খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

এনজো ফার্নান্দেজের দলবদলে নতুন রেকর্ড, প্রিমিয়ার লিগে টাকার ঝড়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এনজো ফার্নান্দেজের দলবদলে নতুন রেকর্ড, প্রিমিয়ার লিগে টাকার ঝড়

 যোগফল প্রতিবেদক:

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ফুটবল লিগে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে মোট ১ হাজার ৪৩৭টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে খেলোয়াড় কিনতে ক্লাবগুলোর খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫০ কোটি পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ লাখ ৭ হাজার ৭৪২ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টায় শেষ হয়েছে ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়সীমা। আর্থিক হিসাবে এবারও সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। তাদের মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ কোটি পাউন্ডে, যা লিগটির ইতিহাসে এক মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নতুন রেকর্ড।

শেষ দিনে এভারটন থেকে সেনেগালিজ উইঙ্গার ইলিমান এনদিয়ায়েকে ৬ কোটি পাউন্ডে দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার সিটি। তার দলবদলের পরই প্রিমিয়ার লিগের মোট খরচ গত মৌসুমের ৩১৪ কোটি পাউন্ডের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। গতবারই প্রথমবারের মতো দলবদলে ৩০০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ করেছিল লিগটির ক্লাবগুলো।

তবে শেষ দিনের সবচেয়ে বড় চমক আসে এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে। চেলসি থেকে আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারকে ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে দলে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭১ কোটি টাকা।

এই দলবদলের মাধ্যমে ব্রিটিশ ফুটবলে সবচেয়ে দামি চুক্তির রেকর্ডে যৌথভাবে উঠে এসেছেন ফার্নান্দেজ। গত মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষ দিনে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে একই দামে আলেকসান্দার ইসাককে কিনেছিল লিভারপুল।

অথচ ২০২৩ সালে বেনফিকা থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ রেকর্ড ১০ কোটি ৭ লাখ পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দিয়েছিলেন ফার্নান্দেজ। এবার সেই রেকর্ডের সমান দামে আবারও দলবদল করলেন তিনি।

শেষ দিনেও রেকর্ড খরচ

দলবদলের শেষ দিনেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো খেলোয়াড় কেনায় খরচ করেছে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। গত মৌসুমের শেষ দিনে খরচ হয়েছিল ৩৯ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ শেষ দিনের ব্যয়েও আগের মৌসুমকে ছাড়িয়ে গেছে ইংলিশ ক্লাবগুলো।

ফুটবলট্রান্সফার্স ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা পল ম্যাকডোনাল্ডের মতে, মাত্র পাঁচ বছর আগে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সম্মিলিত খরচ ছিল ১১৩ কোটি পাউন্ড। এবার সেই অঙ্ক কয়েক গুণ বেড়েছে।

এবারের দলবদলে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি চুক্তির তিনটিই হয়েছে প্রিমিয়ার লিগে। শুধু তাই নয়, লিগটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচটি চুক্তির চারটিই সম্পন্ন হয়েছে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে।

ফার্নান্দেজের ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের চুক্তির আগে ম্যানচেস্টার সিটি ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে নটিংহাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নেয়। অ্যাস্টন ভিলা থেকে ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে মরগান রজার্সকে কিনেছে চেলসি।

এদিকে পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে নিতে লিভারপুল খরচ করেছে ১০ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে এই চুক্তির মূল্য বেড়ে ১২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

প্রিমিয়ার লিগের বাইরে বড় খরচ কম

প্রিমিয়ার লিগের বাইরে ৬ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের দলবদল হয়েছে মাত্র দুটি। এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদে ইয়ান দিওমান্দের যোগদান এবং নিউক্যাসল থেকে বার্সেলোনায় অ্যান্টনি গর্ডনের দলবদল রয়েছে।

এবারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ২০টি দলবদলের মধ্যে মাত্র ছয়টি হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের বাইরে। এমনকি প্রিমিয়ার লিগে ওঠা ইপসউইচ টাউন খেলোয়াড় কেনায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে, তা বার্সেলোনা, এসি মিলান, জুভেন্টাস ও বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মতো ক্লাবগুলোর চেয়েও বেশি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, এবার অন্তত ১০ কোটি ইউরো মূল্যে ছয়জন খেলোয়াড় বিক্রি হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। বাকি একজন ইয়ান দিওমান্দে, যিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৭-১৮, ২০১৯-২০ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমে সর্বোচ্চ তিনজন করে খেলোয়াড়কে ১০ কোটি ইউরো বা তার বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছিল।

খরচে সবার ওপরে ম্যানচেস্টার সিটি

এবারের দলবদলে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এনজো ফার্নান্দেজকে দলে ভেড়ানোর পর তাদের মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে।

এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাবের দলবদলে এত বেশি অর্থ খরচের নজির আগে ছিল না। গত গ্রীষ্মে লিভারপুলের করা ৪১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের রেকর্ড এবার ভেঙে দিয়েছে সিটি।

তবে খেলোয়াড় কেনায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বিক্রি থেকেও বড় অঙ্কের আয় করেছে ক্লাবটি। খেলোয়াড় বিক্রি করে তাদের আয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড।

খরচের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চেলসি। খেলোয়াড় কিনতে ক্লাবটি ব্যয় করেছে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। বিপরীতে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ৩৮ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। ফলে দলবদল শেষে চেলসির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে টটেনহাম হটস্পার। খেলোয়াড় কিনতে ক্লাবটির মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ২ লাখ পাউন্ড।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবিতে গৃহকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে ১১ বছরের শিশুটি। শরীরজুড়ে ক্ষত, কোথাও শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। মাথায় একাধিক সেলাই, পিঠ ও দুই পায়েও গভীর ক্ষত। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে দুর্বল হয়ে পড়া শিশুটি ঠিকমতো উঠে বসতেও পারছে না।

কখনো চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। শরীরের ব্যথা যেন তার কথা বলার শক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। তার অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এক বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। সংসারে অভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান তিনি। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শিশুটির মা মারা গেছেন।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তোফাজ্জল তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সেখানে মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল।

শিশুটির অভিযোগ, ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন এবং তাঁর মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।

এ ছাড়া দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। এই দীর্ঘ সময়ে বাবার সঙ্গে একবারও কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ শিশুটির।

মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না তার বাবা। কয়েক দিন আগে শিশুটির মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে ছুটে যান বাবা। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই রেখে শিশুটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা ও চরম নির্যাতনের কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এরই মধ্যে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা করতে গতকাল রাতেই ঢাকায় গেছেন শিশুটির বাবা।

গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবিতে গৃহকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে ১১ বছরের শিশুটি। শরীরজুড়ে ক্ষত, কোথাও শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। মাথায় একাধিক সেলাই, পিঠ ও দুই পায়েও গভীর ক্ষত। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে দুর্বল হয়ে পড়া শিশুটি ঠিকমতো উঠে বসতেও পারছে না।

কখনো চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। শরীরের ব্যথা যেন তার কথা বলার শক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। তার অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এক বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। সংসারে অভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান তিনি। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শিশুটির মা মারা গেছেন।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তোফাজ্জল তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সেখানে মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল।

শিশুটির অভিযোগ, ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন এবং তাঁর মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।

এ ছাড়া দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। এই দীর্ঘ সময়ে বাবার সঙ্গে একবারও কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ শিশুটির।

মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না তার বাবা। কয়েক দিন আগে শিশুটির মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে ছুটে যান বাবা। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই রেখে শিশুটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা ও চরম নির্যাতনের কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এরই মধ্যে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা করতে গতকাল রাতেই ঢাকায় গেছেন শিশুটির বাবা।

জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

ছবি সংগৃহীত

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের পরিবারের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের মেয়ের জামাই ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামে পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনার পর রাতে থানায় মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামের আনোয়ার উল্লার দুই ছেলে মজিব উল্যার ও প্রয়াত শরিফ উল্যার পরিবারের মধ্যে বাড়ির জমিজমা নিয়ে বিরোধে চলছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিরোধীয় জায়গায় ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। এ সময় মজিব উল্লার মেয়ে শারমিনের চোখে আঘাত করেন প্রয়াত শরিফ উল্লার ছেলেমেয়েরা। খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে পাশের গোপালপুর ইউনিয়েনের রসূরপুর গ্রাম থেকে শারমিনের স্বামী মো.ইস্রাফিল লোকজন নিয়ে চাচা শ্বশুর শরিফ উল্লার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। হামলার সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে হামলাকারীদের দুইজনের হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মুখোশধারী ছিলেন। এ সময় অস্ত্রধারীরা শরিফ উল্লার পরিবারের নারী পুরুষ সদস্যদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। তারা শরিফ উল্লার বসতঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর চালান।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় শরিফ উল্যার ছোট ছেলে মোবারক উল্যাহ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইস্রাফিল, তার বাবা তোফায়েল আহমেদ ও শ্বশুর মজিব উল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার ও মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।