খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

যোগফল প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে শক্তিশালী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ঘরে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সমন্বিত ও শেয়ারড ফাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা ‘ফিক্সড ব্রডব্যান্ড: ফিউচার অব বাংলাদেশ’-এ এসব কথা উঠে আসে।

কর্মশালায় টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্রডব্যান্ড শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের ভবিষ্যৎ, পুরোনো নীতিমালা সংস্কার, ফাইবার অবকাঠামোর নিরাপত্তা, স্থানীয় বিনিয়োগের সুরক্ষা, ইন্টারনেটের গতি ও মূল্য এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

ফাইভ-জির জন্য ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি

তথ্যপ্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ফাইভ-জি টাওয়ারের পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি টাওয়ারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ প্রয়োজন। শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক ছাড়া ফাইভ-জির শতভাগ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শুধু বাসাবাড়িতে নয়, মোবাইল নেটওয়ার্কের অবকাঠামোতেও শক্তিশালী ফাইবার সংযোগ পৌঁছে দিতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা ক্রমেই বেশি ডেটানির্ভর হয়ে উঠছে।

সুমন সাবিরের মতে, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি বাসাবাড়িতে আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার পৌঁছে দেওয়া কোনো একক ছোট আইএসপির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সর্বজনীন ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

ডিজিটাল সেবায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

কর্মশালায় ফাইবারনির্ভর ডিজিটাল সেবার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মত দেন সুমন সাবির।

তার মতে, শুধু ফাইবার অবকাঠামো তৈরি করলেই ডিজিটাল বিপ্লব সম্পূর্ণ হবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল সেবা। দেশীয় মেধা ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসির মাধ্যমে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করলে দেশের ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়—এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। বিদ্যমান সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার ও কার্যকর নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

দুই দশক পর নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজন

ফাইবার অ্যাট হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের আইএলডিটিএস নীতিমালার প্রায় দুই দশক পর নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা প্রণয়নে শিল্পের বাস্তবতা, অংশীজনদের মতামত ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আইটি ও টেলিকম খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও বাড়বে বলেও মত দেন তিনি।

বিনিয়োগের সুরক্ষায় প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতি

মইনুল সিদ্দিকী বলেন, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর কার্যকর থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে অবকাঠামো সুরক্ষায় এখনো প্রয়োজনীয় নীতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।

তার মতে, একই এলাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বারবার নতুন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হলে ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করবে, কোথায় অবকাঠামো ভাগাভাগি করা হবে এবং বিনিয়োগ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সমান সুযোগের দাবি

বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও টেলিযোগাযোগ খাতের লাভজনক অংশে স্থানীয় ও দেশীয় কোম্পানিগুলোকেও সমান সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন মইনুল সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করে অবকাঠামো ও দক্ষতা তৈরি করেছেন। তাই টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

কম দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেট বড় চ্যালেঞ্জ

কর্মশালায় দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও উঠে আসে। মইনুল সিদ্দিকী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে একজন ব্রডব্যান্ড গ্রাহক থেকে মাসে ৩০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত রাজস্ব পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে তা ৫ থেকে ১০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এই সীমিত আয়ের মধ্যেই নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের উচ্চগতির ইন্টারনেট দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি ঘরে ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া শুধু প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ।

ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোয় ডিজিটাল ভবিষ্যৎ

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক, পরিকল্পিত অবকাঠামো, কার্যকর নীতিমালা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তাদের মতে, শক্তিশালী ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশের আগামী দিনের ফাইভ-জি, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। ছবি যোগফল

মো: সজিব | শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় পান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কেউ গেট খুলতে না আসায় একপর্যায়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
ভেতরে গিয়ে কোনো চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাননি বলে জানান তিনি। তবে চারজন স্বাস্থ্য সহকারীকে সেখানে বসে গল্প-আড্ডা দিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন এমপি।
রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “হাসপাতালের গেট দেখে মনে হয়েছে, এই তালা কত বছর আগে লাগানো হয়েছে! তালাটিতে একেবারে মরিচা ধরে গেছে। অনেক সময় অপেক্ষা করে একপাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিকেল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে বসে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “গাজীপুর ইউনিয়ন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপজেলা শহর কিংবা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইনস্পেক্টর হাসান আল মামুন বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের চাবি ভুলবশত বাড়িতে রেখে আসছি।”
অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও নেই। কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। হঠাৎ করে এমপি সেখানে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।”
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় নিয়মিত কার্যক্রম ও জনবল সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক