মতে, বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে এখনো আমের মৌসুম চলছে।

গোয়ালা ইউনিয়নের সারোগডাঙ্গা এলাকার চাষি হাফিজুর রহমান ১৬ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি মণ আম প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এখনো গাছে মুকুল রয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত আম পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

হাফিজুর রহমান জানান, ২০১৯ সালে অনুপ্রেরণামূলক একটি ভিডিও দেখে কাটিমন আম চাষে আগ্রহী হন। ২০২১ সাল থেকে তার বাগানে ফলন শুরু হয়। বারোমাসি হওয়ায় তার বাগানে সারা বছর ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।

নিশ্চিন্তপুর এলাকার চাষি নাসির উদ্দিনও ২০১৯ সালে কাটিমনের চারা লাগান। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা এই চাষে সফলতা পান ২০২১ সালে। গত বছর ১৫ বিঘা জমিতে চাষ করলেও এবার তা বাড়িয়ে ৩৭ বিঘা করেছেন তিনি। তার বাগানে নয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমানে বাজারে আমের মানভেদে প্রতি মণ ৬ হাজার ৩০০ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে।

টেংরা কুড়ি গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন ৬০ বিঘা জমিতে কাটিমন আমের বাগান করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণ, কখনো ৩০ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত ফলন হয়। বর্তমানে প্রতি মণ আম ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এবার তার বাগান থেকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগে অফ সিজনে কাটিমন আমের এত বড় বাজার দেখা যায়নি। এবার সরবরাহ বেড়েছে। বাজারে অন্য জাতের আম না থাকায় কাটিমনের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আগামীতে আরও কৃষক এ জাতের আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাপলা খাতুন বলেন, বর্তমানে উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কাটিমন আম চাষ হচ্ছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ৯৭ হেক্টর। ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, সাপাহারের পাশাপাশি পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রাণীনগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাটিমন আমের চাষ হচ্ছে। চলতি বছর জেলায় মোট ২৫৫ হেক্টর জমিতে এ জাতের আম চাষ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১৯০ হেক্টর।

তিনি জানান, অন্যান্য জাতের আম সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে পরিপক্ব হলেও কাটিমনের বিশেষত্ব হলো কৃষকেরা বছরে দুই থেকে তিনবার নিজেদের সুবিধামতো এ আম উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারেন। নওগাঁ থেকে এ আম দেশের বিভিন্ন সুপারশপের পাশাপাশি বিদেশেও যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কাটিমন আমের হেক্টরপ্রতি ফলন ১২ থেকে ১৫ টন হতে পারে। ২৫৫ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬০ থেকে ৩ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতি কেজি আম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। গড় মূল্য ১৮০ টাকা হিসেবে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, কাটিমন আম সারা বছর চাষ করা যায় এবং এতে কৃষকেরা ভালো লাভও পাচ্ছেন। এ কারণে গত বছরের তুলনায় এবার এ জাতের আমের চাষ বেড়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

নওগাঁয় মোট আমবাগানের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর। মৌসুমি জাতের আমের বাজার জুনের মধ্যেই অনেকটা শেষ হয়ে গেলেও কাটিমনের কারণে এবার অফ সিজনেও জেলার বাজারে আমের সরবরাহ ও বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

চু/রি/র বিরোধে কৃষককে পি/টি/য়ে হ/ত্যা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চু/রি/র বিরোধে কৃষককে পি/টি/য়ে হ/ত্যা
নোয়াখালী প্রতিনিধি | যোগফল অনলাইন 

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হুমায়ন কবির (৬০) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার ২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত হুমায়ন কবির কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তার বাড়ি সোনাগাজীতে হলেও তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।

নিহতের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, তারা সোনাগাজীর চরচান্দিয়া গ্রামে বসবাস করলেও তাদের ভোটার ও অন্যান্য কার্যক্রম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। প্রায় ১৫-১৬ দিন আগে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের জিন্না মাঝি বাড়ির মো. ইলিয়াছের (৫৫) ছেলে নূর আমিনের (৩০) পাম্প মেশিন ভাড়া নিয়ে তাদের একটি পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হয়। ওই সময় নূর আমিন তাদের তেল ও মাছ চুরি করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল হক দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকেলে তার বাবা প্রতিবেশী আব্দুস ছাত্তারের সঙ্গে দাড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ইলিয়াছ ভুল বুঝে মনে করেন, তার বাবা তাদের নিয়ে কথা বলছেন। তাৎক্ষণিক ইলিয়াছ তার দুই ছেলে নূর আমিন ও শুক্কুরকে ফোন করে সেখানে ডেকে আনেন। পরে তারা কয়েকজন মিলে লোহার রড, ধারালো কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার বাবার ওপর হামলা চালান।

মিজানুর রহমানের অভিযোগ, হামলাকারীদের একজন লোহার রড দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। আরেকজন ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি সরে যান। এতে তার মুখের বাম পাশে ও বাম চোখের নিচে দুটি স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তার পকেটে থাকা মহিষ বিক্রির বায়না বাবদ ১৫ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি ও বমি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তাকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনাটি ফেনীর সোনাগাজী থানার আওতাধীন এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি সেখানকার পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনিও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পীরগঞ্জে "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পীরগঞ্জে  "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) অনুষ্ঠিত

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

মো. আরফান আলী | পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 

পীরগঞ্জে গুড নেইবারস বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ‘চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ নভেম্বর বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পীরগঞ্জে শিশুদের সূরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুড নেইবারস বাংলাদেশ, পীরগঞ্জ সিডিপির (Pirganj CDP) আয়োজনে "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বারে  প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—"শিশুর সুরক্ষা, আমাদের অঙ্গীকার"।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী সরদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেণ ঠাকূরগাঁও -৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান,  সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউর ইসলাম জিয়া, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিন্নাতারা ইয়াসমিন, প্রমুখ।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং তাদের সুরক্ষায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তা, সুধীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

ছবিতে গ্রেফতারকৃরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫)-কে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাইকগাছা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।