খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা, ধাক্কায় পর্যটন ব্যবসা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা, ধাক্কায় পর্যটন ব্যবসা

 দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক, হোটেল-রিসোর্ট মালিক, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন শিল্প।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত কুয়াকাটায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন ঘটে। তবে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের স্বাভাবিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রায় দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল, শতাধিক রেস্তোরাঁ এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে অনেক প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কুয়াকাটার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পর্যটক অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, এমনকি বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে হোটেল বুকিং বাতিলের ঘটনাও ঘটছে।

হোটেল খান প্যালেসের পরিচালক সাকুর জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৫ বার বিদ্যুৎ চলে গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালাতে হয়েছে, এতে জ্বালানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের অভিযোগও বাড়ছে।

রাখাইন মার্কেটের রুচিতা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক আবু বকর বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। শুধু একদিন ব্যবসা সচল রাখতে প্রায় ৩০ লিটার ডিজেল খরচ করে জেনারেটর চালাতে হয়েছে। পুরো রাতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে, যা একটি পর্যটনকেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক রিফাত বলেন, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না। গরমের মধ্যে হোটেলে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় পরিচালিত কুয়াকাটা সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুয়াকাটা পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এলাকাটির দৈনিক চাহিদা ১১ থেকে ১২ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।

কুয়াকাটা বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম মোস্তফা আমিনুর রাশেদ বলেন, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটার জন্য আলাদা কোনো বিদ্যুৎ বরাদ্দ বা বিশেষ বাজেট নেই। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটনকেন্দ্রটির গুরুত্ব বিবেচনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। ছবি যোগফল

মো: সজিব | শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় পান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কেউ গেট খুলতে না আসায় একপর্যায়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
ভেতরে গিয়ে কোনো চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাননি বলে জানান তিনি। তবে চারজন স্বাস্থ্য সহকারীকে সেখানে বসে গল্প-আড্ডা দিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন এমপি।
রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “হাসপাতালের গেট দেখে মনে হয়েছে, এই তালা কত বছর আগে লাগানো হয়েছে! তালাটিতে একেবারে মরিচা ধরে গেছে। অনেক সময় অপেক্ষা করে একপাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিকেল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে বসে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “গাজীপুর ইউনিয়ন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপজেলা শহর কিংবা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইনস্পেক্টর হাসান আল মামুন বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের চাবি ভুলবশত বাড়িতে রেখে আসছি।”
অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও নেই। কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। হঠাৎ করে এমপি সেখানে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।”
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় নিয়মিত কার্যক্রম ও জনবল সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক