খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কৃষি-মৎস্যে আধুনিকায়নে মার্কিন সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কৃষি-মৎস্যে আধুনিকায়নে মার্কিন সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের নির্বাহী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ সহযোগিতা চান। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এমপিও উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাটি, আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থান কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগাতে পারলে দেশের কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব।

সয়াবিন চাষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের চর ও দ্বীপাঞ্চলে সয়াবিনের আবাদ সম্প্রসারণ করে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন। একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নতমানের ঘাস উৎপাদন, পশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, কৃষক ও ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কৃষিতে কীটনাশকের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে একটি সার্টিফায়েড অর্গানিক ফার্ম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (USDA) সার্টিফিকেশন পাওয়া অর্গানিক খাদ্য রপ্তানির লক্ষ্য নিয়েও সরকার কাজ করছে।

মতবিনিময় সভায় ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে এবং এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত বলেও জানান।

প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এবং মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য বাংলাদেশের বাজারে আরও সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিম লিড খবিবুর রহমানসহ কাউন্সিলের অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএ’র সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএ’র সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

ছবিতে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম

যোগফল প্রতিবেদন :

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আইএইএ’র সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আইএইএ’র সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ’র কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সুফল পেয়ে আসছে। সম্প্রতি ২০২৬-২০৩২ মেয়াদের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষর হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইউনিট-১ এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বৈঠকে ক্যানসার চিকিৎসায় আইএইএ’র ‘Rays of Hope: Cancer Care for All’ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচি হিসেবে এটি বাস্তবায়নে আইএইএ’র সঙ্গে কাজ করছে।

এর আওতায় একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ক্যানসার চিকিৎসায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইএইএ’র কারিগরি সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

মন্ত্রী জানান, নভেম্বর ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় IAEA–WHO–IMPACT Review Mission-এর দিকে বাংলাদেশ আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। এ মিশনের মাধ্যমে দেশের জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন এবং চিকিৎসাব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কাজে লাগাতে হবে।

এ ছাড়া তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ ও যৌথ গবেষণার সুযোগ বাড়াতে আইএইএ’র সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, ভিয়েনায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


প্রকল্পে বিলম্ব নয়, নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রকল্পে বিলম্ব নয়, নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

যোগফল প্রতিবেদন:

চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের ডিপিপি দ্রুত প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন চলমান ও ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, দ্রুত কাজ শেষ করা এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে কাজের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সাধারণ সিভিল ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে কোনো ধরনের বিলম্ব বরদাশত করা হবে না বলে জানান। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সাধারণ অবকাঠামোগত সব কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্ট সুবিধা বাড়ানো, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত ‘মডেল থানা’য় রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রোটোটাইপ ডিজাইন অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহন সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। সরকারের বর্তমান মেয়াদের বাকি চার থেকে সাড়ে চার বছরে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’-এর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে সভায় জানানো হয়। এ লক্ষ্যে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’-এর অঙ্গীকারের আলোকে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)-এর ‘৩আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীনস্থ ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জে বাড়ছে এইচআইভি শনাক্ত, ৮ মাসে আক্রান্ত ৮ জন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কিশোরগঞ্জে বাড়ছে এইচআইভি শনাক্ত, ৮ মাসে আক্রান্ত ৮ জন

প্রতিকী ছবি

যোগফল প্রতিবেদন:

কিশোরগঞ্জে বাড়ছে এইচআইভি শনাক্তের সংখ্যা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলার ৮ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের সবাই পুরুষ এবং তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তকরণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ বছর ৮ মাসে কিশোরগঞ্জে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের আগপর্যন্ত জেলায় এইচআইভি শনাক্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনাক্ত হওয়া ২৫ জনের মধ্যে ২২ জন বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এবং ৩ জন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের ৮ জনের মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় ৫ জন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় ৩ জন শনাক্ত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, যাঁদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই যানবাহনের চালক, হকার ও নেশায় আসক্ত ব্যক্তি। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২৫ জনের মধ্যে দুজন বর্তমানে চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন। পরে জানা গেছে, তাঁরা প্রবাসে চলে গেছেন। অন্যরা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) নিচ্ছেন। এই চিকিৎসাপদ্ধতি এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন সাইদুর রহমান ১০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার এইচআইভি শনাক্তের চিত্রকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কর্মসূচি ও পরীক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিকারে করণীয় নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন তিনি।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির প্রতিবেদনে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং ওই প্রতিবেদন থেকেই কিশোরগঞ্জে এইচআইভি শনাক্তের তথ্য জানতে পেরেছেন। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবনযাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে এইডসে মারা গেছেন ২১৯ জন।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক । বার্তা বিভাগ